জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি

আলীম ও ইষ্টার্ণ জুট মিল চালু এবং শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের দাবি

নিজস্ব প্রতি‌বেদক

বন্ধকৃত রাষ্ট্রায়ত্ত আলীম এবং ইষ্টার্ণ জুট মিলের অবসরে যাওয়া ও বদলী শ্রমিকদের সকল পাওনা পরিশোধ ও আধুনিকায়ন করে চালুর দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন, খানজাহান আলী থানা কমিটির পক্ষ থেকে বুধবার (০২ জুন) খুলনা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, করোনা ভাইরাসের কারণে বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী আজ অর্থনৈতিকভাবে গভীর সংকটের মধ্যে পড়েছে। ফলশ্রুতিতে শ্রমিক, বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষ বেকার হয়ে মারাত্মক দুরাবস্থায় পড়েছে। এমনই সময় গত বছরের পহেলা জুলাই খুলনা আলীম ও ইষ্টার্ণ জুট মিলসহ দেশের ২৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সরকার উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করে।

ঘোষণায় বলা হয়, ২ মাসের মধ্যে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করে ও তিন মাসের মধ্যে আধুনিকায়ন করে পুনরায় পাটকল চালু করা হবে। কিন্তু এখনও অবসর, অবসায়ন ও বদলীর বহু শ্রমিক তাদের পাওনাদি পায়নি এবং আরও পরিতাপের বিষয়, ১০ মাস অতিক্রান্ত হলেও সরকার কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ না করে আশ্চর্যজনকভাবে নির্লিপ্ত রয়েছে। ফলে, রাষ্ট্রায়ত্ত শ্রমিকরা ও খেটে খাওয়া মানুষরা বর্তমানে কঠিন সংকটের মধ্যে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। তাই স্মারকলিপিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট বর্তমান অবস্থা নিরসন কল্পে পাটকল শ্রমিকদের কতিপয় দাবি উপস্থাপন করা হয়, যথাক্রমে (১) বন্ধকৃত রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল উন্নত প্রযুক্তি দ্বারা আধুনিকায়ন করে চালু করা, (২) স্থায়ী ও বদলী শ্রমিকদের এরিয়াসহ সকল বকেয়া পাওনা অবিলম্বে পরিশোধ করা, (৩) মামলাকৃত শ্রমিকদের মামলা প্রত্যাহার করে তাদের পাওনাদি পরিশোধ করা, (৪) আলীম জুট মিলের বকেয়া ৬৪ সপ্তাহের মজুরী, ১১ মাসের বেতন ও সঞ্চয়পত্র প্রদান করা (৫) নামের ভুল সংশোধন করে অবিলম্বে পাওনা পরিশোধ করা (৬) মিল চলাকালীন যে সকল শ্রমিক মামলা প্রত্যাহার করেছেন এবং কর্তৃপক্ষের সাথে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা দিয়েছেন, তাদের পাওনাদি পরিশোধ করা (৭) সকল স্থায়ী শ্রমিকদের বকেয়া শিক্ষা সহায়ক ভাতা পরিশোধ করা (৮) উৎপাদন ভিত্তিক শ্রমিকদের গড় মজুরী হিসাব করে গ্রাইচুটির অর্থ প্রদান করা এবং অবসর ও অবসায়নকৃত শ্রমিক-কর্মচারীদের অডিট আপত্তি প্রত্যাহার করে পাওনা পরিশোধ করা।

স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, খুলনা মহানগর সভাপতি কমরেড শেখ মফিদুল ইসলাম, খানজাহান আলী থানা সম্পাদক কমরেড আব্দুস সাত্তার মোল্লা, পাট-সুতা-বস্ত্রকল সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ খলিলুর রহমান, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের জেলা সভাপতি মনির আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক শ্রমিক নেতা দেলোয়ার উদ্দিন দিলু, খানজাহান আলী থানা সভাপতি সরদার আমিরুল ইসলাম, শ্রমিকনেতা তবিবুর রহমান, মোঃ মজিবার রহমান, খান মোহাম্মদ বাবলু, মোঃ কামরুজ্জামান, মোঃ সরদার জাকির হোসেন প্রমুখ।

 

খুলনা গেজেট/এমএইচবি




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন