সুন্দরবনের বনদস্যু দুলাভাই বাহিনীর সঙ্গে কোস্টগার্ডের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার রাতে বনবিভাগের কয়রা টহল ফাঁড়ির আওতাধীন ময়দাফেসা খাল এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গুলি লেগে সাকাত সরদার নামে এক জেলে নিহত হয়েছেন। এছাড়া দুলাভাই বাহিনী প্রধান রবিউল ইসলামসহ ২ জনকে আটক করেছে কোস্টগার্ড।
শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে দুলাভাই বাহিনীর প্রধান রবিউল ইসলামকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় কোস্টগার্ড। চিকিৎসা শেষে তাকে আবার সঙ্গে নিয়ে গেছে কোস্টগার্ডের সদস্যরা।
নিহত সাকাত সরদার ৩ নং ওয়ার্ড মহেশ্বরীপুর এলাকার ইজহার সরদারের ছেলে। থাকতেন ৬নং ওয়ার্ড তেতুল তলা গুচ্ছপাড়ায়।
হাসপাতালের চিকিৎসা নথিতে দেখা গেছে, কয়রা মহেশ্বরীপুর গ্রামের মানিক গাজীর ছেলে রবিউল ইসলাম (৫০) কে সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়। তার হাতসহ শরীরে গুলির ক্ষত ছিল।
মহেশ্বরীপুর গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মানিক গাজীর জেলে রবিউল ইসলামই বনদস্যু দুলা ভাই বাহিনী প্রধান। একসময় সুন্দরবনের ত্রাস ছিল ‘ইলিয়াস বাহিনী’। তিনি মারা যাওয়ার পর ২০২৪ সালে ইলিয়াসের বোনের স্বামী রবিউল নতুন দল গড়ে তুললে স্থানীয় লোকজন এর নাম দেন ‘দুলাভাই বাহিনী’।
কয়রা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহ আলম বলেন, বনের মধ্যে গোলাগুলি ও এক দস্যু নিহতের খবর শুনেছি। কিন্তু আমাদের কাছে এ বিষয়ে তথ্য নেই। কোস্টগার্ড বিষয়টি দেখছে।
সুন্দরবনের খুলনা রেঞ্জের সহকারি বন সংরক্ষক শরিফুল ইসলাম জানান, আমরাও বিষয়টি শুনেছি। কোস্টগার্ড বিস্তারিত বলতে পারবে।
তেঁতুলতলা এলাকা থেকে ইসরাফিল (২৬) নামের আরেক সদস্যকে জনগণ আটক করে কয়রা থানা পুলিশের কাছে তুলে দেয়। সে উপজেলার বাগালি গ্রামের ইসমাইলের ছেলে। কয়রা থানার ওসি শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এ বিষয়ে কোস্টগার্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ‘দুলাভাই বাহিনী’র সাথে কোস্ট গার্ডের রাতভর বন্দুকযুদ্ধ হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযান চলছে। সকালে বাহিনী প্রধানকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। কর্মকর্তারা অভিযানে আছেন, পরবর্তীতে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
খুলনা গেজেট/এএজে

