ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে ঈদযাত্রার ফিরতি টিকিটের দাম বেশি নেওয়ার বিষয়ে অভিযোগ করেন এক যাত্রী। যাত্রীর অভিযোগ পেয়ে বাস টার্মিনালের একটি কাউন্টারে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পরিবহন শ্রমিকরা অভিযোগকারী যাত্রীকে ছিনিয়ে নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সামনে বেধড়ক মারধর করেন। এসময় আদালত পরিচালনা করতেও বাধা দেন শ্রমিকরা।
বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ ও প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
ঢাকাগামী যাত্রী নুসরাত শাম্মী বলেন, যাত্রীরা পরিবহন শ্রমিকদের কাছে জিম্মি। ফ্যাসিস্টের আমলেও যাত্রীরা জিম্মি ছিল, এখনো আছে। আজ কয়েকজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখের সামনে এক যাত্রীকে মারধর করেছে। আমাদের নিরাপত্তা কোথায়?
আব্দুল্লাহ আল জুবায়ের নামে আরেক যাত্রী বলেন, বেশি ভাড়া নেওয়ায় পূর্বাশা পরিবহনের ঝিনাইদহ কাউন্টারের নামে অভিযোগ করেন এক যাত্রী। অভিযোগ পেয়ে প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালত বসালে পরিবহন শ্রমিকরা অভিযোগকারী যাত্রীকেই লাঞ্ছিত করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সবুজ আহমেদ জানান, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এক যাত্রী জরুরি সেবা হটলাইনে ফোন করে পূর্বাশা পরিবহনের ঝিনাইদহ কাউন্টারে বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। অভিযোগ পেয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সজল কুমার দাসের নেতৃত্বে ওই কাউন্টারে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। বিকেল ৫টার দিকে অভিযান শুরু হলে অন্য বাস কাউন্টারের কর্মীরা ধর্মঘট শুরু করেন। এসময় তারা ভ্রাম্যমাণ আদালতকে অবরুদ্ধ করে অভিযোগকারী যাত্রীকে ছিনিয়ে নিয়ে মারধর করেন।
জানা যায়, ঝিনাইদহ-ঢাকা রুটের বাস ভাড়া ৬৩৮ টাকা হলেও নেওয়া হয় ৬৫০ টাকা। তবে ঈদযাত্রায় কাউন্টারের শ্রমিক নেতারা ৮০০ টাকা ভাড়া নিচ্ছেন।
শ্রমিক ফয়সাল আহমেদ বলেন, রমজান মাসে পরিবহন খাতে কোনো ব্যবসা ছিল না। তখন কেউ খোঁজ রাখেনি। পরিবহন শ্রমিকরা কষ্টে দিন পার করেছে। ঈদ উপলক্ষ্যে ৫০/১০০ টাকা বেশি নিলেও যাত্রীরা আপত্তি করে না। উদ্দেশ্যমূলকভাবে একজন অভিযোগ করেছে। তবে যেটা হয়েছে সেটা হওয়ার কথা ছিল না।
ঝিনাইদহ পরিবহন বাস মালিক সমিতি পরিচালনা পরিষদের প্রধান রোকনুজ্জামান রানু বলেন, যাত্রীদের সেবায় আমাদের শ্রমিক ভাইয়েরা রাতদিন কাজ করে যাচ্ছে। টার্মিনাল এলাকায় একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। অভিযান পরিচালনার সময় আদালতের সঙ্গে সমিতির লোকজন উপস্থিত থাকলে এমন ঘটনা ঘটত না। এখানে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে, আমরা সবাই মিলে আলোচনার মাধ্যমে এটা সমাধান করব।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী সহকারী কমিশনার (ভূমি) সজল কুমার দাস জানান, বেশি ভাড়া আদায়ের খবর পেয়ে বাস টার্মিনালে পূর্বাশা বাস কাউন্টারে যাই। ওই সময় এক যাত্রী মিডিয়ায় সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় বেশি ভাড়া রাখার কথা বলছিল। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পরিবহন শ্রমিকরা তাকে মারধর শুরু করে। পরে পরিবহন মালিক সমিতির ঊর্ধ্বতন কয়েকজন ওই যাত্রীকে উদ্ধার করেন। শ্রমিকরা ভ্রাম্যমাণ আদালতকে অবরুদ্ধ করে ও যাত্রীকে মারধর করে চরম ধৃষ্টতা দেখিয়েছে। আমাদেরকে আদালত পরিচালনা করতে দেয়নি। আদালতকে অবমাননা করে এবং আমাদেরকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। বিষয়টি আমরা আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, বিআরটিএর দেওয়া ভাড়ার চার্ট অনুযায়ী ঝিনাইদহ থেকে ঢাকার ভাড়া ৬৩৮ টাকা, সেখানে তারা নিয়মিত ৬৫০ টাকা ভাড়া নেন। কিন্তু তারা ঈদ উপলক্ষ্যে অতিরিক্ত ১৫০ টাকা ভাড়া বেশি নিচ্ছিল। এমন প্রমাণও পেয়েছি। এ ছাড়া কাউন্টারগুলো কোনো অগ্রিম টিকিট বিক্রি করছে না। সবকিছুর তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার পর কাউন্টারগুলো টিকিট বিক্রি বন্ধ করে দেয় এবং আমাদের অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে পরিবহন শ্রমিক নেতারা এলে আদালত পরিচালনা না করেই চলে আসতে বাধ্য হতে হয়েছে।
খুলনা গেজেট/জেএম