বুধবার । ১৪ই জানুয়ারি, ২০২৬ । ৩০শে পৌষ, ১৪৩২

খুলনার নির্বাচনী মাঠে এবার নেই খান এ সবুরের মুসলিম লীগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

এক সময়ে খুলনা ছিল মুসলিম লীগের দূর্গ বলে খ্যাত। প্রায় চার যুগ আগে রাজনৈতিক এ দলের দাপট ছিল ব্যাপক। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিমশিম খেতেন। দলীয় প্রধান খান-এ-সবুর দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনার ৩টি আসনে জয়ী হন। দলের সেই জৌলুস হারিয়েছে। অস্তিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে একটি সাইনবোর্ড, স্যার ইকবাল রোডের গোল্ডেন কিং ভবনে। শনিবারে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বৈঠক ও দলীয় প্রধানের মৃত্যু দিবস পালনের মধ্য দিয়ে দলের গন্ডি নির্দিষ্ট পরিধির মধ্যে সীমাবদ্ধ। নেই বিক্ষোভ অবরোধ কর্মসূচিতে। রাজপথেও বছরের পর বছর নিরব। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনেও নিরব। জেলার কোনো আসনে প্রার্থী নেই খান এ সবুরের মুসলিম লীগে।

পাকিস্তান জামানায় বেশ দাপট ছিল। ১৯৬৫ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বেশ সরব ছিল দলটি। তারপরেও মুসলিম লীগের প্রতিপক্ষ কপের মনোনীত প্রার্থী মাদারে মিল্লাত মিস ফাতেমা জিন্নাহ এখান থেকে জয়ী হয়। ১৯৭০ সালে জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে প্রার্থী দিলেও দলটি পিছু হটে যায়। বলা চলে, তারা নির্বাচনী মাঠ ছেড়ে দেয়। একাত্তরে শান্তি কমিটিতে অংশ গ্রহণ থাকায় এ সংগঠনের রাজনৈতিক তৎপরতা নিষিদ্ধ হয়ে যায়। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় নিয়ে এগোলে এ সংগঠন রাজনীতি করার সুযোগ পায়। নেপথ্যে ক্ষমতাসীনদের সাথে সমঝোতাও হয়। ফলসূতিতে দলীয় প্রধান খান এ সবুর খুলনা-৬, খুলনা-৮ ও খুলনা-১৪ আসন থেকে জয়ী হয়। তিনি খুলনা সদর আসনের প্রতিনিধিত্ব করে বাকি দুটি ছেড়ে দেন। ১৯৮১ সালে ২৫ জানুয়ারি তার মৃত্যুর পর থেকে দলীয় সমর্থনে ভাটা পড়তে থাকে।

দলের একটা বড় অংশ বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনে বিশ্বাসী হয়ে দল ত্যাগ করে। দলীয় সূত্রের অভিমত সাংগঠনিক কাঠামো থাকলেও ভীত দুর্বল, জনসমর্থন নেই। সামাজিক ও ইস্যু ভিত্তিক কর্মসূচিতে দলের প্রতিনিধিত্ব নেই। জেলা ও নগর কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। নগরীর ৮ থানা ও ৯ উপজেলায় সাংগঠনিক কাঠামো নেই। অধ্যাপক ফকির রেজা উদ্দিন, এ্যাড. আক্তার জামান রুকু, শেখ জাহিদুল ইসলাম, শেখ বাবর আলী, অধ্যাপক জাকির হোসেন দলের হাল ধরে রেখেছেন। এবারের নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার আগে খুলনা-২ আসনে আক্তার জাহান রুকু, খুলনা-৩ আসনে অধ্যাপক ফকির রেজা উদ্দিন ও খুলনা-৪ আসনে শেখ বাবর আলীর মানসিক প্রস্তুতি ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তারা মনোনয়ন জমা দেননি।

প্রসঙ্গ নিয়ে নগর শাখার সভাপতি শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, এ ব্যাপারে কেন্দ্রের কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না। কেন্দ্র সংগঠিত নয়। এ কারণে খুলনায় নির্বাচনে অংশ নেওয়া সম্ভব হয়নি। কোনো পক্ষকে সমর্থন দেবে কী না এ ব্যাপারে চূড়ান্ত নয়।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন