জনগণ রঙিন জামা পরা ফ্যাসিবাদকে লাল কার্ড দেখিয়েছে। কেউ যদি আবার নতুন রূপে ফ্যাসিবাদ নিয়ে আসে, জনগণ তাকে প্রত্যাখ্যান করবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে পীরের বাগ কাঁচাবাজার সংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত নির্বাচনী পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই যুবকরাই দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। যুবক বন্ধুরা, তৈরি হও। আমি চাই বাংলাদেশ নামক এই উড়োজাহাজের ককপিটে তোমরা বসো। আর আমি নিজে সেই উড়োজাহাজের একজন যাত্রী হয়ে যাত্রীর আসনে বসে থাকতে চাই। তোমরাই দেশ চালাবে।
তিনি বলেন, “অতীতের পচা, দুর্গন্ধময় যে রাজনীতি ছিল, তা থেকে যুবকরা বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে, ইনশাল্লাহ। বলবেন না, আপনি আমাদের হাতে দিয়ে নিজে বিশ্রামে চলে গেলেন। না। আমি তোমাদের সাথেই থাকবো। বিশ্রামে নয়, যুবকদের কাতারেই লড়াই করব ইনশাআল্লাহ।”
সাম্প্রতিক ঘটনাবলি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কিছু ব্যক্তি আমাদের মায়েদের অপমান করেছে। আমরা বেসামাল হইনি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনেই প্রতিবাদ করেছি। আজ জনগণ রঙিন জামা পরা ফ্যাসিবাদকে লাল কার্ড দেখিয়েছে। কেউ যদি আবার নতুন রূপে ফ্যাসিবাদ নিয়ে আসে, জনগণ তাকে প্রত্যাখ্যান করবে।”
তিনি আরও বলেন, “জুলাইয়ের আন্দোলন শেষ হয়ে যায়নি। জুলাইয়ের ১৫ তারিখ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যা ঘটেছে, সেই দিন আমাদের কলিজা ছিন্নভিন্ন হয়েছে। মেয়েদের গায়ে যখন হাত দেওয়া হয়, কোনো মায়ের সন্তান তা সহ্য করতে পারে?”
তিনি বলেন, “মায়ের সন্তানরা বেঁচে থাকতে মায়ের অপমান মেনে নেবে না। আমাদের মায়ের ইজ্জতের দাম আমাদের জীবনের চেয়েও বেশি। জীবন দিতে পারি, কিন্তু মায়ের সম্মান কারও হাতে তুলে দিতে পারি না।”
নিজেকে ঘিরে গুজব প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির বলেন, “আজ আমার নামে গুজব ছড়ানো হচ্ছে, আক্রমণ শুরু হয়েছে। এতো পচা, এতো নোংরা চিন্তা কীভাবে করে? যাদের নিজের চরিত্রে কোনো সম্পদ নেই, তারাই অন্যের চরিত্র নিয়ে কুৎসা রটায়।”
তিনি বলেন, “আজ দুই সম্প্রদায়ের মানুষই ভীষণভাবে জেগে উঠেছে। একটি তরুণ যুবসমাজ জেগে উঠেছে। এটাই আমার বাংলাদেশ। এটাই নতুন বাংলাদেশ। ১৩ তারিখের পরের বাংলাদেশ, ইনশাল্লাহ।”
মায়েদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আজ মায়েরাও ইনসাফের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। আপনারা দেখেছেন, আমিও দেখেছি। অনেক মা আজ মিডিয়ার সামনে স্পষ্টভাবে বলেছেন— আমরা আর ঘরে বসে থাকব না।”
একজন নারীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, “একজন মা, একজন বোন নিজের পছন্দের পোশাক পরে রাস্তায় নেমেছেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়েছে, আগামী বাংলাদেশ কার হাতে দেখতে চান? তিনি বলেছেন, জামায়াতের হাতে। তাকে বলা হয়েছে, পোশাক বদলাতে হবে। তিনি জবাব দিয়েছেন—‘আমি রাস্তায় নেমেছি, ভয় পাই না। ভয় পেলে তাদের পাওয়া উচিত।’”
তিনি আরও বলেন, “জিজ্ঞেস করা হয়েছে, কেন জামায়াত চান? তিনি বলেছেন, জামায়াত এলে দেশ ঠিক হবে। সন্ত্রাস, গুন্ডামি, ভোটকেন্দ্র দখল, জনগণের ভোট পকেটে ঢোকানো— এসব বন্ধ হবে।”
শেষে যুবকদের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা সবাই মায়ের সন্তান। কেউ বাপের পেটে জন্মাইনি, কেউ বাপের দুধ খাইনি, সবাই মায়ের বুকেই বড় হয়েছি। আর যুবকদের আমি বলে দিচ্ছি— তৈরি হয়ে যাও। হাত মজবুত করো। ইনশাল্লাহ, এই বাংলাদেশ তোমাদের হাতেই গড়ে উঠবে।”



