Edit Content
খুলনা, বাংলাদেশ
শনিবার । ৩০শে আগস্ট, ২০২৫ । ১৫ই ভাদ্র, ১৪৩২
Edit Content

মেধাবী অর্পিতার স্বপ্নের ডানা মেলতে বাধা পিতার দারিদ্রতা

লোহাগড়া প্রতিনিধি

পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত অর্পিতা পড়েছেন নিজ গ্রামে, নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার শাহবাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এরপর ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হন পার্শ্ববর্তী কাশিপুর এ.সি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। সেই স্কুল থেকেই এসএসসিতে অংশ নিয়ে এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে অর্পিতা। বাড়ি থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরের এই স্কুলে প্রায়ই হেঁটেই যাতায়াত করতে হতো তাকে।

শুরু থেকেই লেখাপড়ায় ভালো ছিলেন। স্বপ্ন দেখতেন বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে পড়বেন, জানবেন মহাকাশের অজানা সব তথ্য। কিন্তু বিজ্ঞান বিভাগের ল্যাব ফি, টিউশন, কোচিংসহ নানা ব্যয় বহন করার সামর্থ্য নেই তার পরিবারের। তাই স্বপ্ন বদলাতে হয়। বিজ্ঞানের বদলে মানবিক বিভাগ বেছে নিয়েই মনোযোগ দিয়ে পড়তে শুরু করেন অর্পিতা বিশ্বাস। মানবিক বিভাগ নিয়ে অর্পিতা এসএসসিতে পেয়েছে জিপিএ-৫।

অর্পিতা নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার শাহবাজপুর গ্রামের মেয়ে। তাঁর বাবা অসীম কুমার বিশ্বাস একজন কৃষিশ্রমিক। অন্যের জমিতে হালচাষ, নিড়ানি দেওয়া, ধান কাটা, যে কাজ পান তাই করেন। পারিশ্রমিক যা পান তা দিয়ে তিন কন্যা ও স্ত্রীসহ পাঁচজনের সংসার চালানোই যেখানে কষ্টসাধ্য, সেখানে মেয়ের ভালোভাবে পড়াশোনার খরচ জোগানো প্রায় অসম্ভব।

অর্পিতা বলেন, “ছোটবেলা থেকে মহাকাশ সম্পর্কে জানার ভীষণ আগ্রহ ছিল আমার। ইচ্ছা ছিল, তাই বিজ্ঞান বিভাগে পড়ব। কিন্তু আমাদের পরিবারটা খুবই অসচ্ছল। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পড়ার জন্য যে আর্থিক সামর্থ্য প্রয়োজন, সেটা আমাদের ছিল না। বাধ্য হয়ে সিদ্ধান্ত নেই, মানবিকে পড়ব। সেখানেও সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি।”

শুধু বইয়ের পেছনেই নয়, জীবনযুদ্ধের প্রতিটি ধাপেই লড়াই করতে হয়েছে তাঁকে। কখনো বই-খাতা কেনার টাকা ছিল না, কখনো স্কুলে যাতায়াতের। অর্থের অভাবে ঠিকমতো প্রাইভেট পড়তেও পারেননি। নিজের পড়াশোনার খরচ চালাতে করেছেন টিউশনি।

অর্পিতার বাবা অসীম বিশ্বাস বলেন, “মেয়েটা আমার ছোটবেলা থেকেই খুব মনোযোগী। সব পরীক্ষায় ও ভালো ফল করিছে। ওরে কখনো পড়তে বলা লাগেনি। অভাবের সংসার হওয়ায় যে যত্ন নেওয়া দরকার, তা পারিনি। পড়াশোনার খরচ ঠিকমতো দিতে পারিনি। ও নিজেও প্রাইভেট পড়াইছে। কষ্ট করেই মেয়েটা আমার এ পর্যন্ত আইছে।”

জিপিএ-৫ পাওয়ার পর পরিবারের মধ্যে খুশির আবহ। কিন্তু সামনে আরও কঠিন পথ। কলেজে ভর্তি হওয়া, ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবন চালিয়ে যাওয়া-সবই নির্ভর করছে অর্থনৈতিক সহায়তার ওপর। স্থানীয়ভাবে কেউ এগিয়ে এলে কিংবা কোনো সংস্থা সহায়তার হাত বাড়ালে অর্পিতার স্বপ্ন আবার ডানা মেলতে পারে।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন