ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার পাঁচ দিন পার হলেও মামলার বাকি তিন আসামিকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। প্রধান আসামি ফজলুর রহমান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গ্রেপ্তার হলেও অন্য তিনজন এখনো ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।
গত ৪ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনে নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতে নিহত হন আসমা সাদিয়া রুনা। এ ঘটনায় পরদিন ৫ মার্চ ইবি থানায় অভিযুক্ত কর্মচারী ফজলুর রহমানকে প্রধান আসামি করে চারজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের স্বামী ইমতিয়াজুর সুলতান।
মামলার অন্য তিন আসামি হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক কর্মচারী ও উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হলের সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার এবং একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান। মামলার তিনদিন পেরিয়ে গেলেও তারা এখনো গ্রেপ্তার এড়াতে সক্ষম হয়েছেন।
এ বিষয়ে ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ রানা সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার পর আহত অবস্থায় শিক্ষিকা ও প্রধান আসামি ফজলুর রহমানকে হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে শিক্ষিকার মৃত্যু হলে পরদিন থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয় এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফজলুর রহমানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
তিনি বলেন, তথ্য সংগ্রহের জন্য তার মোবাইল নম্বর আমরা পেয়েছি, তবে ব্যক্তিগত মোবাইলটি পাওয়া যায়নি। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি কোথা থেকে কেনা হয়েছে, সেটিও এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মামলায় আসামি গ্রেপ্তার একটি অংশ মাত্র। এর সঙ্গে অনেক বিষয় জড়িত। আমরা সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করছি এবং ভিকটিমের গতিবিধির সঙ্গে আসামিদের যোগসূত্র খুঁজে দেখছি। পাশাপাশি তাদের মোবাইল ফোন নম্বর বিশ্লেষণ করে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তারের জন্য আমাদের টিম কাজ করছে।
দুই আসামির দেশত্যাগের আশঙ্কার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমন আশঙ্কার কথা আমরাও শুনেছি। বিষয়টি মাথায় রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আসামিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তা হওয়ায় গ্রেপ্তারে কোনো প্রশাসনিক বাধা আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ক্রিমিনাল অপরাধের ক্ষেত্রে কারও বাধা দেয়ার সুযোগ নেই, সে যেই হোক না কেন।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, এটি একটি বৃহৎ পরিসরের তদন্ত। শুধু একজনকে গ্রেপ্তার করলেই তদন্ত শেষ হয়ে যায় না। আমরা চাই না কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি হয়রানির শিকার হোক কিংবা কোনো অপরাধী পার পেয়ে যাক। নিহতের মোবাইল নম্বরের সঙ্গে আসামিদের মোবাইল নম্বরের কোনো যোগাযোগ আছে কি না, তা নিয়েও আমরা কাজ করছি।
জানা গেছে, বিভাগীয় সভাপতি হওয়ার পর থেকেই নানা ধরনের অসহযোগিতার মুখে পড়েছিলেন আসমা সাদিয়া রুনা। আর্থিক অনিয়ম মেনে না নেয়ার কারণেই তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে প্রধান আসামি ফজলুর রহমানের সঙ্গে কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ ও বিভাগের দুই শিক্ষক জড়িত থাকতে পারেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে, এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন গড়ে উঠছে। কুষ্টিয়া শহর, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছেন।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক কর্মচারী ও উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হলের সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার এবং সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
খুলনা গেজেট/এএজে

