খুলনা, বাংলাদেশ | ৫ ভাদ্র, ১৪২৯ | ২০ আগস্ট, ২০২২

Breaking News

  কুয়াকাটায় ৫ ট্রলারডুবি, ১৬ জেলে নিখোঁজ
  রাজধানীর উত্তরায় গার্ডার দুর্ঘটনা : ক্রেনচালকসহ ১০ জন রিমান্ডে
  বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের দুই নেতার ওপর ছাত্রলীগের হামলার অভিযোগ, ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি

শেখ হাসিনার পতন ছাড়া বাংলাদেশের মুক্তি নেই : গয়েশ্বর (ভিডিও)

নিজস্ব প্রতিবেদক ও ডুমুরিয়া প্রতিনিধি

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, “স্লোগান নয়, এখন একশনের সময়। শেখ হাসিনার পতন ছাড়া বাংলাদেশের মুক্তি হবে না। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে আন্দোলনের বিকল্প নেই।”

তিনি আজ বুধবার ডুমুরিয়ার গুটুদিয়ায় বিএনপির গণসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করছিলেন।

গয়েশ্বর বলেন, “এই সরকারের একমাত্র ভয় হল বেগম খালেদা জিয়া ও আগামীর রাষ্ট্রনায়ক, তারুন্যের অহংকার তারেক রহমানকে। এজন্যে তারা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম জিয়াকে মুক্তি দিতে চায়না, মিথ্যা মামলায় অন্যায়ভাবে সাজা দিয়ে দেশনেত্রীকে কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। তিনি বর্তমানে মূমুর্ষ অবস্থায় প্রতিটি মুহুর্ত পার করছেন। তিনি যে রোগে আক্রান্ত তার চিকিৎসা বাংলাদেশে হবেনা বলে চিকিৎসকরা জানিয়ে দিলেও আইনের দোহাই দিয়ে চিকিৎসা নামে তাকে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে।”

তিনি বলেন, রামপালের পাশেই সুন্দরবন। যুগযুগ ধরে সুন্দরবন আমাদের রক্ষা করে আসছে। আর এই সুন্দরবন ধ্বংস করার জন্য কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র করবে বলে পণ করেছে। এই প্রযুক্তি ভারতের। কিন্তু ভারত সরকারের প্রযুক্তি ভারতবর্ষে স্থাপনের অনুমতি দেয় না। সেইটা আমাদের দেশে করছে। আজকে দেশটাকে ধ্বংস করার জন্য, পরিবেশের বিপর্যয় নানাবিধ কর্মকান্ড করছে। আর তড়িঘড়ি করে বিদ্যুৎ দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা আত্মসাত করেছে। ১০ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। এই টাকা যদি বিদেশে থাকে তাহলে দেশের অর্থনীতির কি অবস্থা হবে?

তিনি বলেন, বাংলাদেশের শুরু হয়েছিল মাত্র ৭৫০ কোটি টাকার বাজেট দিয়ে। ৫০ বছর পর ১০ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হচ্ছে। এই টাকাগুলি কার? এই টাকা আমাদের ফেরত আনতে হবে, বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মশিউর রহমান বলেন, ছাগল দিয়ে শেখ হাসিনা দেশ চালাচ্ছেন। সবদিক দিয়ে শেখ হাসিনার পৃথিবী ছোট হয়ে আসছে। ২০২২ সালের মধ্যে এই সরকারের পতন হবে। তার অধীনে আগামীতে কোন নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, ২ কোটি টাকার জন্য যদি খালেদা জিয়ার জেল হয়, তাহলে ৩২ কোটি টাকার জন্য কতো বছর জেল হবে?

বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বিএনপিকে শক্তিশালী করুন। রাজপথে নামুন। রক্ত না দিলে মুক্তি মেলে না।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, দেশে ৫ ধাপে ইউপি নির্বাচন শেষ হয়েছে। প্রথম ধাপে নৌকা প্রতীকের ৭৬ শতাংশ পরাজয় হয়েছে। ধাপে ধাপে পরাজয় হয়েছে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের। যে নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি, সেই নির্বাচনে তাদের এই অবস্থা। জামানত বাতিল হচ্ছে। আ’লীগ নেতাকর্মীরাই আজ নৌকার বিরুদ্ধে দাড়িয়েছে।

