আইসিইউ’র নাম ব্যবহার করে অচল যন্ত্র দিয়ে রোগী পরিবহন, মৃত অবস্থায় পৌঁছালো হাসপাতালে

খুলনায় নামেই ‘আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স’ চলে না এসি-ভেন্টিলেশন মেশিন!

নিজস্ব প্রতিবেদক

অ্যাম্বুলেন্স চালকের দৌরাত্মে প্রাণ গেল খুলনার রূপসা উপজেলার কাজদিয়া গ্রামের গৃহবধূ তানিয়া আক্তারের। গত ৩ জুলাই ব্রেনস্ট্রোকে আক্রান্ত অবস্থায় খুলনার সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে আইসিইউ অ্যাম্বলেন্সে করে ঢাকায় নেওয়া হয়। যাত্রা শুরুর পর দেখা যায়, অ্যাম্বুলেন্সের এসি নষ্ট। ভেন্টিলেশন মেশিন ও মনিটর বিকল। কোনোরকম জোড়াতালি দিয়ে রাত ১০টায় হাসপাতালে পৌঁছাতে রোগীর অবস্থার আশংকাজনক অবনতি হয়। পরদিন বিকাল ৫টায় মারা যান ওই রোগী।

এ ব্যাপারে অ্যাম্বুলেন্স মালিক মো. কাইয়ুম, চালক সোহেল ও সহকারী জিসানের বিরুদ্ধে সোনাডাঙ্গা থানায় মামলার এজাহার জমা দিয়েছেন ভুক্তভোগীর পরিবার। পুলিশ বিষয়টির তদন্ত শুরু করেছেন।

নিহত নারীর ভাই মোসফিকুর রহমান বলেন, গত দুই জুলাই আমার ছোট বোন তানিয়া ব্রেনস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়। দ্রুত তাকে সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ সাইদুর রহমান তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করতে বলেন। পরদিন সকালে হাসপাতালের সামনে থেকে ২৫ হাজার টাকায় আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করা হয়। কিন্তু যাত্রা শুরুর পর দেখি অ্যাম্বুলেন্সের এসি চলে না। ভেন্টিলেশন ও লাইফসাপোর্ট মেশিন নষ্ট। মনিটরে সব সময় প্রেসার ১২০/৮০ দেখাচ্ছে। অ্যাম্বুলেন্সের সহকারী পুরো পথ শ্বাসপ্রশ্বাসের গোল একটি বল চাপতে চাপতে নিয়ে গেছে। রাত ১০টার দিকে হাসপাতালে পৌঁছে তারা ভাড়া পরিশোধের জন্য চিল্লাপাল্লা করতে থাকে। আমরা রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকরা জানান, কিভাবে এনেছেন, রোগীর প্রেসার জিরো। হার্টবিট শুধু আছে। পরদিন সকালে আমার ছোট বোন মারা যায়।

নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দিয়েছে। বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখছি।

অ্যাম্বুলেন্স মালিক মো. কাইয়ুম বলেন, আমার সব মেশিন সচল ছিল। ওনাদের অভিযোগ সঠিক না।

তবে অ্যাম্বুলেন্সে থাকা সহকারী জিসান বলেন, এসি নষ্টের বিষয়টি আগে থেকেই জানানো হয়েছিল। যাত্রাপথে ভেন্টিলেশন কিছুটা বাঁধাগ্রস্ত হয়। রোগীর অবস্থা খারাপ ছিল।

নিহতের ভাই মোসফিকুর রহমান বলেন, আমাদের বলেছে অ্যাম্বুলেন্সের সব ঠিক আছে। পরে দেখি অনেক কিছুই নষ্ট ছিল। আমার বিশ্বাস হাসপাতালের লাইফসাপোর্ট যদি ঠিক থাকতো, আমার বোনটা মারা যেত না।

॥ ভুয়া অ্যাম্বুলেন্সের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেই ॥

সংশ্লিষ্টরা জানান, খুলনার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে অ্যাম্বুলেন্স চালক ও মালিকদের একটি অসাধু সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে, যারা রোগীদের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় এবং জিম্মি করার মতো নানা হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। বিশেষ করে বিভিন্ন জেলার হাসপাতালগুলোতে বহিরাগত অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশে বাধা দেওয়া এবং রোগী আটকে রাখার মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে।

হাসপাতালগুলোর সামনে শত শত অ্যাম্বুলেন্স দাড়িয়ে থাকতে দেখা যায়, যাদের অধিকাংশের কোনো কাগজপত্র নেই। পুলিশ কখনও এসব গাড়ি তল্লাশী করে না। যার কারণে এ ধরনের ঘটনা বাড়ছে। এসব অ্যাম্বুলেন্সের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার দাবি ভুক্তভোগীদের।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন