বৃহস্পতিবার । ৯ই এপ্রিল, ২০২৬ । ২৬শে চৈত্র, ১৪৩২
পরিবহন খরচ বাড়ায় বাইরের ক্রেতারা আসছে না শ্যামনগরে

তরমুজের ফলন ভালো, তবুও শঙ্কায় চাষিরা

মাহমুদুল ফিরোজ বাবুল, শ্যামনগর

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে তরমুজের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকরা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। অনুকূল আবহাওয়া এবং কৃষকদের পরিশ্রমে শুরুতে আশাবাদী ছিলেন চাষীরা। তবে জ¦ালানি সংকটের কারণে পাইকারি ক্রেতারা বাইরের জেলা থেকে আসতে না পারায় চরম ক্ষতির আশঙ্কায় পড়েছেন কৈখালীর চাষীরা। ফলে শতাধিক চাষি আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয় কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, কৈখালী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল ও আবাদি জমিতে এ বছর ব্যাপক পরিসরে তরমুজ চাষ করা হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি হওয়ায় মাঠজুড়ে সারি সারি তরমুজ থাকলেও বাজারজাতকরণে কৃষকরা পড়েছেন বিপাকে। তরমুজ চাষি মনজুর জানান, প্রতি বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করতে বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকসহ বিপুল খরচ হয়েছে। অনেকে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছেন। মৌসুম শুরুর দিকে ভালো দামের আশা থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই আশা ভেস্তে গেছে।

কৈখালী ইউনিয়নের চাষি আবুল হোসেন মোল্লা বলেন, “প্রতি বছরই বাইরের পাইকাররা এসে খেত থেকেই তরমুজ কিনে নিয়ে যেত। কিন্তু এবার জ্বালানি সংকটের কারণে কেউ আসতে পারছে না। ফলে আমরা কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি, এতে লাভ তো দূরের কথা খরচই ওঠবে না।”

আরেক চাষি আব্দুল গনি মোড়ল বলেন, “এত ভালো ফলন জীবনে কমই দেখেছি। কিন্তু বিক্রি করতে না পারায় অনেকেই হতাশ। খেতেই তরমুজ পড়ে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।”

চাষি মোমিন আলি কারিকর বলেন, “পরিবহন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। নিজেরা ভাড়া করে পণ্য পাঠানো আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। আবার ক্রেতাও নেই। দুই দিক থেকেই ক্ষতির মধ্যে আছি।

কৈখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রহিম বলেন, “কৃষকরা খুব কষ্ট করে তরমুজ চাষ করেছেন। কিন্তু জ্বালানি সংকটের কারণে বাইরের ক্রেতারা আসতে পারছেন না। এতে কৃষকরা ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি এবং দ্রুত সমাধানের জন্য অনুরোধ করেছি।”

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা দেবাশীষ জানান, এ বছর তরমুজের ফলন অত্যন্ত ভালো হয়েছে। তবে বাজার ব্যবস্থাপনায় কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে, যার অন্যতম কারণ জ্বালানি সংকট। আমরা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছি এবং বিকল্প বাজার ব্যবস্থার বিষয়েও কাজ করছি।

দ্রুত জ্বালানি সমস্যার সমাধান না হলে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হবেন কৃষকরা এমনটা মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন