সোমবার । ৯ই মার্চ, ২০২৬ । ২৪শে ফাল্গুন, ১৪৩২

কুষ্টিয়ায় তালা ভেঙে সরকারি তিন দপ্তর তছনছ করল দুর্বৃত্তরা

গেজেট প্রতিবেদন

কুষ্টিয়ায় তালা ভেঙে সরকারি তিন দপ্তর তছনছ করেছে দুর্বৃত্তরা। রবিবার (৮ মার্চ) রাত ৩টার দিকে এই ঘটনা ঘটেছে। তবে এরকম একটি নিরাপত্তা বেষ্টনীতে থাকা উপজেলা পরিষদের ভেতরে অবস্থিত তিনটি দপ্তরে দরজার তালা ভাঙা ও জানলার গ্রিল কাটায় হতবাক সবাই।

দপ্তর তিনটি হলো- মিরপুর উপজেলা ভূমি অফিস, উপজেলা সাব রেজিস্টার অফিস ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অফিস।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রবিবার দিবাগত রাতে কোনো এক সময় মিরপুর উপজেলা পরিষদের ভেতরে অবস্থিত উপজেলা ভূমি অফিস, উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার অফিস ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অফিসে তালা ভেঙে চুরির ঘটনা ঘটে। সকালের অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীরা এসে দরজায় তালা ভাঙা অবস্থায় দেখে ও অফিস কক্ষের ভেতরে প্রবেশ করে দেখে প্রত্যেকটা আলমারি ভাঙা ও আলমারির ভেতরে থাকা সমস্ত ফাইল ও কাগজপত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা থানা পুলিশকে খবর দেয়। পরে থানা পুলিশ এসে সিসি ক্যামেরাসহ সবকিছু পর্যবেক্ষণ করে রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করছে।

মিরপুর উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা ঈশিতা আক্তার বলেন, সকালে অফিসে এসে দেখি অফিসের পেছনে দুইটি জানালার গ্রিল ভাঙা অবস্থায় ছিল। অফিসের ভেতরে প্রবেশ করে দেখি সব আলমারি ভাঙা। ফাইলপত্র নিচে এলোমেলো অবস্থায় পড়ে আছে। তবে এখান থেকে কোনো কিছু চুরি যায়নি। মিরপুর থানা পুলিশ এসে সব কিছু পর্যবেক্ষণ করছে।

মিরপুর উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার মাহফুজ রানা বলেন, সকালে এসে দেখি আমার অফিসের দরজার তালা ভাঙা। ভেতরে প্রবেশ করে দেখি সব আলমারি ভাঙা ও আলমারির ভেতরে থাকা সব কাগজপত্র ফাইল মেঝেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। তবে দেখে মনে হচ্ছে কোনো কাগজপত্র খোয়া যায়নি। যারা এসেছিল তারা যদি চুরি করতো তাহলে আমার টেবিলের ওপরে ল্যাপটপ রাখা ছিল সেটি আগে নিয়ে যেত। শুধু আমার দপ্তরে না এখানকার উপজেলা পরিষদের তিনটি দপ্তরে এরকম ঘটনা ঘটেছে।

তিনি আরও বলেন, আমি আমার অফিসে থাকা সিসি ক্যামেরা চেক করেছি। সেখানে দেখেছি রাত ৩টা ৪ মিনিট থেকে ৩টা ১৬ মিনিটের মধ্যে এই ঘটনা ঘটেছে। সিসি ক্যামেরা দেখা যায় দুইজন ব্যক্তি মাফলার মুখে পেঁচিয়ে এসব ভাঙার কাজ করেছে। তবে দেখে মনে হচ্ছে তারা বয়স্ক।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী দপ্তরের প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, আমার অফিসে গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে ফাইলপত্র তছনছ করেছে। তবে এখনো পর্যন্ত যা পেয়েছি আমার দপ্তর থেকে কোন ফাইল ও কাগজপত্র গায়েব হয়নি।

মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম বলেন, উপজেলা পরিষদ চত্বরে তিনটি দপ্তরে জানলার গ্রিল কাটা ও তালা ভাঙার ঘটনা ঘটেছে। আমি নিজে অফিসগুলো পরিদর্শন করেছি। তবে এখনো পর্যন্ত যেটুকু তথ্য আছে তাতে কোনো কিছু খোয়া বা চুরি যায়নি। সিসিটিভি ক্যামেরা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে রাত ৩টার দিকে একজন বয়স্ক ব্যক্তি উপজেলা পরিষদ চত্বরে প্রবেশ করে এসব করেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরও বলেন, এ বিষয়ে পুলিশকে জানানো হয়েছে। তারা এসে বিষয়টি তদন্ত করছে। উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে থানা একটি জিডি করা হবে।

মিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ উপজেলা পরিষদের সব কিছু পর্যবেক্ষণ করেছে। বিশেষ করে সিসি ক্যামেরা পর্যবেক্ষণ করছে। এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে মিরপুর থানায় এখনো পর্যন্ত কোন জিডি বা অভিযোগ দেওয়া হয়নি।

ওসি আরও বলেন, আমরা বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছি। তবে আমরা যেটুকু পেয়েছি এখনো পর্যন্ত কোনো কিছু চুরি হয়নি। দুইজন ব্যক্তি অফিসের ভেতরে ঢুকেছে আর বের হয়েছে।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন