জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের বিষয়টি আদালতের কাঁধে চাপিয়ে দেওয়া সঠিক নয় বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির নেতারা বলেছেন, গণভোটে পাস হওয়া এই বিষয় এখন জাতীয় সংসদে আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত।
সোমবার (২ মার্চ) রাত ১০টায় রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে এ বক্তব্য দেন নেতারা।
ব্রিফিংয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে পাস হয়েছে।
আগামী ১২ মার্চ জাতীয় সংসদের অধিবেশন বসবে, সেখানে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন।
তিনি অভিযোগ করেন, সংসদের বিষয় আদালতে নিয়ে গিয়ে উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা করা হচ্ছে, যা সঠিক নয়।
অতীতের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করার ফলেই দেশে দীর্ঘমেয়াদি সংকট তৈরি হয়েছিল। এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে, সে আহ্বান জানান তিনি।
এসময় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মো. মনির জানান, সোমবার দুটি রিট পিটিশনের শুনানি হয়েছে। একটি জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫ ও সাংবিধানিক সংস্কার সভা গঠন নিয়ে, অন্যটি গণভোটের প্রশ্ন ও সনদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে।
তিনি বলেন, গণভোট হয়ে গেছে, মানুষ মত দিয়েছে। এখন এই প্রশ্নকে চ্যালেঞ্জ করা মানে গণভোটের ফলাফলকেই চ্যালেঞ্জ করা।
রিটের পেছনে সরকারের ইন্ধন রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, সংসদ বসতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকতে হঠাৎ রিট দায়েরের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে।
শিশির মনির বলেন, জুলাই সনদ একটি উচ্চমাত্রার রাজনৈতিক প্রশ্ন। ডকট্রিন অব পলিটিক্যাল কোয়েশ্চন অনুযায়ী এ ধরনের বিষয় আদালতের বিবেচনার বাইরে থাকা উচিত।
তিনি আরও বলেন, গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একই দিনে হয়েছে। একটিকে বৈধ রেখে অন্যটিকে অবৈধ বলা যায় না।
বিচার বিভাগের নিয়োগ প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি গণভোট বা অন্তর্বর্তী সরকার অবৈধ হয়, তাহলে এ সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া বিচারকদের অবস্থান কী হবে?
জামায়াত নেতারা বলেন, রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতেই হওয়া উচিত। বিচার বিভাগের ওপর চাপ সৃষ্টি করে কোনো সিদ্ধান্ত আদায় করা ঠিক হবে না।
দ্রুত জুলাই জাতীয় সনদ কার্যকর করারও আহ্বান জানান তারা।
খুলনা গেজেট/এনএম

