সুন্দরবনের অভয়ারণ্য এলাকায় ঢুকে অবৈধভাবে মাছ শিকারের অভিযোগে ৮ জেলেকে আটক করেছে বনবিভাগের সদস্যরা। শনিবার (২৯ নভম্বর) রাতে ও রোববার (৩০ নভম্বর) দিনব্যাপী পৃথক অভিযানে পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের আওতাধীন হলদেবুনিয়ার গাড়াল, ছায়ানদী, আমড়াতলী থেকে তাদেরকে আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে ছয়টি নৌকা, এক হাজার ফুটেরও বেশী দড়ি-বড়শীসহ আনুমানিক ৩০ কেজি সাদা মাছ জব্দ করা হয়।
আটক জেলেরা হলেন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কালিঞ্চি গ্রামের রফিকুল ইসলাম (৪২), আজগর আলী (৩৮), রবিউল ইসলাম (৩৪), চিংড়িখালী গ্রামের নুর ইসলাম (৪৭), কৈখালী গ্রামের আব্দুস সালাম (৫৫), আব্দুল জলিল সরদার (৫৪), মনতাজ আলী (৭০) ও সাহেবখালী গ্রামের ইসমাইল সরদার (৫৬)।
বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, বেশ কয়েকজন জেলে সুন্দরবনের অভয়ারণ্য এলাকায় ঢুকে অবৈধভাবে মাছ শিকার করেছে এমন খবরের ভিত্তিতে সাতক্ষীরা রেঞ্জের রেঞ্জার মোঃ ফজলুল হকের নেতৃত্বে বনবিভাগের সদস্যরা শনিবার রাতে ও রোববার সকালে হলদেবুনিয়ার গাড়াল, ছায়ানদী ও আমড়াতলী এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ৮ জেলেকে আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে ছয়টি নৌকা, এক হাজার ফুটেরও বেশী দড়ি-বড়শীসহ আনুমানিক ৩০ কেজি সাদা মাছ জব্দ করে বনবিভাগের সদস্যরা।
এদিকে সুন্দরবনের অভয়ারণ্য থেকে ৮ জেলেকে আটকের ঘটনায় স্থানীয় ইউপি সদস্য আজগর আলী বুলুসহ স্থানীয় সংবাদকর্মী পরিচয়ে বনকর্মীদের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দ্রুত সময়ে আটক জেলেদের জামিন না হলে রাস্তাঘাটে হেনস্থার পাশাপাশি নানাভাবে হয়রানি করা হবে বলে মুঠোফোনে তাদের হুমকি দেয়া হয়েছে বলে দাবি করেন বনকর্মীরা।
হলদেবুনিয়া টহলফাঁড়ির ইনচার্জ তানভীর হোসেন জানান, অভয়ারণ্য থেকে জেলেদের আটক কের মুন্সিগঞ্জে নেয়ার পর থেকে মুঠোফোনে কল দিয়ে তাদেরকে হুমকি দেয়া হচ্ছে। শুরুেত আজগর আলী বুলু হুমকি দেয়ার পর আরও কয়েকজন নিজেদের সংবাদকর্মী পরিচয় দিয়ে তাদেরকে রীতিমত শাসিয়েছে।
সাতক্ষীরা রেঞ্জের রেঞ্জার মোঃ ফজলুল হক জানান, অবৈধভাবে সুন্দরবন প্রবেশকারী বনজীবিসহ অভয়ারণ্যে যাওয়া জেলেদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে কিছু ব্যক্তি বনকর্মীদের হুমকি দিচ্ছে। এছাড়া গুটিকয়েক ব্যক্তি অনৈতিক সুবিধা আদায় করতে না পেরে নানাভাবে বনবিভাগকে টার্গেট করে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আইনগত পদক্ষেপ নিতে শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জের সাথে পরামর্শ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে অভিযোগের বিষয়ে আজগর আলী বুলু জানান, তার এলাকার কয়েকজন জেলে আটক হয়েছে। আটক জেলেদের স্বজনদের অনুরোধে তিনি ফোন করলেও কোন হুমকি দেননি। তবে কয়েকজন সাংবাদিক অভয়ারণ্যে নৌকা নিয়ে যাওয়ার অনুমতি না পেয়ে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন।
খুলনা গেজেট/এনএম