তিনি বলেন, নৌকা আজ শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতীক নয়। নৌকা এখন লুটপাট, ধর্ষণ, দুর্নীতির প্রতীক। এ কারণে মানুষ আজ এর বিরুদ্ধে। তার উদাহরণ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন।

অমিত বলেন, পথে পথে বাধা দিয়েছেন, গাড়ি থেকে নামিয়ে দিয়েছেন, পুলিশ বেত্রাঘাত করেছে তবুও মানুষ সমাবেশে এসেছে। গাড়ি, লঞ্চ, ট্রেন বন্ধ করে লাভ নেই। জনগণ জেগে উঠেছে, এই জনগণকে ঠেকানো সম্ভব নয়। অবিলম্বে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন। মনে রাখবেন, খালেদা জিয়ার টিকে থাকারন সাথে আ’লীগের টিকে থাকার সম্পর্ক রয়েছে।

সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন মহানগর বিএনপির আহবায়ক এড. শফিকুল আলম মনা। সভাপতিত্ব করেন খুলনা জেলা বিএনপির আহবায়ক আমীর এজাজ খান।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন খুলনা বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুন্ডু, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আজিজুর বারী হেলাল, কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতা আলহাজ্ব রকিবুল ইসলাম বকুল, যশোর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ্যাডঃ সৈয়দ সাবেরুল ইসলাম সাবু, সাহারুজ্জামান মোর্তজা, আবুল হোসেন আজাদ, জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব মনিরুল হাসান বাপ্পী, যুগ্ম আহবায়ক শেখ আবু হোসেন বাবু ও মহানগর বিএনপি’র সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিন, তরিকুল ইসলাম জহির, মুস্তাফিজুর রহমান, মামুনুল ইসলাম, খান জুলফিকার আলী জুলু, খান রবিউল আলম রবি, বেগ তানভিরুল আলম, খায়রুল ইসলাম জনি, কওসার আলী চৌধুরি, মোল্যা মোশাররফ হোসেন মফিজ, রুবায়েত হাসান বাবু, মুর্শিদ কামাল, অসিত কুমার সাহা, হাফিজুর রহমান মনি, ফখরুল ইসলাম রবিন, ওমর ফারুক কাউসার, শফি মোহাম্মদ খান, শাকিল আহম্মেদ দিলু, তৈয়েবুর রহমান, মোল্যা কবির হোসেন, এস এম শামীম কবির, মাহাবুবুল হাসান পিয়ারু, সৈয়দা রেহেনা ঈসা, চৌধুরি শফিকুল ইসলাম হোসেন, জুলফিকার আলী, একরামুল হক হেলাল, ইবাদুল হক রুবায়েত, খান ইসমাইল হোসেন, এ্যাডঃ সেতারা বেগম, ইমতিয়াজ আহম্মেদ ইফতি, গোলাম মোস্তফা তুহিন, তাজিম বিশ্বাস, আব্দুল মান্নান মিস্ত্রি, সাজ্জাত আহসান গোরা, শাহাদাৎ হোসেন ডাবলু, ফারুক হোসেন, বদরুল আলম, এ্যাডঃ আব্দুস সাত্তার, ডাঃ আব্দুল মজিদ, আলী আজগর চুন্নু, শেখ ফরিদ আহম্মেদ, জাহিদ ইমতিয়াজ, হাফিজুর রহমান মুন্না প্রমুখ।

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশে সুচিকিৎসা ও মুক্তির দাবিতে খুলনা জেলা ও মহানগর বিএনপির উদ্যোগে ডুমুরিয়ার স্বাধীনতা চত্বরে সমাবেশ করার জন্য প্রশাসনের কাছে অনুমতি চেয়েছিল দলটি। তবে একই স্থানে ছাত্র ও যুবলীগের সমাবেশ আহবান করায় সেখানে পুলিশের অনুমতি মেলেনি। পরবর্তীতে বিএনপি গুটুদিয়া ফুটবল মাঠে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নেয়। সকাল থেকে সমাবেশ স্থলে নেতাকর্মীরা মিছিল সহকারে আসতে শুরু করে। দুপুর ১২ টায় গুটুদিয়া ফুটবল মাঠে সমাবেশ শুরু হয়।

খুলনা গেজেট/ এস আই




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

© 2020 khulnagazette all rights reserved

Developed By: Khulna IT, 01711903692