মঙ্গলবার । ১৭ই মার্চ, ২০২৬ । ৩রা চৈত্র, ১৪৩২
জামায়াতের অভিযোগ

স্থানীয় সরকার প্রশাসনে দলীয় প্রশাসক নিয়োগ জুলাই স্পিরিটের অবজ্ঞার শামিল

গেজেট প্রতিবেদন

সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তকে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছে জামায়াতে ইসলামী। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, এসব নিয়োগে দলীয় বিবেচনাকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে, যা জুলাইয়ের স্পিরিটের পরিপন্থী।

তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার প্রত্যাশা থাকলেও সরকার সে পথে না গিয়ে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে। গত ২২ ফেব্রুয়ারি ছয়টি এবং ২৪ মার্চ আরও পাঁচটি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব সিদ্ধান্ত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে উপেক্ষা করেছে।

মাওলানা আবদুল হালিম অভিযোগ করেন, নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে জাতীয় নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী ও দলীয়ভাবে সুবিধাবঞ্চিত ব্যক্তিরা রয়েছেন, যা জনমতের প্রতিফলন নয়। একইভাবে গত ১৫ মার্চ ৪২টি জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগেও দলীয় প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে বলে তিনি দাবি করেন। তার মতে, এসব পদক্ষেপের ফলে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং ভবিষ্যৎ স্থানীয় নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাম্প্রতিক প্রশাসনিক পরিবর্তন নিয়েও জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। কিছু ক্ষেত্রে যোগ্যতার পরিবর্তে দলীয় বিবেচনায় উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগ দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান পরিবর্তন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ পদে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত ছিল। তার দাবি, এ ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি। সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক চর্চা বজায় রাখতে জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতি সমুন্নত রাখতে হবে।

পরাজিত প্রার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়ে সরকার কার্যত কোটাভিত্তিক নিয়োগের সংস্কৃতি চালু করছে বলে অভিযোগ করে মাওলানা হালিম বলেন, জুলাইয়ের যে স্পিরিট ছিল ‘কেটা না মেধা’ সেই মেধাকে উপেক্ষা করছে সরকার। এ ধরনের পদায়ন গণতান্ত্রিক রীতি ও জনমতের প্রতি অবজ্ঞা এবং রাজনৈতিক পুনর্বাসনের একটি কৌশল।

তিনি অভিযোগ করেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে শফিকুল ইসলাম মিল্টন এবং খুলনা সিটি করপোরেশনে নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে, যারা নির্বাচনে পরাজিত হয়েছিলেন। তার ভাষ্য, জাতীয় নির্বাচনের অল্প সময়ের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন না দিয়ে এ ধরনের নিয়োগ সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
তিনি বলেন, গত ১৮ বছর ধরে যে স্বৈরাচারী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলন হয়েছে, বর্তমান সরকার সেই একই পথে হাঁটছে। জনমতের তোয়াক্কা না করে দলীয় ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হচ্ছে, যা জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের চেতনার পরিপন্থী।

জেলা পরিষদের নিয়োগ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধাসহ কয়েকটি জেলায় জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীরা জয়ী হলেও সেখানে পরাজিতদের প্রশাসক করা হয়েছে। গাইবান্ধা-৩ আসনে পরাজিত এক নেতাকে জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়াকে তিনি জনমতের অবমাননা বলে উল্লেখ করেন।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকার যদি জনমতের তোয়াক্কা না করে দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন চালিয়ে যায়, তাহলে রাজপথে আন্দোলন ও প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জাহিদুর রহমান ও প্রচার বিভাগের সহকারী মুজিবুল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন