২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে হাসিনা সরকারের জংলি শাসনের অবসান হয়। উৎখাতের পর ঘনিষ্ঠ মিত্র ভারতে নির্বাসনে যেতে বাধ্য হন তিনি। আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাকর্মী প্রতিবেশি ভারতসহ বিভিন্ন দেশে পালিয়ে যান। দলটির দাবি অনুযায়ি ১০ হাজারের ওপরে নেতাকর্মী রয়েছে কারাগারে।
অভ্যুত্থানের পর বর্তমান সরকার আওয়ামী লীগের সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকান্ড স্থগিত করেছে। এক হাজার চার শ’ মানুষ খুনের অভিযোগ রয়েছে হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে। বিশেষ ট্রাইব্যনালে তাঁর অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদন্ডের রায় ঘোষণা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যালটে নৌকা প্রতীক রাখেনি। এমন পরিস্থিতিতে দিল্লী থেকে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক এই স্বৈরশাসক। কেউ কেউ তা সমর্থন করলেও ভোটের মাঠে এর প্রভাব তেমন পড়েনি। নৌকা প্রতীক না থাকায় এলাকাভিত্তিক পছন্দের প্রার্থীদের পক্ষে অনেক নেতাকর্মী গোপনে কাজ করছেন। আবার অনেকে প্রকাশ্যে পছন্দের প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন কায়দায় বলার চেষ্টা করা হচ্ছে দলীয় সভানেত্রীর নির্দেশ ‘নো বোট, নো ভোট’। অর্থাৎ নৌকা নেই যে কারণে কোন ভোট দেওয়ার দরকার নেই। পালিয়ে থেকে অনেক আওয়ামী লীগ নেতাও তাদের ভেরিফাই ফেসবুকে এ জাতীয় বক্তব্য প্রকাশ করছেন। ইতোমধ্যে ভোট বর্জনের দাবিতে বেশ কয়েক জায়গায় লিফলেট বিতরণও করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ বিহীন নির্বাচন বন্ধের দাবিতে কিছু জায়গায় ঝটিকা মিছিলও হয়েছে।
খুলনার আড়ংঘাটা থানার লতা গ্রামের আওয়ামী লীগ সমর্থক এক গৃহবধু নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শেখ হাসিনা চলে যাওয়ায় কষ্ট পেয়েছি। ভোটের মাঠে যাওয়ারও ইচ্ছা নেই। তবে দেশের সার্বিক অবস্থা এবং এলাকার কয়েক নেতার চাপে ভোট কেন্দ্রে যেতে হতে পারে। জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের অধিকাংশ নেতা এখনও আত্মগোপনে। তারা তাদের নেতাকর্মীদের ভোট কেন্দ্রে যেতে নানাভাবে নিরুৎসাহিত করছেন। তবে অনেক নেতাই প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তারা আবার নির্বাসিত বা পালিয়ে থাকা নেতাদের নির্দেশ অনেকটা মানছেন না। বাস্তবতার সাথে নিজেদের মানিয়ে চলার চেষ্টা করছে।
খুলনা-৩ আসনের দেয়ানা গাইকুড় এলাকার এক সময়ের প্রতাপশালী নেতা বলেন, তিন থানার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রভাবশালী প্রার্থীর পক্ষে পরোক্ষভাবে কাজ করছেন। অনেকে ওই প্রার্থীর পক্ষে প্রত্যক্ষভাবেও নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। ডুমুরিয়ার মাগুরাঘোনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতা বলেন, ৬ নম্বর মাগুরাঘোনা ইউনিয়নের দলীয় নেতারা বৈঠক করে খুলনা-৫ আসনের এক প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী কাজ শুরু করেছেন। গেল ৩ দিন আগে ওই প্রার্থীর পক্ষের ৩ শীর্ষ নেতার সাথে তাদের বৈঠক হয় বলে তারা জানান।
এদিকে অধিকাংশ সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগের ভোট নিজেদের পকেটস্থ করতে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ অনেক দল নানা চটকদার প্রলোভন দিচ্ছেন। অনেক প্রার্থী নির্বাচন পরবর্তী কোন প্রকার ঝামেলা হবে না, এমন প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছেন। প্রার্থী ও তাদের নেতাদের আশ্বাসে মাঠ পর্যায়ের অনেক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ভোটের মাঠে সরব রয়েছে। সব মিলিয়ে একটি ভিন্ন ধর্মী নির্বাচন হতে যাচ্ছে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি।
খুলনা গেজেট/এনএম



