খুলনা, বাংলাদেশ | ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ | ২৫ মে, ২০২৪

Breaking News

  ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিয়েছে ‘রেমাল’, মোংলা-পায়রা সমুদ্রবন্দরে ৭ এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজারে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত
  উপকূলীয় এলাকায় লঞ্চ চলাচল বন্ধের নির্দেশ
ভুয়া জখমী সনদ

যশোরে ডাক্তারের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর

যশোরে জখমী সনদ প্রদানে লাখ টাকা উৎকোচ দাবি ও টাকা না দেয়ায় মিথ্যা জখমী সনদ প্রদানের অভিযোগে জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার মুরসালিনুর রহমানসহ নয়জনের বিরুদ্ধে যশোর আদালতে মামলা হয়েছে। এ মামলা করেছেন ঝিকরগাছা উপজেলার রাজাপুর গ্রামের মৃত আব্দুস সামাদের ছেলে মিলন মাহামুদ। এরআগে তিনি একই বিষয়ে দুদকে অভিযোগ করেন।

অপর আসামিরা হলেন, ঝিকরগাছা উপজেলার রাজাপুর গ্রামের মৃত কেনায়েত আলীর ছেলে রফিক, একই গ্রামের মৃত নুর ইসলামের ছেলে সেলিম রেজা, নওশের আলীর ছেলে লাবু, মৃত ওয়াজেদ সরদারের ছেলে নূর ইসলাম ফকির, মৃত জালাল সরদারের ছেলে মুনতাজ, আকছেদ আলীর ছেলে কবির হোসেন, মৃত হানিফের ছেলে পলাশ, সাইফুল ইসলামের ছেলে মিঠু। বুধবার যশোরের ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ কবির উদ্দিন প্রামানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন যশোরের কাছে দেয়া অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুদক কর্তৃক ব্যবস্থা সম্পর্কে আগামি ধার্য তারিখের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কাজী ফরিদুল ইসলাম।

মামলায় বাদী মিলন মাহমুদ উল্লেখ করেন, ২০২১ সালের ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে বাদীর ভাই জাকির হোসেন পিপুল চেয়ারম্যান পদে অংশ নেন। তার ভাইয়ের প্রচারণার উদ্দেশ্যে ২০২১ সালের ২৮ অক্টোবর মিলনসহ ৩০/৩৫জন কর্মী মোটরসাইকেল যোগে উপজেলার বেজিয়াতলা মালোপাড়া মোড়ে পৌছালে ডাঃ মুরসালিন বাদে অন্য আসামিসহ অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা হাসুয়া ও গাছি দা নিয়ে তাদের উপর হামলা চালায়। এসময় মিলনের সাথে থাকা মাহাবুবুর রহমান বুড়ো, হাসেম আলী, মিলন, সিরাজুল ইসলামকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। হামলায় বুড়োর পিঠে কোপ মারে আসামি রফিক। ক্ষতস্থানে তার ১০টি সেলায় দেয়া হয়। এছাড়া আসামি মুনতাজের কোপে বুড়োর বাম কিডনির উপর মারাত্মক ক্ষত হয়। সেখানে ১২টি সেলাই দেয়া হয়। এছাড়া বাদীর সাথে থাকা হাশেমের ডান উরুতে মারাত্মক জখম হয় । সেখানে সাতটি সেলাই দেয়া হয়। আরেক সঙ্গি মিলনের গলায়, কানে, উরুতে কোপ মারে আসামিরা। তার শরীরে মোট ১৫টি সেলাই দেয়া হয়। গুরুতর জখম অবস্থায় তাদের যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় বাদী ২০২১ সালের ৩০ অক্টোবর ডাক্তার ব্যতিত অন্য আসামিসহ মোট ১৪ জনের বিরুদ্ধে ঝিকরগাছা থানায় মামলা করেন। ওই মামলার জখমীদের চিকিৎসা সনদ সংগ্রহ করতে ২০২২ সালের ৪ জানুয়ারি বাদী ডাক্তার মুরসালিনুর রহমানের কাছে যান। এ সময় সঠিক জখমী সনদ দেয়ার জন্য একলাখ টাকা উৎকোচ দাবি করেন ডাক্তার মুরসালিনুর রহমান। অন্যথায় সামান্য জখম হয়েছে উল্লেখ করে সনদ দেয়া হবে বলে জানান। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মেডিকেল সার্টিফিকেট তলব করেন। তার প্রেক্ষিতে ডাক্তার মুরসালিনুর রহমান মাহাবুবুর রহমান, হাসেম আলী ও মিলনের ধারালো অস্ত্রের গুরুতর জখম থাকা সত্বেও ভোতা অস্ত্রের সামান্য জখম উল্লেখ করে জখমী সনদ প্রদান করেন। বাদীর দাবি ডাক্তার মুরসালিনুর রহমানের দাবিকৃত উৎকোচ না দেয়ায় অন্য আসামিদের কাছ থেকে উৎকোচ গ্রহন করে এ ধরণের মিথ্যা ও ভুয়া জখমী সনদ প্রদান করেছেন।

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, জখমী সনদে মিথ্যা তথ্য দেয়ায় বাধ্য হয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চার্জশিটে গুরুতর ধারার পরিবর্তে সাধারণ ধারার অপরাধ হিসেবে বিবেচিত করেছেন। একই মামলায় বাদীর চাচা সিরাজুল ইসলামের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হাতের আঙ্গুল কেটে পড়ে যায়। অথচ ডাক্তার তার ক্ষেত্রেও নরমাল আঘাত ও ভোতা অস্ত্রের আঘাতের ক্ষত উল্লেখ করে। এক পর্যায়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে ডাক্তার মুরসালিনুর রহমান সেটা সংশোধন করে ধারালো অস্ত্রের কথা উল্লেখ করেন। এ বিষয়ে প্রথমে তারা দুদকের কাছে অভিযোগ করেন। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় বাদী এবার আদালতে মামলা করেন।

এ বিষয়ে বাদী পক্ষের আইনজীবী কাজী ফরিদুল ইসলাম বলেন, ডাক্তার যেটা করেছেন সেটা অবশ্যই অমানবিক ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তার অপরাধ দৃশ্যমান। যা তিনি আদালতকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন। যেহেতু এ বিষয়ে প্রথমে বাদী দুদকের কাছে অভিযোগ করেছিলেন। বিষয়টি বিবেচনায় আদালত দুদকের পক্ষ থেকে কি ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে, সে বিষয়টি জানতে চেয়েছেন। আগামি ২৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আদালত এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন বলে তিনি জানান।




খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

© 2020 khulnagazette all rights reserved

Developed By: Khulna IT, 01711903692

Don`t copy text!