বৃহস্পতিবার । ৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ২২শে মাঘ, ১৪৩২

আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকে ভারতের সঙ্গে সম্প‌র্কিত বঙ্গভবন : জামায়াত

গেজেট প্রতিবেদন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে দলটি।

জামায়াতে ইসলামের দাবি, এই সাইবার হামলার সঙ্গে ভারতের তৈরি একটি ম্যালওয়্যারের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে এবং সেই ম্যালওয়্যার ছড়াতে ব্যবহৃত হয়েছে বঙ্গভবনের সরকারি ই-মেইল সার্ভার।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন দলটির কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য প্রকৌশলী মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম।

তিনি জানান, গত ৩১ জানুয়ারি জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয় এবং সেখান থেকে নারীদের নিয়ে আপত্তিকর ও বিভ্রান্তিকর পোস্ট দেওয়া হয়। পরবর্তীতে একই পোস্ট ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদের ফেসবুক পেজ হ্যাক করে শেয়ার করা হয়।

জামায়াতের আইটি টিম দ্রুত বিষয়টি শনাক্ত করে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলো রিকভার ও পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে আনে বলে জানান তিনি।

সিরাজুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর জামায়াতবিরোধী বিভিন্ন পক্ষ বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক অপপ্রচার চালায়। এর মধ্যেই আবার জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে মনগড়া ব্যাখ্যাসহ একটি পোস্ট দেওয়া হয়, যা রাত সাড়ে ৯টার দিকে শনাক্ত করে মুছে ফেলা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, বঙ্গভবনের সরকারি ই-মেইল ঠিকানা assistantprogrammer@bangabhaban.gov.bd থেকে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ একাধিক ঠিকানায় একটি ম্যালওয়্যারযুক্ত ই-মেইল পাঠানো হয়। ফরেনসিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ওই ই-মেইলের অরিজিন ছিল bcc.gov.bd এবং সার্ভার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে bangabhaban.gov.bd।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ফিশিং ম্যালওয়্যারটি বিশ্লেষণ করে জানা গেছে এটি ভারতের তৈরি। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে তৈরি এই ম্যালওয়্যার পরবর্তীতে বাংলাদেশে প্রবেশ করে ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে কতগুলো ডিভাইস এরই মধ্যে হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রণে গেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় এবার শুধু সাধারণ ডায়েরি নয়, সাইবার আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বঙ্গভবনের পক্ষ থেকেও বিষয়টি তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গৃহীত পদক্ষেপ জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।

সাইবার নিরাপত্তা প্রসঙ্গে সিরাজুল ইসলাম বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে হ্যাকিং শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে আনতে পারা জামায়াতের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার প্রমাণ। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, সরকারি দপ্তরে বসে যারা এ ধরনের অপতৎপরতায় জড়িত, তারা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের অপব্যবহার করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের কর্মীবাহিনী এই সাইবার হামলার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে জামায়াত দৃঢ়ভাবে মনে করে। তবে এ ধরনের অপচেষ্টায় দলটির জনপ্রিয়তা বা রাজনৈতিক অবস্থান ক্ষুণ্ন করা যাবে না।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন