শুক্রবার । ১২ই জুন, ২০২৬ । ২৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

মেক্সিকো-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপ

ক্রীড়া প্রতিবেদক

অপেক্ষার শেষ আজ। মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও আসতেকায় মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ। ফিফার সূচিতে ভেন্যুটির নাম মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়াম। বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় শুরু হবে ম্যাচটি। তার আগে থাকবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।

এবারের উদ্বোধনী ম্যাচের আলাদা এক ঐতিহাসিক আবহ আছে। ২০১০ বিশ্বকাপেও প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা ও মেক্সিকো। জোহানেসবার্গের সকার সিটিতে সেদিন ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল ম্যাচটি। সিফিওয়ে তশাবালালার দুর্দান্ত গোল বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় উদ্বোধনী মুহূর্ত হয়ে আছে। ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে দেখা হচ্ছে দুই দলের, তবে এবার মঞ্চ মেক্সিকোর।

মেক্সিকো এই বিশ্বকাপের তিন আয়োজক দেশের একটি। ঘরের মাঠে, ৮০ হাজারের বেশি দর্শকের সামনে, এস্তাদিও আসতেকার মতো ইতিহাসসমৃদ্ধ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ শুরু করা তাদের জন্য গর্বের, একই সঙ্গে চাপেরও। কারণ সমর্থকেরা প্রত্যাশা করবেন, জয় দিয়েই শুরু করবে এল ত্রি।

এস্তাদিও আসতেকা নিজেও আজ নতুন ইতিহাস গড়বে। ১৯৭০ ও ১৯৮৬ সালের পর ২০২৬ সালেও বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ আয়োজন করছে এই মাঠ। অর্থাৎ বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম স্টেডিয়াম হিসেবে তিনটি আসরের উদ্বোধনী ম্যাচের সাক্ষী হচ্ছে আসতেকা।

বিশ্বকাপে মেক্সিকোর অভিজ্ঞতা বিশাল। এবার তাদের ১৭তম বিশ্বকাপ। ফিফা র‍্যাংকিং, সাম্প্রতিক ফর্ম এবং ঘরের মাঠের সুবিধা—সব মিলিয়ে উদ্বোধনী ম্যাচে মেক্সিকোকেই এগিয়ে রাখা হচ্ছে। বিশ্বকাপে আসার আগে টানা আট ম্যাচ অপরাজিত তারা। এটি বিশ্বকাপের আগে তাদের সেরা অপরাজিত ধারার সমান। শেষ পাঁচ ম্যাচে মেক্সিকোর ফর্মও ইতিবাচক—তিন জয়, দুই ড্র।

তবে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। ফিফা র‍্যাংকিংয়ে তারা মেক্সিকোর চেয়ে অনেক পিছিয়ে থাকলেও কোচ হুগো ব্রুস বিশ্বাস করেন, তার দল অঘটন ঘটাতে সক্ষম। দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য এটি ১৬ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা। ২০১০ সালের পর তারা আর বিশ্বমঞ্চে খেলেনি। এবার তাদের চতুর্থ বিশ্বকাপ।

ম্যাচের আগে ব্রুস বলেছেন, দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য এটি দারুণ অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে। তবে তার মতে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজেদের গেম প্ল্যান ধরে রাখা এবং গ্যালারির শব্দে প্রভাবিত না হওয়া। তিনি মেক্সিকোকে গ্রুপের সবচেয়ে শক্তিশালী দল বলেও উল্লেখ করেছেন।

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রস্তুতি পুরোপুরি মসৃণ ছিল না। ভিসা জটিলতায় সফরসঙ্গীদের কয়েকজনের পৌঁছাতে দেরি হয়েছে। এতে মেক্সিকোর উচ্চতা ও পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতিতে কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছে। তবে ব্রুস বলেছেন, তার দল ১০ দিন আগে মেক্সিকোতে পৌঁছেছে এবং উচ্চতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য সেটি যথেষ্ট।

দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাসে মেক্সিকো এগিয়ে। এখন পর্যন্ত চারবার দেখা হয়েছে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার। মেক্সিকো জিতেছে দুটি ম্যাচ, দক্ষিণ আফ্রিকা একটি। একটি ম্যাচ ড্র। সর্বশেষ দেখা হয়েছিল ২০১০ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে। সেদিন তশাবালালার গোলের জবাব দিয়েছিলেন রাফায়েল মার্কেস।

এবারের বিশ্বকাপের ফরম্যাটও নতুন। প্রথমবারের মতো খেলছে ৪৮ দল। ১২টি গ্রুপের প্রতিটি থেকে শীর্ষ দুই দল সরাসরি যাবে পরের ধাপে। তাদের সঙ্গে যোগ দেবে সেরা আট তৃতীয় স্থান পাওয়া দল। এরপর শুরু হবে নতুন যোগ হওয়া রাউন্ড অব ৩২। মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে গ্রুপ এ-তে আছে চেকিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া।

মেক্সিকোর জন্য তাই উদ্বোধনী ম্যাচে জয় খুব গুরুত্বপূর্ণ। ঘরের মাঠে প্রথম ম্যাচ জিতলে শুধু তিন পয়েন্ট নয়, পুরো টুর্নামেন্টের আবহ বদলে যেতে পারে। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার লক্ষ্য হবে শুরুতেই স্বাগতিকদের চাপে ফেলা। ২০১০ সালে তারা মেক্সিকোকে জিততে দেয়নি; এবার সেই স্মৃতিকে অনুপ্রেরণা করতেই পারে বাফানা বাফানা।

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ সব সময় শুধু ফুটবল নয়, আবেগেরও পরীক্ষা। গ্যালারির চাপ, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের উন্মাদনা, বিশ্বজুড়ে নজর—সব মিলিয়ে খেলোয়াড়দের স্নায়ু ধরে রাখতে হয়। এই জায়গাতেই মেক্সিকোর অভিজ্ঞতা ও দক্ষিণ আফ্রিকার শৃঙ্খলার লড়াই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

ম্যাচ তথ্য

ম্যাচ: মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা

টুর্নামেন্ট: ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬, গ্রুপ এ

ভেন্যু: এস্তাদিও আসতেকা, মেক্সিকো সিটি

সময়: বাংলাদেশ সময় রাত ১টা

মেক্সিকোর শেষ পাঁচ ম্যাচ: জয়, জয়, জয়, ড্র, ড্র

দক্ষিণ আফ্রিকার শেষ পাঁচ ম্যাচ: ড্র, ড্র, হার, ড্র, হার

মেক্সিকোর সম্ভাব্য একাদশ

রাউল রাঙ্গেল; হেসুস গায়ার্দো, ইয়োহান ভাসকেস, সেসার মন্তেস, ইসরায়েল রেয়েস; ব্রায়ান গুতিয়েরেস, এরিক লিরা, আলভারো ফিদালগো; হুলিয়ান কিনিওনেস, রবার্তো আলভারাদো, রাউল হিমেনেস।

দক্ষিণ আফ্রিকার সম্ভাব্য একাদশ

রনওয়েন উইলিয়ামস; খুলিসো মুদাউ, ইমে ওকন, এমবেকেজেলি এমবোকাজি, অব্রে মোদিবা; তেবোহো মোকোয়েনা, স্ফেফেলো সিথোলে, থালেন্তে মবাথা; তশেপাং মোরেমি, লাইল ফস্টার, ওসউইন অ্যাপোলিস।




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন