চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন জোবরা গ্রামবাসী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুইদিন ধরে সংঘর্ষের ঘটনায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ২০০ শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন। এরমধ্যে ২ শিক্ষার্থী গুরুতর হওয়ায় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
রোববার (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে ৭৮ জন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে, ১০০ জন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে এবং ২২ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। আহত শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগের মাথায় আঘাত লেগেছে, তবে অনেকের পিঠ, বুক ও হাতেও জখম রয়েছে। চমেক হাসপাতালে আহতরা ২৫, ২৬, ২৭ এবং ক্যাজুয়াল্টি ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন।
আইসিইউতে ভর্তি থাকা দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে একজন হলেন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ছাত্র নাইমুর রহমান, যিনি বেসরকারি ন্যাশনাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অন্যজনের নাম জানা না গেলেও তিনি পার্কভিউ হাসপাতালে রয়েছেন।
চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিন জানিয়েছেন, তাদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৭৮ জন শিক্ষার্থীর বেশিরভাগই মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত। তাদেরকে সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হাটহাজারী থেকে এক ট্রাকে করে দেশীয় অস্ত্র এনে স্থানীয় আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এছাড়া, বিএনপি নেতা উদয় কুসুম বড়ুয়া এ হামলায় উস্কানি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীরা এ ঘটনার জন্য চবি প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর ব্যর্থতাকে দায়ী করেছেন।
চবি’র স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী রাজন বলেন, শনিবার রাতে ও রোববার দুপুরে হাটহাজারী বাজার থেকে ট্রাকে করে চাপাতি, দা, কিরিচ, বঁটি ও রামদা আনা হয়। এসব অস্ত্র নিয়ে অপরিচিত সন্ত্রাসীরা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে। তারা শিক্ষার্থীদের ধানি জমিতে তাড়া করে এবং বাসা থেকে বের করে ছাদে নিয়ে ফেলে দেয়। অনেককে পড়ার টেবিল থেকে টেনে এনে পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয় এবং পাথর নিক্ষেপ করা হয়।
মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সবুজ জানান, হামলাকারীদের হাতে রামদা, কিরিচ, হকি স্টিক থাকলেও শিক্ষার্থীদের হাতে কোনো অস্ত্র ছিল না। প্রশাসনের সামনেই হামলা হলেও তারা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে।
আইইআর বিভাগের শিক্ষার্থী তানসিকুর রহমান অভিযোগ করেন, জোবরা গ্রামবাসী পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে, যেখানে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতারা জড়িত। এমনকি বিএনপির নেতা উদয় কুসুম বড়ুয়াও হামলায় উস্কানি দিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, শনিবার রাতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হলেও রোববার ভোরে তারা ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যায়, যা তাদের কাছে বোধগম্য নয়।
জেলা সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে জেলা সিভিল সার্জন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।