জুলাইয়ের উত্তাল দিনগুলোর সাহসী কণ্ঠস্বর ও বিপ্লবী চেতনার প্রতীক শহীদ ওসমান হাদিকে স্মরণ করে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) আধিপত্যবাদবিরোধী শিক্ষার্থীদের আয়োজনে গ্রাফিতি কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
গত ২ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা শহীদ ওসমান হাদি ভাইয়ের আদর্শ, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগকে স্মরণ করে বিভিন্ন দেয়ালে প্রতীকী গ্রাফিতি অঙ্কন করেন। গ্রাফিতিগুলোতে আধিপত্যবাদবিরোধী চেতনা, ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান এবং সততা, ইনসাফ ও শোষণমুক্ত সমাজের প্রত্যাশা তুলে ধরা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইনগেট, একাডেমিক ভবন সংলগ্ন দেয়াল, মুরাল কমপ্লেক্স এ শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির গ্রাফিতি অঙ্কন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা গ্রাফিতির পাশাপাশি বিভিন্ন স্লোগান লেখেন।
স্লোগানগুলো হলো- ‘জান দেবো কিন্তু জুলাই দেবো না’, ‘দাসত্বই যে জমিনের নিশ্চল নিয়তি, লড়াই সেখানে সর্বোত্তম ইবাদত’, ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’।
কর্মসূচি বিষয়ে ফার্মেসী বিভাগের (২০১৮-১৯) শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ওবায়দুল ইসলাম বলেন, “ওসমান হাদী ভাই কালচারাল ফ্যাসিস্ট এর বিরুদ্ধে যে বলিষ্ঠ কণ্ঠ দিয়েছিল সেই কণ্ঠকে দমানোর জন্য মূলত তাকে শহীদ করা হয়েছে। কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া যে চেতনা, যে কাজকর্ম এবং তাঁর রেখে যাওয়া যে স্মৃতি আমাদের মাঝে উদ্দীপনা সৃষ্টি করে তা আমরা বুকে ধারণ করব। আমরা চাই হাদি আমাদের মাঝে বেঁচে থাকুক এবং কালচারাল ফ্যাসিজম দূর হোক এজন্যই আজ আমাদের এই গ্রাফিতি কর্মসূচির আয়োজন।
ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী আজিজুর রহমান শান্ত বলেন, ‘শহীদ ওসমান হাদী কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা মতাদর্শের ছিলেন না, তিনি মুলত ভারতীয় আধিপত্য বিরোধী এবং আপামর জনসাধারণের অধিকার ইনসাফের ভিত্তিতে নিশ্চিত এর লড়াইয়ের বীর ছিলেন। হাদি ভাইয়ের এই ইনসাফের লড়াই যেন হারিয়ে না যায় আমাদের এই কর্মসূচি। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেট, প্রশাসনিক ভবন, মুক্তমঞ্চ সংলগ্ন ম্যুরাল এবং একাডেমিক ভবনে গ্রাফিতি অংকন করি।’
এছাড়াও আয়োজক এবং অন্যান্য শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, ‘এই কর্মসূচির মাধ্যমে শহীদ ওসমান হাদি ভাইয়ের স্মৃতি নতুন প্রজন্মের মাঝে জীবন্ত রাখা এবং অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টি করে ইনসাফ কায়েম’র পথ অগ্রসর করাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য’। কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফুর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
খুলনা গেজেট/এনএম
