নড়াইলের গ্রামীণ জনপদের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন না হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে রয়েছে এলাকার মানুষ। জেলার মোট সড়কের প্রায় ৬০ শতাংশ এখনও পাকা হয়নি। ফলে শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালি আর বর্ষাকালে কাদা-পানির কারণে চরম দুর্ভোগে পড়ে সাধারণ মানুষ।
সদর উপজেলার তুলারামপুর চরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মনোজিত বিশ্বাস বলেন, “বহু বছর ধরে তারা একই ধরনের রাস্তা ব্যবহার করছেন। নির্বাচনের সময় সড়ক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি মিললেও বাস্তবে খুব বেশি পরিবর্তন দেখা যায় না। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জীবদ্দশায় অন্তত গ্রামের রাস্তাটি পাকাকরণ হতে দেখবেন।”
মুলিয়া ইউনিয়নের ননীখির গ্রামের গোলক বিশ্বাস জানান, “বর্ষা মৌসুমে গ্রামের কাঁচা সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই ভোগান্তিতে পড়তে হয়। অনেক সময় কাদা এড়িয়ে চলার জন্য জুতা হাতে নিয়ে রাস্তা পার হতে হয়। দ্রুত সড়কটি পাকাকরণের দাবি জানান তিনি।
লোহাগড়া উপজেলার শালনগর ইউনিয়নের মণ্ডলবাগ গ্রামের বাবু মিয়ার মতে, ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি রাস্তা এখনও কাঁচা থাকায় বৃষ্টির সময় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়।
একইভাবে কালিয়া উপজেলার মাইলী ইউনিয়নের কাঠাধুরো গ্রামের মিকাইল হোসেন বলেন, “এলাকার সড়কগুলো সংস্কারের দাবি দীর্ঘদিনের হলেও কাক্সিক্ষত উন্নয়ন হয়নি।”
তুলারামপুর চরপাড়ার ধনঞ্জয় কুমার বলেন, “তাদের প্রজন্ম কাঁচা রাস্তার কষ্ট ভোগ করেই বড় হয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন এই দুর্ভোগে না পড়ে, সে জন্য দ্রুত উন্নয়ন প্রয়োজন।”
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, নড়াইল জেলায় মোট ৩ হাজার ২২৫ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ১ হাজার ৯৬১ কিলোমিটার কাঁচা এবং ১ হাজার ২৬৪ কিলোমিটার পাকা। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৬২ শতাংশ, লোহাগড়ায় ৬০ শতাংশ এবং কালিয়ায় ৫৮ শতাংশ সড়ক এখনও কাঁচা রয়েছে। এছাড়া নতুন করে ৯৪৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ১ হাজার ১০০টি সড়ক তালিকাভুক্তির জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আরও ২১৪টি সড়ক সরকারি তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
এ বিষয়ে এলজিইডি নড়াইলের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার ইকরামুল কবীর বলেন, “জেলার বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সড়ক উন্নয়নের কাজ চলমান রয়েছে।”
পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগোলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে কাঁচা ও পাকা সড়কের অনুপাত সমপর্যায়ে নিয়ে আসা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
গ্রামবাসীর প্রত্যাশা, বছরের পর বছর ধরে চলা এই দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে দ্রুত গ্রামীণ সড়কগুলো উন্নয়ন করা হবে, যাতে যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসে।
খুলনা গেজেট/এনএম

