রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর খুলনা নগরীতে প্রতিসপ্তাহে খুন হচ্ছে। রাজনীতিকরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। শাসক দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। দিনরাতে টহল দিয়েও মানুষ খুন থামানো যাচ্ছে না। নগরীর লবণচরা ও আড়ংঘাটাকে ক্রাইম জোন হিসেবে চিহ্নিত করেছে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটি।
ফেব্রুয়ারির পর থেকে আইনশৃঙ্খলা কমিটিতে নতুন নতুন মুখ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। নগরীতে রক্ত ঝরার জন্য কমিটির নতুন সদস্যরা পুলিশকে চেপে ধরেছে। নগরজীবন নিরাপত্তাহীন হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হতেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সোমবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আইনমন্ত্রী বিষয়টির উপর গুরুত্ব দিতে বলেছেন। তিনি ক্রসফায়ারের পরিবর্তে প্রচলিত আইনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশাবাদী। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ১৬৭ জন নারী-পুরুষ খুন হয়েছেন। ২০২৩ সালে জেলায় ৩৮জন, ২০২২ সালে ৪১ জন এবং ২০২১ সালে ৩৫ জন নারী-পুরুষ খুন হয়।
জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় একটি গোয়েন্দা সংস্থার সহকারী পরিচালক আসিফ ইসলাম মার্শাল আড়ংঘাটা ও লবণচরাকে ক্রাইম জোন হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি বলেছেন, এসব এলাকার নিরাপত্তার জন্য নিয়মিত টহল প্রয়োজন। কেএমপি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) অমিত কুমার বর্মণ উল্লেখ করেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কিছু ক্ষেত্রে উন্নতি হলেও খুন থামছে না। ২০-৩০ জন সন্ত্রাসী গোটা জেলাকে জিম্মি করে রেখেছে। যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে।
র্যাবের মেজর মোঃ নাজমুল ইসলাম সভায় বলেছেন অপরাধীরা শিশু কিশোরদের ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে যায়। ওয়াসার চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনি ক্ষোভের সাথে সভায় বলেন, বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালিত হলেও আশানুরূপ ফল পাওয়া যাচ্ছে না। খুন ও অন্যান্য অপরাধ নির্মূল করতে সকল বাহিনীর তৎপরতার আহ্বান জানান।
এ সভায় মাদকের আখড়া হিসেবে নতুন করে নয়াবাটি স্কুলের সামনে গোল চত্বর, মুজগুন্নী পর্যটন কেন্দ্রের গেট, লবণচরা, চরেরহাট, বাস্তুহার কলোনি, কল্পতরু মার্কেট, মুহাসীন স্কুলের মোড়, মুজগুন্নী, দৌলতপুর মিনাক্ষীর মোড়, ২৮, ২৯ ও ৩১ নং ওয়ার্ডকে চিহ্নিত করা হয়েছে। সভায় অস্ত্র উদ্ধারের জন্য গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। অপর একটি সূত্রের তথ্য জেলায় আলোচিত এ সন্ত্রাসী গ্রুপের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বি-কোম্পানি।
খুলনা গেজেট/এনএম

