বুধবার । ১৪ই জানুয়ারি, ২০২৬ । ৩০শে পৌষ, ১৪৩২

আমনের ভালো ফলনেও হতাশ কৃষক

মাহমুদুল ফিরোজ বাবুল, শ্যামনগর

শ্যামনগর উপজেলাজুড়ে লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে বেশি আমন ধান উৎপাদিত হয়েছে। ধান কেটে মাড়াই করে কৃষকরা সোনালি ধান ঘরে তুলেছেন। কিন্তু হাসি নেই কৃষকদের মুখে। ধানের দাম কমে যাওয়ায় কৃষকের এখন মাথায় হাত। এতে কৃষকদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, “এবছর শ্যামনগর উপজেলায় আমনের আবাদ হয়েছে ১৬ হাজার ৮শ’ পঁয়ত্রিশ হেক্টর জমিতে। যা গতবারের তুলনায় ৩৫ হেক্টর এরিয়া বেশি। ফলন হয়েছে প্রায় ২২ লাখ ৬৪ হাজার ৮৬৭ মণ ধান। সরকারিভাবে ধানের মূল্য নির্ধারণ হয়েছে মণ প্রতি ১৩৬০ টাকা। কিন্তু খোলা বাজারে এর তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি।

এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাজারে মোটা ধান মনপ্রতি বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১১০০-১১৫০ টাকা, আর চিকন ধান ১১৫০-১২০০ টাকা দরে। মৌসুমের শুরুতে সার, বীজ, কীটনাশকের অতিরিক্ত দাম কৃষকদের চাপে ফেলেছিল। এখন ধানের দাম কমে যাওয়ায় তাদের উৎপাদন ব্যয় ওঠানো দায় হয়ে গেছে।

শ্যামনগর পৌরসভার কৃষক শেখ আব্দুল আজিজ বলেন, সার ও অন্যান্য উপকরণ কিনতেই হিমশিম খেতে হয়েছে। সার ও বিষের দোকান থেকে ধার করে মালামাল নিয়েছিলাম। এখন দোকান মালিক টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দিচ্ছে। কিন্তু ধানের যে দাম তাতে এখন ধান বিক্রি করলে পুরো লোকসান হয়ে যাবে।

উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের কৃষক গনেষ কুমার মন্ডল বলেন, গত বছর বিচুলির দাম ভালো ছিলো কিন্তু এ বছর দাম কম। খোরাকি ধান রেখে অন্য বছর উদ্বৃত্ত ধান বিক্রি করে দেই, কিন্তু এ বছর দাম কম থাকায় ধান বিক্রি করতে পারছি না।

বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের কৃষক আবু দাউদ জানান, সরকার বিকল্প ব্যবস্থা না করেই পাইপ উঠিয়ে দিয়েছে। নোনাপানির অভাবে আমরা বাগদা চিংড়ি ও কাঁকড়া চাষ করতে পারছি না। এজন্য অনেক কৃষক ধান চাষের দিকে ঝুঁকছে। কিন্তু ধানের যে দাম তাতে ধান চাষ করলেও নিশ্চিত লস। অথচ প্রতি বছর জমির লিজের খরচ এবং মজুরি খরচ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে কি করবেন কৃষকরা তা নিয়ে পড়েছেন দ্বিধা দ্বন্দ্বে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ধান চাষ এবং বাগদা চিংড়ি চাষের মধ্যে সমন্বয় করাটা খুবই জরুরি। যে এলাকায় ধান চাষের উপযোগী, সেখানে ধান এবং যেখানে বাগদা এবং কাঁকড়া চাষ ভালো হচ্ছে, সেখানে নোনা পানি নিশ্চিতে প্রশাসনের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় ধান এবং বাগদা চিংড়ি চাষ উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পাশাপাশি বাজারের স্থিতিশীলতা আনতে এবং কৃষকদের সুরক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন