খুলনার ২৩ পাট রপ্তানিকারকের কাছে ব্যাংকের পাওনা ৯শ’ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের অন্যতম পাট মোকাম খুলনার দৌলতপুরের ২৩ পাট রপ্তানিকারকের কাছে সোনালী ব্যাংকের ৬টি শাখার ৯শ’ কোটি টাকা পাওনা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ঋণ খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাওনা আদায়ের জন্য ব্যাংক অর্থঋণ আদালতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছে। রপ্তানীকারকদের সিংহভাগ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে থাকায় পট পরিবর্তনের পর তারা ব্যবসাস্থল ত্যাগ করেছে। এক জুলাই থেকে পাট মৌসুম শুরু হলেও ব্যাংক রপ্তানীকারকদের নতুন করে ঋণ দিচ্ছে না।

নারায়ণগঞ্জের পর অন্যতম বৃহৎ পাট মোকাম খুলনার দৌলতপুরে যাত্রা শুরু হয়। পাকিস্তানি শিল্পপতি প্রিন্স আগাখান ক্রিসেন্ট ও পাকিস্তানি অপর শিল্পপতি প্লাটিনাম স্থাপন করার পর পাটের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। সে সময় ২২ পরিবার ও খুলনার দাপুটে নেতা খান এ সবুর দৌলতপুর বাজার নিয়ন্ত্রণ করতেন। স্বাধীনতার পর শ্রমিক নেতা আবু সুফিয়ানের নেতৃত্বে পাট ব্যবসা ও জুট প্রেস ও বেলিং শ্রমিক ইউনিয়ন গঠিত হয়। জীবদ্দশায় তিনি পরবর্তীতে তার স্ত্রী বেগহম মন্নুজান সুফিয়ান এ বাজার নিয়ন্ত্রণ করতেন। ক্ষমতার পালা পদলের পর বিএনপি ও জাপার নেতৃস্থানীয়রা এ ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত হয়। বিএল কলেজ ছাত্র সংসদের ও দৌলতপুর দিবা নৈশ কলেজের একাধিকবার নির্বাচিত ভিপি বিনা পুঁজিতে মোকামে অবস্থান নিয়ে ব্যাংক ঋণ নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। এদেরই একজন এসএম নুরুল হক। তিনি ছাত্রশিবিরের মনোনয়ন নিয়ে ১৯৮৬-৮৮ দৌলতপুর দিবা নৈশ কলেজের ভিপি নির্বাচিত হন।

২০০৮ সালের বঙ্গবন্ধু পরিষদ দৌলতপুর শাখার সভাপতি মনোনীত হন। রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারে তিনি অনিক জুট ইন্টারন্যাশনালের নামে সোনালী ব্যাংক বিএল কলেজ শাখা থেকে ৩৫ কোটি ৮২ লাখ এবং করপোরেট শাখা থেকে ৩৯ কোটি টাকা নিয়ে ঋণ খেলাপি হন। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের দৌলতপুর শাখার সভাপতি শেখ সৈয়দ আলী দুটি প্রতিষ্ঠানের নামে রুপালী ব্যাংকের দৌলতপুর করপোরেট শাখা থেকে ১৯ কোটি টাকা ঋণ খেলাপি হয়েছেন।

সোনালী ব্যাংক দৌলতপুর করপোরেট শাখার ডিজিএম সমীরণ চন্দ্র কর্মকার বলেন, পাট রপ্তানীকারকদের কাছে ১৬ শ’ কোটি টাকা পাওনা ছিল। তার মধ্যে ৭ শ’ কোটি টাকা তারা পরিশোধ করেছে। ঋণ পরিশোধের জন্য তাদেরকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। এখন বিদেশে পাট রপ্তানি নিষিদ্ধ। এ অজুহাত দেখিয়ে তারা ঋণ পরিশোধ করছে না। পাকিস্তানে কিছু পাট রপ্তানি হলেও এ মুহূর্তে তা বন্ধ রয়েছে। ১৪টি প্রতিষ্ঠানের দিকে নজরদারি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় খেলাপিদের ঋণ দেওয়া বন্ধ রয়েছে।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন