খুলনায় খুনোখুনি বন্ধে এবং মাদক নিয়ন্ত্রণে র্যাব ও পুলিশ যৌথভাবে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। রাত-দিন ২৪ ঘন্টা চলছে অভিযান। গেল মাসে এ দু’বাহিনীর সাফল্যও বেশ। কেএমপি কমিশনার ও র্যাব-৬ এর অধিনায়কের একান্ত আলাপচারিতায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। তারপরেও অজানা আতংকে রয়েছে নগরবাসী।
অব্যাহত খুনের মধ্যে গত ২ আগষ্ট যোগদান করেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোঃ সাজ্জাদুর রহমান। তিনি যোগদানের পর আলোচিত দু’টি হত্যাকান্ড ঘটে ১৯ আগষ্ট লবনচরার আশিবিঘা নামক এলাকায়। ৩ ঘন্টার ব্যবধানে ওই দিন নাজমুল ও মঞ্জুরুল ইসলাম নামে দু’যুবক খুন হয়। এছাড়া ১৮ আগষ্ট দুপুরে নগরীর রায়েরমহল এলাকা থেকে ৪ বছরের শিশু মিমকে অপহরণের অভিযোগে রাজু নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করে এলাকাবাসী। এছাড়া ২৬ আগষ্ট দুপুরে নগরীর টুটপাড়ায় মামুন মীর নামে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়। পুলিশ এসব অপকর্ম বন্ধে নানা তৎপরতা শুরু করে।
কেএমপি কমিশনার মোঃ সাজ্জাদুর রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, যোগদানের দিন থেকে অভিযানের ধরণ ও কৌশল পাল্টানো হয়েছে। এর সুফলও পেয়েছি। গত মাসে ৭ টি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বলেন, ২৬ আগষ্ট টুটপাড়ায় মামুনকে গুলি করার কয়েক ঘন্টার মধ্যে দারোগাপাড়া থেকে ৩ টি বিদেশি পিস্তল, গুলি ও বিপুল পরিমান দেশি অস্ত্রসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি যোগদানের পরে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়েছেন দাবি করে বলেন, ডিবিকে সফল কাজে লাগাতে দু’জন সহকারী পুলিশ কমিশনার নিয়োজিত করা হয়েছে। এর ফলে ডিবি রাজধানী থেকে ৪ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার করেছে এবং তাদের দেওয়া তথ্য মতে নগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকা থেকে একটি বিদেশী পিস্তল, একটি রিভলবার ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, গত একমাসে নগরীতে খুনোখুনি অনেক কমেছে। মাদক কারবারীদের আনাগোনাও কম হচ্ছে। তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার ও মাদক নির্মুলে নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডে নানামুখি অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
এদিকে সুন্দরবনের ৫৯ জলদস্যু ও বনদস্যু আত্মসমার্পন করায় এবং ৫৯টি অন্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার হওয়ায় বেশ প্রশংসা কুড়াচ্ছেন র্যাব-৬ এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল নিস্তার আহম্মেদ। তিনি বলেন, পুলিশসহ সকল বাহিনীর সহযোগিতায় র্যাব কাজ করে। গত ২ মার্চ থেকে র্যাবের নেতৃত্বে র্যাব, কোস্ট গার্ড, পুলিশ, নৌপুলিশ ও বন বিভাগের সমন্বয়ে ‘রি-স্টার্ট পিস ইন সুন্দরবন’ নামে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয় জলদস্যু ও বনদস্যু দমনে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩১ আগষ্ট র্যাবের কাছে সুন্দরবনের ৫ বাহিনী প্রধানসহ ৫৯ জন দস্যু আত্মসমার্পন করে। এ সব অভিযানে ৫৯ টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৫৪১ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৪ টি খালি কার্তুজ ও ৭ টি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়। পরের দিন র্যাবের ডিজি আহসান হাবীব পলাশ র্যাব-৬ এর কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিং এ জানান, লুন্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে র্যাবের নেতৃত্বে দ্রুত যৌথ অভিযান পরিচালিত হবে।
এদিকে গত ৮ মাসে ৬৩৪ জন সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, ভিকটিম উদ্ধার হয়েছে ৩৫ জন, অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে ৪৬ টি, ১৯৫ রাউন্ড গুলি, ম্যাগজিন ১৩ টি, বোমা ককটেল ৮৪ টি, ফেনসিডিল ১৯৫৬ বোতল, ৪২ হাজার ১৯ পিচ ইয়াবা, ৩২৩.২ কেজি গাজাঁ, দেশি মদ ২৩৮.৮৪ লিটার, ফেয়াড্রিল ১২৩৯ বোতল, ক্রিস্টাল মেথ বা আইস ১.৫১ কেজি, ইসকাফ সিরাপ ৬ হাজার ৯৯৫ বোতল, ট্যাপেন্টাডল ২২ হাজার ৮২৪ পিস, উইনকেরিক্স ১৫ হাজার ২৯৮ বোতল ও পাতার বিড়ি ৯৬ হাজার পিস উদ্ধার করা হয়।
অধিকাংশ হত্যা-ধর্ষণসহ চাঞ্চল্যকর ঘটনা র্যাব-৬ উৎঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে দাবি করে লেঃ কর্নেল মোঃ নিস্তার আহম্মেদ বলেন, ইতোমধ্যে লবনচরার আশিবিঘায় জোড়া হত্যা মামলার প্রধান আসামি সন্ত্রাসী আল আমিন ওরফে সাইফিকে হত্যার ২ দিনের মধ্যে গোপালগঞ্জ সদর থানার মাঝিরগাতি বাজার থেকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। তিনি সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন। তবে এতসব অভিযানের পরেও খুনোখুনি বন্ধ না হওয়ায় এবং মাদক কারবারি সচল থাকায় আতংক কাটছে না নগরবাসীর।

