খুলনা, বাংলাদেশ | ৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ | ১৯ মে, ২০২৪

Breaking News

  করোনায় একজনের মৃত্যু, শনাক্ত ১১
  তিন জেলায় বজ্রপাতে প্রাণ গেল ৭ জনের
  রাঙামাটিতে সশস্ত্র হামলায় ইউপিডিএফ সদস্যসহ নিহত ২
রাষ্ট্রপতির কাছে প্রতিবেদন

পাচার হওয়া অর্থ-সম্পদ পুনরুদ্ধারে কিছু ক্ষমতা চায় দুদক

গেজেট ডেস্ক

দুর্নীতি দমনে নানামুখী সীমাবদ্ধতা কমাতে চায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ নিয়ে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি। অর্থপাচার প্রতিরোধসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি প্রতিরোধে কিছু সুপারিশও করা হয়েছে। এছাড়াও নিজেদের কার্যক্রম তুলে ধরে সোমবার (২০ মার্চ) রাতে বঙ্গভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে ২০২২ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন দাখিল করেছে কমিশন।

দুদক সূত্র জানায়, নিজেদের সীমাবদ্ধতা কমাতে দুদক রাষ্ট্রপতির কাছে দেওয়া প্রতিবেদনে যেসব পদক্ষেপ ও সুপারিশের কথা বলেছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে অর্থপাচারের বিষয়টি। এ নিয়ে বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রো-অ্যাক্টিভ অনুসন্ধানের লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্কফোর্স (এফএটিএফ) এবং এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপ অন মানি লন্ডারিং (এপিজি) সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনা, মিউচুয়্যাল লিগ্যাল অ্যাসিসট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর ) পাঠানো, বিদেশি এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয়, বিদেশে পাচারকৃত অর্থ দেশে ফেরত আনা সংক্রান্ত টাস্কফোর্সের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য ইউনিট গঠন ও জনবল নিয়োগের লক্ষ্যে বিদ্যমান সাংগঠনিক কাঠামো পর্যালোচনা করে কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে অর্থপাচার হয়ে থাকে এমন দেশগুলোর দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাসমূহের সঙ্গে তথ্য, ইন্টেলিজেন্স, সাক্ষ্য-প্রমাণ আদান-প্রদান, সম্পদ ফ্রিজ, ক্রোক, বাজেয়াপ্তকরণ ও পুনরুদ্ধার কার্যকর করার জন্য দ্বিপাক্ষিক আইনি সহযোগিতা চুক্তি (মিউচুয়্যাল লিগ্যাল অ্যাসিসটেন্স ট্রিটি) করার বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

ন্যাশনাল রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট রিপোর্ট প্রণয়ন সংক্রান্ত কাজ, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ সংক্রান্ত ন্যাশনাল কোঅর্ডিনেশন কমিটি ও ওয়ার্কিং কমিটির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, জাতীয় কৌশলপত্রের অ্যাকশন আইটেমসমূহ বাস্তবায়ন, বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) সঙ্গে সমন্বয় ও দ্বিপাক্ষিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নসহ কমিশনের অন্যান্য কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে মানি লন্ডারিং অনুবিভাগে পৃথক ডেস্ক স্থাপন করার জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সার্ভেইল্যান্স, কমিউনিকেশন ইন্টারসেপশন ও আন্ডারকাভার অপারেশন ইত্যাদি পরিচালনার জন্য ইউনিট গঠন ও জনবল নিয়োগের লক্ষ্যে কমিটি গঠন করা হয়েছে। মানি লন্ডারিং, ব্যাংক ও বিমা সংশ্লিষ্ট অপরাধের অনুসন্ধান ও তদন্ত, ফরেনসিক অ্যাকাউন্টিং, ডিজিটাল ফরেনসিক, সার্ভেইল্যান্স ও আন্ডারকাভার বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও স্টাডি ট্যুরের বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও আইসিটি অনুবিভাগ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন দেশে পাঠানো এমএলএআর-এর সর্বশেষ অবস্থা পর্যালোচনা ও গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে দুদকের অনুরোধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগে একজন ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। দুর্নীতি ও মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত এজেন্সি টু এজেন্সি তথ্য বিনিময়ের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কে (গ্লোবাল নেটওয়ার্ক) যোগদান করার বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে।

পাচার হয়ে যাওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধারে কিছু ক্ষমতা বা দায়িত্ব চেয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে দেওয়া প্রতিবেদনে সরকারকে করা অনুরোধের বিষয়টি তুলে ধরেছে দুদক। এরমধ্যে অর্থ বা সম্পদ পাচার রোধ এবং পাচার হওয়া অর্থ বা সম্পদ বিদেশ থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য কার্যকর ভূমিকা রাখতে চায় দুদক। সেজন্য মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর অধীন সাতটি অপরাধকে দুর্নীতি দমন কমিশনের তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বা সরকারকে অনুরোধ করা হয়েছে।

২০২২ সালে মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত অনুসন্ধানের জন্য অপেক্ষমান ১৫৭টির মধ্যে কমিশন ৩১টি অনুসন্ধান শেষ করেছে। সাতটিতে মামলা দায়ের ও ২০টি অভিযোগের পরিসমাপ্তি এবং চারটি অভিযোগ অন্যান্য পদ্ধতিতে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। বিভিন্ন ঘটনায় আগের বছরের চলমান তদন্তসহ ২০২২ সালে তদন্ত কাজ চালানো হয় এক হাজার ৯৯৭টি। এরমধ্যে ৩৩১টি তদন্ত শেষ করা হয়েছে। শেষ হওয়া তদন্তের ওপর ভিত্তি করে ২২৪টি মামলায় চার্জশীট দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আইনি বাধ্যবাধকতায় ১৪টি তদন্ত অন্য সংস্থায় পাঠানো হয়েছে। বিলুপ্ত ব্যুরোর মামলাসহ বর্তমানে ৬ হাজার ২৩৬ মামলা চলমান রয়েছে। এছাড়াও ৪১৯টি মামলা উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিত রয়েছে।

২০২২ সালে দুদকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া বিভাগীয় পদক্ষেপগুলো নিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ সালে নেওয়া ১৫টি অভিযোগ তদন্ত চলমান আছে। ২০২২ সালে গৃহীত অভিযোগের সংখ্যা তিনটি। একই বছর বিভাগীয় মামলার সংখ্যা ১৮টি। সব মিলিয়ে নিষ্পত্তি করা হয়েছে পাঁচটি অভিযোগের। এরমধ্যে একটিতে গুরুদণ্ড ও একটিতে লঘুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যভাবে নিষ্পত্তি করা হয়েছে তিনটি অভিযোগের।

দুদক কমিশনার (তদন্ত) জহুরুল হক বলেন, নিজেদের করণীয় ও পদক্ষেপ বিষয়ে দুদক তার মতামত প্রতিবেদন আকারে রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরবে। তিনি প্রতিবেদনটি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করবেন। মঙ্গলবার (২১ মার্চ) এ নিয়ে দুদক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করবে কমিশন।

খুলনা গেজেট/কেডি




খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

© 2020 khulnagazette all rights reserved

Developed By: Khulna IT, 01711903692

Don`t copy text!