বৃহস্পতিবার । ৯ই এপ্রিল, ২০২৬ । ২৬শে চৈত্র, ১৪৩২
পার্থের বক্তব্যের কড়া জবাব দিলেন হাসনাত

যারা সংবিধান রক্ষার দোহাই দিয়ে টেবিল চাপড়াচ্ছেন, তারা কি বেগম জিয়াকেই অপমান করলেন না?

গেজেট প্রতিবেদন

যারা বিদ্যমান সংবিধান ছুড়ে ফেলতে চান, তাদের ‘স্বাধীনতাবিরোধী’ হিসেবে চিহ্নিত করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাত (হাসনাত আব্দুল্লাহ)। তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছেন, আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও বলেছিলেন—জনতার সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে এই সংবিধান ছুড়ে ফেলা হবে। যারা আজ সংসদে সংবিধান রক্ষার দোহাই দিয়ে টেবিল চাপড়াচ্ছেন, তারা কি এর মাধ্যমে বেগম জিয়াকেই অপমান করলেন না?

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জাতীয় সংসদে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ শীর্ষক বিষয়ে নির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে ক্ষমতাসীন বিএনপির জোট শরিক বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ তার বক্তব্যে সংবিধান ছুড়ে ফেলার সমর্থকদের কড়া সমালোচনা করেন, যার প্রেক্ষিতে হাসনাত আব্দুল্লাহ এই পাল্টা বক্তব্য দেন।

বক্তব্যের শুরুতে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘কিছুক্ষণ আগে মাননীয় সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থ যখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন, উনি সংবিধান যারা ছুড়ে ফেলতে চায় তাদের স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গে অ্যালাইন (চিহ্নিত) করলেন। আর ট্রেজারি বেঞ্চের (সরকারি দলের বেঞ্চ) মাননীয় মন্ত্রীরা সেটাতে টেবিল চাপড়ে সমর্থন দিলেন। কিন্তু গণতন্ত্রের জন্য আপসহীন লড়াই করা বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন— যেদিন জনতার সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে, সেদিন এই সংবিধানকে ছুড়ে ফেলা হবে। ট্রেজারি বেঞ্চের অনেক মন্ত্রী সারাজীবন বেগম জিয়ার সাথে রাজনীতি করেছেন।

আজ যখন তারা সংবিধান ছুড়ে ফেলার বিপক্ষে হাততালি দিচ্ছেন, তখন কি তারা বেগম জিয়াকে অপমান করছেন না? এটা তারা ভেবে দেখবেন।’

আন্দালিব রহমান পার্থের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘উনি ক্লাস এইট-নাইন লেভেলের ডিবেট করেছেন। উনি বলেছেন ৭২-এর সংবিধানের কিছু বিষয় মেনেছেন, কিছু মানেননি। অর্থাৎ কেবল ওই অংশটুকুই মানছেন যা উনাদের পক্ষে যায়।

যারা এই ধরনের প্রকৃতিসম্পন্ন, তারা মূলত সুবিধাবাদী। কখনো সাংবিধানিক, কখনো অসাংবিধানিক— এমন দ্বিমুখী নীতি চলে না।’

সংবিধানের আইনি জটিলতা তুলে ধরে হাসনাত আব্দুল্লাহ প্রশ্ন তোলেন, ‘যদি আমরা এই সংবিধানকে আক্ষরিকভাবে মেনে চলি, তবে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতাই তো প্রশ্নবিদ্ধ হয়। চব্বিশের ৬ আগস্ট অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে তাকে নিয়োগ দেওয়ার কথা।

সেদিন কোন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, তা অ্যাটর্নি জেনারেল জানাবেন কি? তখনকার প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান তখন কোথায় ছিলেন?’

বেগম জিয়ার কারামুক্তির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘এই সংবিধানকে যদি বাইবেল বা গসপেল ধরে নেই এবং ভ্যাটিকান সিটির মতো দেশ চালাতে চাই, তবে ৬ আগস্ট বেগম জিয়া জেল থেকে বের হতে পারতেন না। তিনি জেল থেকে বের হয়েছিলেন ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ও জনরায়ের ভিত্তিতে, বিদ্যমান সংবিধানের ভিত্তিতে নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘গাং পার হইলে মাঝি কোন দুলাভাই— এমন আচরণ করবেন না। গত ১৭ বছর আপনাদের নেতা-কর্মীরা ধানক্ষেতে ঘুমিয়েছে, মহাসচিব কান্নাকাটি করেছেন। ফ্যাসিবাদবিরোধী সব রাজনৈতিক দলের রক্ত, শ্রম ও ঘামের বিনিময়ে হাসিনার পতন হয়েছে। এই জনরায় কোনো কিতাবের কাছে মাথা নত করবে না।’

সংবিধান সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে হাসনাত বলেন, ‘দেশের ৬৮ শতাংশ মানুষ এই সংবিধানের কাঠামোগত পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে। আন্দালিব রহমান পার্থ সাহেব বলেছেন—অর্ডারে নাকি সংস্কার পরিষদের কথা নেই। উনি যদি একটু পরিশ্রম করে একটা পাতা উল্টাতেন, তবেই দেখতে পেতেন—সেখানে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা স্পষ্ট বলা আছে।’




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন