বৃহস্পতিবার । ২৫শে জুন, ২০২৬ । ১১ই আষাঢ়, ১৪৩৩

সব বাহিনী দিয়ে তদন্ত করে ১ টাকার দুর্নীতি বের করতে পারলে ইস্তফা দেবো: হাসনাত

গেজেট প্রতিবেদন

সব বাহিনীর মাধ্যমে তদন্ত করে নিজের বিরুদ্ধে এক টাকার দুর্নীতির প্রমাণ দিতে পারলে জাতীয় সংসদ থেকে ইস্তফা দেয়ার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনাকালে সরকার দলীয় সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে এই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন তিনি।

এদিন সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। অধিবেশন চলাকালে বাজেটের ওপর আলোচনার একপর্যায়ে বাজেটের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বক্তব্য দেন হাসনাত আবদুল্লাহ। এ সময় বাজেটে বরাদ্দ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ তার জন্য যেন তার এলাকার মানুষকে কোনোভাবে বঞ্চিত না করা হয় এই আহ্বান জানান।

পরবর্তীকালে বাজেটের ওপর বক্তব্য দেন কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল। তবে এরপর বাজেটের ওপর নিজের বক্তব্য উপস্থাপনকালে হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যের প্রসঙ্গ টানেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান।

তিনি বলেন, ‘আমি আবুল হাসনাত আবদুল্লাহর একটি প্রসঙ্গ, যে আলাপটি তিনি করেছেন সেটি হলো- বাজেটে এবার তাকে আটকে দেয়া হবে কিনা। আপনাকে টাকা দেয়া হবে না-তো। আপনার এলাকায় টাকা দেয়া হবে, এলাকার মানুষের জন্য টাকা দেয়া হবে। সেজন্য আপনি ইন্টেরিম গর্ভনমেন্টে (অন্তর্বর্তী সরকারে) যেভাবে যেভাবে পেয়েছেন, আমরা অনেককিছু শুনি, এলিগেশন আদান-প্রদানে অনেক কিছু বলা যায়। সেভাবেই চলবে হয়তো, কেননা জনগণের জন্যই সেই টাকা দেয়া হবে। কোনো ব্যক্তিকে দেয়া হয় না। কোনো এমপির আলাদা করে বরাদ্দ নিয়ে আমরা কিছু করি না।’

এরপর আরও একজন সংসদ সদস্যের বাজেটের ওপর বক্তব্যে শেষে ২৭৪ বিধি অনুসারে ব্যক্তিগত কৈফিয়তের জন্য দাঁড়ান হাসনাত আবদুল্লাহ। পরে ডেপুটি স্পিকার তাকে ১ মিনিট সময় দিলে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমি আমার বক্তব্যের কোথাও এই শব্দ উচ্চারণ করিনি বা এই বাক্য বলিনি যে, আমাকে যেন বরাদ্দ বঞ্চিত না করা হয়। আমি বলেছি- আমার বক্তব্যের কারণে আমার এলাকার মানুষকে যেন কোনো কারণে বঞ্চিত না করা হয়।’

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আজকেও এই সংসদে আমরা দেখেছি জুলাই সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশ্য করে কিছু কথা বলা হয়েছে যে, আমরা আগে রিকশায় চড়তাম এখন আমরা গাড়িতে চড়ি। এই সংসদে আজকে সরকারে যারা আছে, আমি আপনাদের কাছে বিনিতভাবে অনুরোধ করবো- এখন সরকারের যে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আপনাদের নিয়ন্ত্রণে, ডিজিএফআই, এনএসআই, পুলিশ, মিলিটারি সবাই আপনাদের নিয়ন্ত্রণে। আমি আপনাদের কাছে অনুরোধ করবো- আপনাদের মতো দায়িত্বশীল জায়গা থেকে এলিগেশনের টোনে এলিগেশন না দিয়ে আপনারা তদন্ত করে ১ টাকার দুর্নীতি, ১ টাকার কোনো ধরনের অসৎ উপায়ের কোনো ধরনের প্রমাণ দিতে পারলে আমরা এই সংসদ থেকে ইস্তফা দেবো।’

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন