খুলনা, বাংলাদেশ | ২৯ আষাঢ়, ১৪৩১ | ১৩ জুলাই, ২০২৪

Breaking News

  কুষ্টিয়ায় সেপটিক ট্যাংকে নেমে প্রাণ গেল ২ রাজমিস্ত্রির
  পঞ্চম বর্ষে পা রাখলো ‘খুলনা গেজেট ‘। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সকল পাঠক, বিজ্ঞাপনদাতা ও শুভানুধ্যায়ীদের শুভেচ্ছা।

বিষমুক্ত ড্রাগন চাষে সাফল্য ইঞ্জিনিয়ার শাহিনুরের

কলারোয়া প্রতিনিধি

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় বিষমুক্ত ড্রাগন চাষ করে সাফল্য শাহিনুর রহমান। তিনি ২০বিঘা বিলের জমিতে ড্রাগন ফল চাষ করে নিজে যেমন লাভবান হয়েছেন। ঠিক তেমনি এলাকার মানুষের কর্মসংস্থানও সৃষ্টি করেছেন।

শাহিনুর রহমান উপজেলার যুগিখালী ইউনিয়নের তরুলিয়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শওকাত আলীর ছেলে। তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে পাস করে চাকরির পেছনে ছোটেননি। ঢাকার শ্যামলীতে মিডিয়া সওয়ার লিমিটেড নামে একটি সফটওয়্যার কোম্পানি প্রতিষ্ঠান করেছেন। তিনি সেই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থপনা পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি এর পাশাপাশি ১০বিঘা জমিতে মাটি ভরাট করে প্রথমে ড্রাগন ফল চাষ শুরু করেন। সেখানে সেই বছরে ফলনও ভাল হয়। এরপর উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে তিনি আরও ১০বিঘা জমিতে ড্রাগন চাষ করেন। তার বর্তমানে ৩টি বাগানে সিসিটিভি ক্যামেরা নিয়ন্ত্রিত রয়েছে। চলতি মৌসুমেও ক্ষেত থেকে গাছপাকা বিষমুক্ত নিরাপদ ফল ২০০টাকা কেজি দরে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা। সেই ব্যবসায়ীরা ফল পাঠিয়ে দিচ্ছেন সাতক্ষীরার বিভিন্ন বাজার, খুলনা ও ঢাকা শহরে। তাছাড়াও ‘ফলের আড়ৎ’ নামে শাহিনুর রহমানের একটি ফেসবুক পেইজ রয়েছে। কেউ চাইলে সেখান থেকে ফলের অর্ডার দিতে পারেন।

এবিষয়ে শাহিনুর রহমানের বাবা স্কুল শিক্ষক শওকাত আলী জানান, ছেলে বুয়েট থেকে ২০১৩সালে সিএসই বিভাগে লেখাপড়া শেষ করেন। এখন সে সফল একজন ব্যবসায়ী। চাকরির পেছনে না ঘুরে সফটওয়্যার নির্মাণ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। সেখানে ৩২জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। ড্রাগন ফলের প্রকল্পে নিয়মিত ভাবে ১০/১২ জন কাজ করেন।

শাহিনুর রহমান আরও বলেন, তিনি বেশিরভাগ সময় ঢাকায় অবস্থান করেন এবং সেখান থেকে সিসি টিভির মাধ্যমে ড্রাগন প্রকল্প পরিচালনা করে থাকেন। ড্রাগন ফলের দাম ও বাজার ভাল হওয়ায় ছেলের প্রকল্পটি দেখভাল করেন তার পিতা স্কুল শিক্ষক শওকাত আলী। ইতিমধ্যে, সাতক্ষীরা জেলায় এটিই সবচেয়ে বড় ড্রাগন উৎপাদন প্রকল্প হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছেন।

এই সফলতা দেখে এখানকার মানুষ ড্রাগন চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে। ২০বিঘা জমির ড্রাগন বাগান আরও বাড়াতে চান এবং এই ফল বিদেশেও রফতানি করতে চান শাহিনুর রহমান। কলারোয়া উপজেলা কৃষি অফিসার সুভ্রাংশু শেখর দাস জানান, তার উপজেলায় ১২জন চাষি ৩০বিঘা জমিতে ড্রাগন চাষ করেছেন।

সাতক্ষীরা ও মেহেরপুর খামারবাড়ীর উপ-পরিচালকসহ কৃষি বিভাগের উচ্চ পর্যায়ের টিম শাহিনুর রহমানের ড্রাগন ফলের বাগান পরিদর্শন করেন। কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুলী বিশ্বাস জানান, একটা স্বপ্ন ও একটা সঠিক সিদ্ধান্ত সমাজের চিত্র পাল্টে দিতে পারে, তরুণ উদ্যোক্তা শাহিনুর যার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তার ড্রাগন বাগান নতুন সম্ভাবনা উন্মোচন করেছে। আমি তার সাফল্যতা কামনা করি।

খুলনা গেজেট/এমএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

© 2020 khulnagazette all rights reserved

Developed By: Khulna IT, 01711903692

Don`t copy text!