বুধবার । ২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ । ১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩

বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন

গেজেট প্রতিবেদন

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা থানায় বিয়ের প্রলোভনে এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে জনি ওরফে রাজিম (২৮) নামের এক যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকার জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ (নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল) এর বিচারক জয়নাল আবেদীন আদালতে পলাতক আসামির অনুপস্থিতিতে এই রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত জনি ওরফে রাজিম ভেড়ামারা উপজেলার ষোলদাগ গ্রামের বাসিন্দা বাদশা মিয়ার ছেলে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় ও দুজনের মধ্যে গড়ে উঠা সম্পর্কের সূত্রে নিজেকে সেনাসদস্য পরিচয় দিয়ে আসামি জনি ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি রাতে একই উপজেলার বাসিন্দা বাদি তরুণীর বাড়িতে দেখা করেন। এসময় বাদির বাড়িতে বাবা মায়ের অনুপস্থিতির সুযোগে জনি বাদিকে ধর্ষণ করেন। এরপর থেকে আসামি জনি ওই তরুণীকে বিয়ে করার প্রলোভন দিয়ে অসংখ্যবার ধর্ষণের একপর্যায়ে বাদি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। বিষয়টি পারিবারিকভাবে জানাজানি হলে আসামি জনিকে বিয়ে করার জন্য চাপ দেওয়া হয়। এ সময় আসামি জনি নিজেকে সেনাসদস্য পরিচয় দিয়ে প্রমোশন নিয়ে তার অফিসে ঘুষ দেওয়ার কথা বলে ৮ লাখ টাকা দাবি করেন বাদির পরিবারের কাছে। এতে একমাত্র কন্যার জীবনকে সুখী করার কথা ভেবে বাদি প্রবাসী পিতা আসামির দাবিকৃত টাকাও দেন। এরপর থেকে আসামি বাদি বা তার পরিবারের সাথে সম্পূর্ণরূপে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন এবং বাদির গর্ভে তার সন্তান নয়, বাদি চরিত্রহীন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেন আসামি।

ইতোমধ্যে ২০২৩ সালের ২ মার্চ আসামির ঔরসে বাদির গর্ভে একটি পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করে। এতে উপায়ান্তর না পেয়ে ২০২৩ সালের ২২ জুনে বাদি কুষ্টিয়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি নালিশি মামলা করেন।

মামলাটির তদন্ত শেষে ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে প্রমাণিত হওয়ায় এজাহারনামীয় একমাত্র আসামির বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও প্রতারণার অভিযোগ এনে ভেড়ামারা থানার উপপুলিশ পরিদর্শক মিন্টু মিয়া ২০২৩ সালের ৩১ অক্টোবর আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি অ্যাড. আব্দুল মজিদ জানান, ভেড়ামারা থানার তরুণীকে ধর্ষণসহ প্রতারণার অভিযোগে আসামি জনি ওরফে রাজিমের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সাক্ষ্য শুনানি শেষে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ এক লাখ টাকার জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সাজা খাটার আদেশ দেন। আসামি জনি ২০২৩ সালের ১৫ জুলাই পুলিশের কাছে গ্রেপ্তার হয়ে কারাবাসে ছিলেন। পরবর্তীতের জামিনে বেরিয়ে অদ্যাবধি পলাতক আছেন বলেও জানান এই রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন