সুন্দরবন ও তার সংলগ্ন অঞ্চলে সমূহের দূষণ কমানো এবং বাস্তুসংস্থান উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘সুন্দরবনের জন্য সাংবাদিকতা’ বিষয়ক আলোচনা সভা বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) শহরের অদূরে অগ্রগতি সংস্থার রিসোর্ট এবং ট্রেনিং সেন্টারের অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রূপান্তরের নির্বাহী পরিচালক রফিকুল ইসলাম খোকন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রূপান্তরের প্রকল্প সমন্বয়কারী শুভাশিস ভট্টাচার্য, সাংবাদিক মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জ্বল প্রমূখ।
সভায় অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সাংবাদিক মুজিবর রহমান, রুহুল কুদ্দুস, গোলাম সরোয়ার, আমিরুজ্জামান বাবু, প্রভাষক সামিউল মনির, আসাদুজ্জামান সরদার, সুকুমার দাস বাচ্চু, আহসান রাজিব, আখতারুজ্জামান বাচ্চু প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন গোলাম কিবরিয়া।
বক্তারা বলেন, বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের ৬০ শতাংশ এলাকা বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল জুড়ে অবস্থিত। বিশেষ করে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পিরোজপুর ও বরগুনা জেলায় সুন্দরবন অবস্থিত। উপকূলীয় সুরক্ষা ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় সুন্দরবন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রায় ৩০ লাখ মানুষ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে সুন্দরবনের বনজ ও জলজ সম্পদের উপর নির্ভরশীল, যা তাদের জীবন-জীবিকার প্রধান উৎস এবং দেশের অর্থনীতিতে বিশেষ অবদান রাখে।
কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মানবসৃষ্ট বিভিন্ন কারণে সুন্দরবন চরম প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত ঝুঁকির সম্মুখীন।
বক্তারা আরও বলেন, বিগত ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ সরকার সুন্দরবন সংলগ্ন ১০ কিলোমিটার এলাকাকে ‘পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করে, যা ৫টি জেলার ১৭টি উপজেলাকে অন্তর্ভুক্ত করে। এই এলাকাকে বলা হয় ‘সুন্দরবন ইমপ্যাক্ট জোন’। তবুও, মানুষের অপরিকল্পিত কার্যক্রমের কারণে এই অঞ্চলে দূষণ বাড়ছে, বিশেষত প্লাস্টিক ও পলিথিন ব্যবহারের ফলে। এই দূষণ নদী, খাল ও জলাশয় গুলোকে প্রভাবিত করছে, যা শেষ পর্যন্ত জোয়ার-ভাটার মাধ্যমে সুন্দরবনে প্রবেশ করছে এবং বনের মাটি ও পানি দূষিত করছে। এর ফলে গাছপালা, বন্যপ্রাণী ও জলজ প্রাণীর উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। যা সুন্দরবনের উৎপাদনশীলতা হ্রাস করছে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন ও জীবিকা হুমকির মুখে ফেলছে।
সভায় বলা হয়, সুন্দরবন না থাকলে আগামী প্রজন্ম বাঁচাতে পারবে না। সুন্দরবনকে বাঁচাতে হলে দূষণ এবং এর সাথে সম্পর্কিত পরিনিতি সম্পর্কে সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় জনগণকে সচেতন করা।
খুলনা গেজেট/এনএম