নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় এক নার্সের অপারেশন থিয়েটারে রোগীর সাথে টিকটক ভিডিও করার ঘটনায় তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর স্বাস্থ্য বিভাগ ওই ক্লিনিকের অপারেশন থিয়েটার সিলগালা করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার জয়পুর লাহুড়িয়া সড়কের পাশে অবস্থিত প্রত্যাশা ক্লিনিকে।
জানা গেছে, ওই ক্লিনিকের কর্মরত নার্স প্রিয়া অচেতন ও মুমূর্ষু রোগীকে নিয়ে টিকটক ভিডিও তৈরি করে তার টিকটক আইডিতে আপলোড করেন। ভিডিওটি প্রকাশের পর থেকেই স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও সমালোচনা শুরু হয়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে নানা মন্তব্য পাওয়া গেছে। আব্দুর রহমান নামে একজন লিখেছেন, ‘একটা মহিলাকে সিজার করছে, সে অজ্ঞান অবস্থায় আছে। আর তার সেলাই করা পেটের ভিডিও করে ছাড়ছে। এর বিরুদ্ধে অবশ্যই মামলা হওয়া উচিত।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নার্স প্রিয়া গণমাধ্যমকে বলেন, “আমি ভুল করেছি। এর জন্য দুঃখিত এবং ক্ষমাপ্রার্থী।” অপরদিকে প্রত্যাশা ক্লিনিকের মালিক সেলিমও ভুল স্বীকার করে প্রিয়াকে ক্ষমা করার অনুরোধ জানান।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে স্বাস্থ্য বিভাগ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অপারেশন থিয়েটার সিলগালা করে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আবুল হাসনাত, চিকিৎসক কৃষ্ণপদ বিশ্বাস, ইপিআই প্রকল্পের প্রধান সমন্বয়কারী প্রসান্ত ঘোষ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া, উপজেলা ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কাজী মুরাদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ বাপ্পিসহ অনেকে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ আবুল হাসনাত বলেন, “অপারেশন থিয়েটারের কর্মকান্ড প্রকাশ করা দণ্ডনীয় অপরাধ। মুমূর্ষু রোগীকে বেডে রেখে টিকটক করা সীমাহীন অপরাধ।”
খুলনা গেজেট/এনএম