একান্ত সাক্ষাৎকারে নবাগত ভিসি

খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশেষায়িত হিসেবে বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর আমার স্বপ্ন

একরামুল হোসেন লিপু

প্রশাসনিক ও একাডেমিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে, সুশাসন নিশ্চিত করার মাধ্যমে বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনার কথা ব্যক্ত করেছেন খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাগত ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোঃ আসাদুজ্জামান সরকার। প্রতিষ্ঠার এক দশক পরও নিজস্ব পরিচয়ে গড়ে উঠতে না পারায় হতাশা ব্যক্ত করেন তিনি। এজন্য তিনি খুলনার মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, সিভিল সোসাইটি ও প্রশাসনসহ প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেছেন।

গত বৃহস্পতিবার নগরীর গোয়ালখালীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী প্রশাসনিক ভবনের নিজস্ব কার্যালয়ে খুলনা গেজেটের সাথে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

নবাগত ভিসি বলেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের যে প্রভাব আমাদের দেশের উপর পড়ছে, তার অনেকটাই প্রকৃত অর্থে খুলনাঞ্চলের উপর পড়েছে। বিশেষ করে কৃষি, মৎস্য এবং প্রাণিসম্পদের উপর এটির প্রভাব অত্যন্ত বেশি। উপকূলীয় অঞ্চলের লবণাক্ততা এখানে একটা প্রধান সমস্যা। এই সমস্যাগুলির সমাধান করার লক্ষ্যেই কিন্তু খুলনায় বিশেষায়িত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় করা হয়েছে। কিন্তু এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রসারের জন্য যে ধরনের সহযোগিতা বা ব্যবস্থাপনা দরকার ছিল, সেটি ইতিপূর্বে হয়নি।

তিনি আরও বলেন, আমার স্বপ্ন এই অঞ্চলে জলবায়ুর পরিবর্তনের যে প্রভাব আছে, সেটিকে রোধ করার জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয় যেন প্রকৃত অর্থে কাজ করতে পারে, ভূমিকা রাখতে পারে, যা দেশে এবং বিদেশে স্থান করে নেবে। খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে কৃষি এবং গ্রামীণ উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। এই স্বপ্ন নিয়েই আমি এখানে এসেছি।

আক্ষেপ করে ভিসি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টি এখনো একটি অদৃশ্য বিশ্ববিদ্যালয়। যদিও এর কার্যক্রম চলছে, কিন্তু দৃশ্যমান হয়নি খুলনা কিংবা বাংলাদেশের মানুষের কাছে। কাজেই বিশ্ববিদ্যালয়টিকে একটি দৃশ্যমান বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিণত করতে চাই। একই সাথে এখানে প্রশাসনিক, একাডেমিক যে বিশৃঙ্খলা, যেটি প্রতিষ্ঠার লগ্ন থেকে ঐতিহ্যগতভাবে বহন করছে। এর একটা শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, সুশাসন নিশ্চিত করা এবং প্রকৃত অর্থে একটি বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য যেভাবে কাজ করা দরকার, তা আমি করতে চাই। স্বপ্ন বাস্তবায়নে মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, খুলনার সিভিল সোসাইটি, প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে যারা আছেন এবং সর্বোপরি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহযোগিতা কামনা করি। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নসহ নিজস্ব পরিচয় গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দ্রুত দুই হাজার কোটি টাকার অর্থ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন তিনি। যাতে খুলনায় যে লক্ষ্য নিয়ে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তার প্রকৃত রূপ যেন গণমানুষের কাছে তুলে ধরতে পারি।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন