বৃহস্পতিবার । ২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ । ১০ই বৈশাখ, ১৪৩৩

এমপি আমির হামজাকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠালেন ছাত্রশক্তির নেতা

গেজেট প্রতিবেদন

কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর কথা বলে তাকে দেশ ও জাতির সামনে উপস্থাপন করায় কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজাকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়ে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) এনসিপির ছাত্রসংগঠন ছাত্রশক্তির কুষ্টিয়া জেলার সদস্য সচিব কুষ্টিয়া সদর উপজেলার চৌড়হাস এলাকার আই-ইয়াশ ইমন কুষ্টিয়া জজ কোর্টের আইনজীবী নুরুল ইসলামের মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশটি পাঠান।

নোটিশ সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানকে ফজু পাগল বলে আখ্যায়িত করে পাবনা মানসিক হাসপাতালে পাঠানোর কথা বলেছেন। একই সাথে সংসদ সদস্য ফজলুর রহমানকে কুকুর মারা ইনজেকশন দেওয়ার কথা বলেছেন এবং তাকে মিথ্যাবাদী বলে দেশ ও জাতির সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে। তাকে দেশ ও জাতির সামনে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছেন। আপনার এ রকম কার্যকলাপের ফলে বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানের বাংলাদেশ তথা আন্তর্জাতিকভাবে সম্মানহানি হয়েছে। যার ফলে উনি সামাজিক, আর্থিক ও মানসিকভাবে অপূরণীয়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

নোটিশে বলা হয়, নোটিশ প্রাপ্তির ১০ দিনের মধ্যে আপনার প্রদত্ত বক্তব্য সম্পর্কে লিগাল নোটিশের সন্তোষজনক জবাব প্রদান করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। অন্যথায় সমুদয় দায়দায়িত্ব আপনার ওপর বর্তাবে।

এ বিষয়ে ছাত্রশক্তির কুষ্টিয়া জেলার সদস্য সচিব আই-ইয়াশ ইমন বলেন, আমি অনেকদিন ধরেই এইটা দেখছি। এমপি আমির হামজা একটি দায়িত্বশীল চেয়ারে বসে কীভাবে এই ধরনের কথা বলতে পারেন। জনাব ফজলুর রহমান একজন সংসদ সদস্য এটা পরের কথা, তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তাকে নিয়ে এই ধরনের কটূক্তি কথাবার্তা বলতে পারেন না। তাকে কুকুর মারার ইনজেকশন দেবে। এই কথা শুনলে সবারই খারাপ লাগবে। সেই খারাপ লাগার জায়গা থেকে আমি এই নোটিশটি পাঠাই। যেন পরবর্তী থেকে তিনি এই ধরনের কথাবার্তা না বলেন।

তিনি বলেন, যেহেতু আমরা একই জোটে আছি সেই হিসেবে দলে একটু প্রভাব পড়বে। আমি আমাদের দলের কোনো নেতার সাথে আলাপ করে এই লিগ্যাল নোটিশটি পাঠাইনি। আমি আমার ব্যক্তিগত জায়গা থেকে এই নোটিশটি পাঠিয়েছি। দল যদি মনে করে আমাকে বহিষ্কার করবে সেটা করতে পারে। দলের সাথে আমার নীতি নৈতিকতার যদি মিল না থাকে, তবে আমিও পদত্যাগ করতে পারি। তবে আমার একটি ভুল হয়েছে দলীয় পদ ব্যবহার করে।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়ক জান্নাতুল ফেরদৌস টনি বলেন, আমরা ১১ দলীয় জোটের শরিক। জেলা পর্যায়ে আমাদের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব নেই। জেলার ছাত্রশক্তির সদস্য সচিব আই-ইয়াশ ইমন আমাদের জোটের মনোনীত কুষ্টিয়া সদরের এমপি মুফতি আমির হামজাকে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছে। আমি এটি শুনেছি। সে আমাদের কারো সাথে আলাপ আলোচনা করে এই কাজটি করেনি। আমি আজকেই এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটিকে লিখিতভাবে তার বিষয়ে জানাবো। দল যা সিদ্ধান্ত নেবে তাই হবে।

তিনি বলেন, আই-ইয়াশ ইমন আমাদের ১১ দলীয় জোট ব্যতীত অন্যদলের গুপ্ত। কেননা জোটে থেকে জোট মনোনীত এমপিকে এভাবে লিগ্যাল নোটিশ সে পাঠাতে পারে না। ছাত্রশক্তির আগের একটি কমিটি ছিল। কমিটি ঘোষণার পর হঠাৎ সেটি স্থগিত হয়ে যায়। পরবর্তীতে নতুন কমিটি করা হয়, সে সময় আই-ইয়াশ ইমনকে ছাত্রশক্তির কুষ্টিয়া জেলা সদস্য সচিব করা হয়। সে দলে গুপ্তচর হিসেবে ঢুকেছে। কার সুপারিশে আই-ইয়াশ ইমন এনসিপির অঙ্গসংগঠন ছাত্রশক্তির কমিটিতে ঢুকলো আমরা এ বিষয়ে তদন্ত করে তার বিষয়েও কঠোর পদক্ষেপ নেব। এ রকম গুপ্তচর আমাদের দলে আমরা চাই না।

তিনি আরও বলেন, এই লিগ্যাল নোটিশ পাঠানোতে আমাদের জোটের মধ্যে কোনো মনোমালিন্য হবে না। আমার সাথে জামায়াতে ইসলামী কুষ্টিয়া জেলা সেক্রেটারি সুজাউদ্দিন জোয়ার্দ্দার সাহেবের কথা হয়েছে। আমরা সব সময় জোটের বিভিন্ন প্রোগ্রাম একসাথে করি। দলীয়ভাবে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। তবে আমরা নোটিশ পাঠানোকে কোনোভাবেই সমর্থন করি না।

জামায়াতে ইসলামী কুষ্টিয়া জেলা সেক্রেটারি সুজাউদ্দিন জোয়ার্দ্দার বলেন, আমি এই বিষয়ে অবগত আছি। এনসিপির জেলার প্রধান সমন্বয়ক জান্নাতুল ফেরদৌস টনি সাহেব ফোন দিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি আশ্বস্থ করেছেন তাকে বহিষ্কারের ব্যবস্থা করবেন। আর এই নোটিশের বিষয়ে আমরা আইনগতভাবে মোকাবিলা করবো।

তবে এই বিষয়ে কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার ব্যক্তিগত ফোনে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও সেটি বন্ধ পাওয়ায় তার মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন