আজ বৃহস্পতিবার বিএনপির বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর ভিন্ন প্রেক্ষাপটে আজ সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলসংলগ্ন মাঠে এই সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি সভাপতিত্ব করবেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তৃণমূলের নেতাদের দেওয়া মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে তৈরি করা হবে দলের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা।
বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছরের ডিসেম্বরে সংসদ নির্বাচন হবে, এমনটি ধরেই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বৈঠকে তৃণমূলের বক্তব্যে অনেক প্রার্থীর বিষয়ে একটি ‘মূল্যায়ন চিত্র’ পাওয়া যাবে। সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে তৃণমূল নেতাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। আর সংসদ নির্বাচন বিলম্বিত করার চেষ্টা করা হলে কী ধরনের কর্মসূচি দেওয়া উচিত সে বিষয়েও প্রস্তাব চাওয়া হবে।
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের সময় নিয়ে সরকার বা অন্য কোনো পক্ষ বাড়াবাড়িতে গেলে দলটি মাঠের কর্মসূচি জোরদার করবে। সে ক্ষেত্রে ঈদের পর কেন্দ্র থেকে জেলা পর্যায়ে আরো কর্মসূচি আসতে পারে। একই সঙ্গে সংস্কারের নামে ভোটের তারিখ পেছানোর চেষ্টা মেনে নেবে না তারা। কেন্দ্রের এমন সিদ্ধান্তে তৃণমূলের ভাবনাও চাওয়া হবে আজকের সভায়।
বর্ধিত সভার বিষয়ে গত সোমবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়েছে। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, সভার মূলবিন্দুতে থাকবেন তৃণমূল নেতারা। তাঁদের কথা শুনেই নির্ধারিত হবে বিএনপির আগামীর পথচলা। এতে বক্তব্য রাখবেন জেলা/মহানগর, উপজেলা/থানা ও পৌরসভা বিএনপির সভাপতি/আহ্বায়ক ও সাধারণ সম্পাদক/সদস্যসচিবরা। সভায় বিগত আন্দোলনের একটি চিত্র তুলে ধরা হবে। বিএনপি মহাসচিব একটি সাংগঠনিক প্রতিবেদন তুলে ধরবেন। এতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ত্যাগ ও সফল নেতৃত্বের জন্য ধন্যবাদ দেওয়া হবে। যেহেতু দেশের মানুষ ১৭ বছর ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম করছে ভোটাধিকারের জন্য, তাই বিএনপি বার্তা দেবে যে স্থানীয় নয় জাতীয় নির্বাচনই জাতির প্রত্যাশা।
নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির এই বর্ধিত সভাকে ‘খুবই সময়োপযোগী’ বলে মনে করেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘তৃণমূল নেতাকর্মীরা দলের প্রাণ। স্থানীয় পর্যায়ের রাজনীতিসহ সামগ্রিক বিষয় তাঁরা গভীরভাবে প্রত্যক্ষ করেন। তাঁদের কাছ থেকে প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষের চাওয়াটা জানা যায়। ফলে বর্ধিত সভা থেকে সারা দেশে দলের সাংগঠনিক অবস্থা ও জনগণের প্রত্যাশার বস্তুনিষ্ঠ চিত্র উঠে আসবে, যা দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।’
বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে যাঁরা দলের প্রার্থী ছিলেন এবং দলের প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েও চূড়ান্ত মনোনয়ন পাননি, অর্থাৎ প্রার্থী নন কিন্তু মনোনয়নের জন্য ‘সেকেন্ডারি’ কাগজ পেয়েছিলেন, তাঁরাও বর্ধিত সভায় থাকবেন। এ ছাড়া বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটি, জাতীয় নির্বাহী কমিটি, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য এবং জেলা কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক অথবা আহ্বায়ক, সদস্যসচিব; থানা-উপজেলা-পৌর কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক অথবা আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবরা অংশ নেবেন বর্ধিত সভায়। বিএনপি ছাড়া ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরাও থাকবেন। সব মিলিয়ে বর্ধিত সভায় সারা দেশ থেকে প্রায় সাড়ে তিন হাজার নেতা অংশ নেবেন।
দলের নেতারা জানিয়েছেন, সর্বশেষ ১৯৯৭ সালে বর্ধিত সভা হয়েছে। এবারের সভায় দলের জাতীয় কাউন্সিলে যাঁরা উপস্থিত থাকেন, তাঁদের প্রায় সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। দীর্ঘদিন পর ডাকা এই সভা নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।