বৃহস্পতিবার । ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ । ১লা মাঘ, ১৪৩২

স্ত্রী শ্যালক ও পরিচিতদের অনুদানে খুলনার প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয়!

নিজস্ব প্রতি‌বেদক

নিজস্ব আয়ের বাইরে ভাই, বোন, সন্তান, শ্যালকের কাছ থেকে ধার ও অনুদান নিয়ে নির্বাচনী ব্যয় মেটানোর পরিকল্পনা করছেন খুলনার সংসদ সদস্য প্রার্থীরা। দলগতভাবে জামায়াত তাদের প্রার্থীদের ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদান দিবে। মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহের জন্য অর্থ প্রাপ্তির উৎস বিবরণীতে (ফরম-২০) প্রার্থীরা এসব তথ্য দিয়েছেন।

তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নির্বাচনে সবচেয়ে কম ব্যয়ের পরিকল্পনা করছেন খুলনা-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল। তিনি মাত্র ১৪ লাখ টাকা খরচ করবেন বলে তথ্য দিয়েছেন। তার অর্থের উৎস ব্যবসা। ওই আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাহফুজুর রহমান ২০ লাখ টাকা খরচ করবেন। এর মধ্যে নিজের জমা করা অর্থ থেকে ৫ লাখ টাকা। এছাড়া শ্যালক ২ লাখ, ভায়রা ভাই ৪ লাখ, অন্য ৪ ভাই ৫ লাখ এবং জামায়াতের ৩ নেতা ৩ লাখ টাকা স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে দান করবেন।

সর্বোচ্চ ব্যয়ের পরিকল্পনা খুলনা-৫ আসনের প্রার্থী আলী আজগর লবীর। তিনিও নিজ ব্যবসার ৩৯ লাখ ৭৭ হাজার টাকা নির্বাচনে ব্যয় করবেন। ওই আসনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ব্যয় করবেন ৩০ লাখ টাকা। এর মধ্যে জামায়াত অনুদান দেবে ১৫ লাখ, নিজের ব্যবসা থেকে ২ লাখ, তার ৩ ভাই ও এক বোন স্বেচ্ছায় দান করবেন ৫ লাখ এবং আরও ৫ ব্যক্তি তাকে ৮ লাখ টাকা অনুদান দিবেন।

প্রার্থীদের মধ্যে স্ত্রী ভাগ্য ভালো খুলনা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। নির্বাচনে তিনি ২৬ লাখ টাকা খরচের পরিকল্পনা জমা দিয়েছেন। তার স্ত্রী আইনজীবী সৈয়দা সাবিহা দিবেন ১০ লাখ টাকা। গাড়ি ভাড়া থেকে প্রাপ্ত আয় থেকে ৮ লাখ এবং বিএনপি নেতা জলিল খান কালাম তাকে ৮ লাখ টাকা দিবেন।

ওই আসনের জামায়াত প্রার্থী ২৫ লাখ টাকা ব্যয় করবেন। এর মধ্যে নিজের আইন পেশা থেকে ১০ লাখ, স্বেচ্ছাপ্রণোদিত দান স্ত্রী, ভাই ও বোনের কাছ থেকে ৩ লাখ, আরও ৫ ব্যক্তি ৭ লাখ এবং জামায়াত নিজস্ব তহবিল থেকে দেবে ৫ লাখ টাকা।

খুলনা-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল নিজের ব্যবসা ও সম্মানী থেকে ১০ লাখ এবং ভাই ও ভাতিজাদের কাছ থেকে ১১ লাখ টাকা অনুদান নিবেন। ওই আসনের জামায়াতের প্রার্থী কবিরুল ইসলাম নির্বাচনে ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা করছেন। এর মধ্যে জামায়াত অনুদান দেবে ১৫ লাখ টাকা, নিজস্ব তহবিল থেকে দুই লাখ টাকা এবং ভাই-ভাতিজারা মিলে আরও ১৫ লাখ টাকা দিবে।

খুলনা-১ আসনে বিএনপি প্রার্থী আমীর এজাজ খান ২৫ লাখ টাকা ব্যয় করবেন। এর মধ্যে নিজস্ব তহবিল থেকে ১০ লাখ, ভাই ও বোনেরা ৫ লাখ, আরেক আত্মীয় ২ লাখ টাকা অনুদান দিবেন। ভায়রা ভাইয়ের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা এবং খায়রুল নামের আরেক ব্যক্তির কাছ থেকে ৩ লাখ ধার হিসেবে নিবেন।

ওই আসনে জামায়াতের প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী ২০ লাখ টাকা ব্যয় করবেন। জামায়াত তাকে অনুদান দেবে ৫ লাখ টাকা। বাকি টাকা নিজের ব্যবসা, ভাই ও ছেলের কাছ থেকে নিচ্ছেন।

খুলনা-৬ আসনে বিএনপি প্রার্থী নিজের ব্যবসা থেকেই ২৫ লাখ টাকা ব্যয় করবেন। জামায়াতের প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ সাড়ে ১৫ লাখ খরচ করবেন। নিজের ব্যবসা থেকে ৫ এবং জামায়াত ৫ লাখ টাকা অনুদান দিবে। তিনি স্ত্রী, ছেলে ও ভাই এবং দুই অনাত্মীয় কাছ থেকে আরও সাড়ে ৪ লাখ টাকা অনুদান নিবেন। ভাই আইনজীবী লস্কর শাহ আলমের কাছ থেকে ধার নিবেন আরও এক লাখ টাকা।

সচেতন নাগরিক কমিটির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট কুদরত ই খুদা বলেন, প্রার্থীরা যে পরিকল্পনা জমা দেন, বেশিরভাগ সময় তা শুধু কাগজে কলমে সীমাবদ্ধ থাকে। বাস্তবে ব্যয় হয় অনেক বেশি। এবছর একটি পরিবর্তনের আবহাওয়া চলছে। নির্বাচন কমিশনকে উৎস ও ব্যয়ের পরিকল্পনা জমা নিয়েই দায়িত্ব শেষ করলে হবে না। এগুলো যেন সঠিকভাবে পালন হয় তা নজর দারি করতে হবে।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন