খুলনা, বাংলাদেশ | ২০ মাঘ, ১৪২৯ | ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩

Breaking News

  বিশ্বজুড়ে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু ১ হাজার ৩০০ জন, আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৯৭ হাজার ১০৪ জন
  আইএমএফের ঋণের ৪৭৬ মিলিয়ন ডলারের প্রথম কিস্তি পেয়েছে বাংলাদেশ

মোংলা বন্দরে আমদানি-রপ্তানির সাথে কমেছে রাজস্ব

তরিকুল ইসলাম

পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলার গুরুত্ব ব্যাপক বাড়লেও আমদানি-রপ্তানিতে ভাটা পড়েছে। কয়েকটি প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হওয়ায় বন্দরের সক্ষমতা বেড়েছে। তবুও দেশে ডলার সংকট ও বৈশ্বিক মন্দাসহ নদীর নাব্যতা সংকটে বড় জাহাজ ভিড়তে না পারায় মোংলা বন্দরের রাজস্ব আয় কমেছে। কিছুদিনের মধ্যে বন্দরের গতি ফিরে সাফল্যের স্বর্ণ শিখরে পৌঁছাবে বলে আশা বন্দর কর্তৃপক্ষের।

মোংলা বন্দর সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থ বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রথম ৬ মাসে মোংলা বন্দরে মোট ৪৪০টি বৈদেশিক জাহাজ আগমন ঘটেছে। গেল ২০২১-২২ অর্থ বছরে একই সময়ে ৪৬২টি জাহাজ বন্দরে আসে। অর্থাৎ বিগত অর্থ বছরের তুলনায় ৪.৭৬ শতাংশ জাহাজ আগমন কমেছে। চলতি অর্থ বছরের প্রথম ৬ মাসে জাহাজ নির্গমন হয়েছে ৪৪১টি, যা আগের অর্থ বছরের একই সময় থেকে ৩.৫০ শতাংশ কম। একই সময়ের ব্যবধানে কার্গো হ্যান্ডেলিং কমেছে ৫.৬৯ শতাংশ ও কন্টেইনার হ্যান্ডেলিং কমেছে ৩৩.১৫ শতাংশ। চলতি অর্থ বছরের প্রথমার্ধে রাজস্ব আয় হয়েছে ১৫৫১৯.৫৫ লাখ টাকা ও রাজস্ব ব্যয় হয়েছে ১১৬৮৪.০৩ লাখ টাকা। ফলে রাজস্ব উদ্বৃত্তি রয়েছে ৩৮৩৫.৫২ লাখ টাকা। অথচ গত অর্থ বছরের একই সময়ে ৪১২৩.০৭ লাখ টাকা রাজস্ব উদ্বৃত্ত ছিল। একই সময়ে গত অর্থ বছরের তুলনায় ৬.৯৭ শতাংশ রাজস্ব আয় কমেছে। চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসে কার্গো হ্যান্ডেলিং হয়েছে ৫৫.৫৩ লাখ হেক্টর মেট্রিক টন ও কন্টেইনার হ্যান্ডেলিং হয়েছে ১২৮৫২ টিটিউজ।

সূত্র আরও জানায়, সর্বশেষ ডিসেম্বর মাসে ৭৪টি জাহাজ আগমন ঘটে। তন্মধ্যে ২৭টি এলপিজির জাহাজ, ৬টি কন্টেইনারের জাহাজ ও ৪১টি অন্যান্য পণ্যের জাহাজ আগমন করে। এছাড়া ডিসেম্বরে ৭২টি জাহাজ নির্গমন করে। তাছাড়া কার্গো হ্যান্ডেলিং করা হয় ১০.৪৩ লাখ হেক্টর মেট্রিক টন ও কন্টেইনার ২৩৫২ টিটিউজ। এতে রাজস্ব উদ্বৃত্ত রয়েছে ৪৭২.৩৮ লাখ টাকা, যা বিগত ডিসেম্বরের চেয়ে ৯.১৬ শতাংশ কম।

এছাড়া ১৯৯০-৯১ অর্থ বছর থেকে ২০০১-০২ অর্থ বছর পর্যন্ত বন্দরটি ধারাবাহিকভাবে লাভে ছিল। তবে ২০০২-০৩ থেকে ২০০৬-০৭ অর্থ বছর পর্যন্ত লোকসানের শিকার হয়। এরপর ২০০৭-০৮ অর্থ বছর থেকে ফের লাভের মুখ দেখে মোংলা বন্দর। সর্বশেষ গত ২০২১-২২ অর্থবছরে আয় হয় ৩১৭.০৮ কোটি ও ব্যয় ২১৯.৯৯ কোটি টাকা। নিট মুনাফা অর্জন হয় ৯৭.০৯ কোটি টাকা।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা প্রধান মো. জহিরুল হক স্বাক্ষরিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৮-০৯ অর্থবছর থেকে ২০২১-২২ অর্থবছর পর্যন্ত মোংলা বন্দরে জাহাজ ১৭.৪ শতাংশ হারে, কার্গো ১৮.৮১ শতাংশ হারে, কনটেইনার ৭.৬৭ শতাংশ হারে, গাড়ি ১৪.০৩ শতাংশ হারে এবং রাজস্ব আয় ১৪.২৯ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পায়।

মেসার্স কাজী এন্টারপ্রাইজের সত্বাধিকারী কাজী নিজাম উদ্দিন সুজন বলেন, ডলার সংকটে ব্যাংকে এলসি খুলতে সমস্যা হচ্ছে। ফলে পণ্য আমদানি কম হচ্ছে।

খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক বিজিএমইএ’র সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী বলেন, পোশাক এবং বস্ত্র শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে গ্যাসের বিকল্প নেই। দক্ষিণাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ চালু হলে মোংলা বন্দর কেন্দ্রিক পোশাক এবং বস্ত্র শিল্প স্থাপন হবে। তখন বন্দরের ব্যবহার বহুলাংশে বেড়ে যাবে বলে তার বিশ্বাস।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব কালাচাদ সিংহের কাছে আমদানি-রপ্তানী কম হওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বানিশান্তায় আমাদের ড্রেজিংয়ের মাটি ফেলতে দিচ্ছে না। পরিবেশবাদীরা আন্দোলন করছে। ফলে ইনারবারে ড্রেজিং না হওয়ায় বড় জাহাজগুলো আসতে পারছে না। এতে আমদানি-রপ্তানী কমেছে। এছাড়া বন্দরে তুলনামূলক রাজস্ব আয় কমার পিছনে ডলার সংকট এবং বৈশ্বিক মন্দার প্রভাবও রয়েছে।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ মুসা বলেন, পদ্মা সেতু হওয়ায় দেশের যেকোন অঞ্চল থেকে মোংলা বন্দরে যাতায়াত সহজ হয়েছে। বন্দরের সক্ষমতাও বেড়েছে। যা আরও বাড়াতে মাষ্টারপ্লান করা হয়েছে। নতুন বিল্ডিং, টার্মিনাল, ওয়ার্কসপ তৈরি হচ্ছে। ৭/৮ মিটার জাহাজ এখন বন্দরে প্রবেশ করছে। নাব্যতা সংকট দূর করতে ড্রেজিং শুরু করেছি, শেষ হলে চট্রগ্রামের ন্যায় ৯ মিটার জাহাজ প্রবেশ করতে পারবে বলে আশা করছি।

খুলনা গেজেট/ এসজেড




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

© 2020 khulnagazette all rights reserved

Developed By: Khulna IT, 01711903692

Don`t copy text!