প্রতারণার অভিযোগে খুলনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ইমরান সরদার নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। বৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট) রাত পৌনে ১০ টায় তাকে রূপসা উপজেলার শ্রীফলতলা ইউনিয়ন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে ওই এলাকার মৃত আব্দুর রাজ্জাক সরদারের ছেলে। শুক্রবার বিকেলে ওই যুবক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২ এর বিচারক নয়ন বিশ্বাসের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।
আদালত সূত্র জানায়, গ্রেপ্তার যুবক দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তির সাথে সখ্যতার কথা বলে বিভিন্ন মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছে। সে খুলনা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুশান্ত সরকার পিপিএম (সেবার) ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে। নিজেকে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ বলে পরিচয় দিয়ে একাধিকবার ফোন করে সুবিধা গ্রহণের চেষ্টা করে। বিষয়টি অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের সন্দেহ হলে জেলা গোয়েন্দা শাখাকে অবহিত করেন। পুলিশ ‘আইকন অ্যাপস’ব্যবহার করে প্রতারকের ব্যবহৃত সিম ০১৯৩৪-১৪৪১২৯ শেখ পরশ নামে রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে গোলক ধাঁধায় পড়ে যান গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।
পরে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার রাত অনুমানিক পৌনে ১০ টায় তাকে আবিস্কার করতে সক্ষম হয় গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। সে শেখ পরশ নয়, মোঃ ইমরান। শ্রীফলতলার মৃত আব্দুর রাজ্জাক সরদারের ছেলে। পেশায় সে একজন প্রতারক। ওই সময়ে তাকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা কার্যালয়ে আনা হলে সে স্বেচ্ছায় সবকিছু স্বীকার করে। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে চাইলে শুক্রবার তাকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালতের কাছে সে প্রতারণার সকল বিষয় স্বীকার করে।
জেলা গোয়েন্দা শাখার পুলিশ পরিদর্শক উজ্জ্বল দত্ত শুক্রবার রাতে খুলনা গেজেটকে জানান, ইমরান সরদার ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মানুষের সাথে প্রতারণা করেছে। প্রতারণার অভিযোগ পেয়ে আমরা তাকে গ্রেপ্তার করেছি। আমাদের কাছে ও আদালতে কাছে সে প্রতারণার বিষয়টি স্বীকার করেছে। এ ব্যাপারে রূপসা থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার নং ৪।
খুলনা গেজেট/এমএইচবি