নড়াইল সদর উপজেলার হবখালী ইউনিয়নের ভান্ডারীপাড়ায় বসতবাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার। বুধবার (২ এপ্রিল) গভীর রাতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী কাঠ ব্যবসায়ী ভান্ডারীপাড়ার তুহিনুজ্জামান ঝন্নু বলেন, পারিবারিক দ্বন্দ্বের জের ধরে আমার দ্বিতীয় স্ত্রী শেফালী বেগমসহ তার লোকজন বুধবার গভীর রাতে আমাদের বসতঘরে আগুন দিয়েছে। এ সময় ঘরে কেউ ছিল না। তবে ঘরে থাকা দেড় লক্ষাধিক টাকা, আসবাবপত্র, ফ্রিজ, ফ্যানসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পুড়ে গেছে। এমনকি গায়ের পোশাক ছাড়া কোনো কিছুই অবশিষ্ট নেই। এতে প্রায় ২০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে। পুড়ে যাওয়া ঘরে আমার প্রথম স্ত্রী আইরিন পারভিন থাকতো। আর অন্যত্র আমার দ্বিতীয় স্ত্রী শেফালী বসবাস করত। আগুন দেয়ার ঘটনায় শেফালীসহ সহযোগীদের নামে সদর থানায় অভিযোগ দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন, আগুন দেয়ার আগে ওইদিন রাত ১১টার দিকে আমার দ্বিতীয় স্ত্রী শেফালী বেগম প্রথম স্ত্রী আইরিন বেগমের বাড়িতে এসে তার (আইরিন) সঙ্গে ঝগড়া বিবাদ ও ভাঙচুর করে। এক পর্যায়ে স্ত্রী আইরিন ও তার মেয়েকে মারধর করে গায়ের স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেয়। এ সময় বড় স্ত্রী আইরিনকে বাড়িঘর ছাড়ার হুমকি পর্যন্ত দেয় তারা।
আইরিন পারভিন বলেন, আমার সতীন শেফালী বেগম বুধবার রাতে আমাকে ও মেয়েকে মারধর করে বাড়িঘর ছাড়ার হুমকি দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার রাতে শেফালী বেগম ঘরে আগুন দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। শেফালী বেগমের হুমকির পর আইরিন পারভীন, তার স্বামী ও মেয়ে অগ্নিকাণ্ডের সময় আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শেফালী বেগম দাবি করেন তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে।
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজেদুল ইসলাম বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
খুলনা গেজেট/জেএম