বুধবার । ২৪শে জুন, ২০২৬ । ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩
দাকোপের ঢাংমারী ফরেস্ট প্রাইমারি স্কুল

জরাজীর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান

বাজুয়া প্রতিনিধি

দাকোপ উপজেলার বানিশান্তা ইউনিয়নের শেষ প্রান্তে প্রত্যন্ত একটি গ্রামে অবস্থিত গোড়া ঢাংমারী ফরেস্ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ১৯৯১ সালে স্থাপিত ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যালয়টির ভবনটি কালের বিবর্তনে এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ অবস্থায় রূপ নিয়েছে। উল্লেখযোগ্য সংস্কারের অভাবে প্রায় এক যুগের বেশি সময় ধরে বিদ্যালয়টি পাঠদানের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিদ্যালয়ের ভবনের ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে, দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। তারপরও নিরুপায় হয়ে এই জরাজীর্ণ ভবনেই চলছে কোমলমতি ছেলে-মেয়েদের পাঠদান। ফলশ্রুতিতে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে কমে আসছে।

সরেজমিন ও শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা গেছে, চার কক্ষ বিশিষ্ট এই একতলা ভবনটি ২০০১ সালে নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে মোট ৫১ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে এবং প্রধান শিক্ষকসহ চারজন শিক্ষক কর্মরত আছেন। নির্মাণের মাত্র দুই দশকের মাথায় সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ও উপকূলীয় অঞ্চলের নোনা আবহাওয়ার কারণে ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বর্ষাকালে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে বই-খাতা ভিজে যায়, আর গরমে ছাদের পলেস্তারা খসে শিক্ষার্থীদের গায়ের ওপর পড়ে। প্রতিনিয়ত এক অজানা আতঙ্ক বুকে নিয়ে ক্লাস করতে বাধ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বিথিকা রায় ও সবুজ মল্লিক বলেন, “এই ভবনের দুটি কক্ষে সকাল ৯টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত প্রাক-প্রাথমিক এবং দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বিকেল সোয়া ৪টা পর্যন্ত চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির পাঠদান চলে। ভবনের এমন জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে বর্তমানে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি একদমই কম। অনেক অভিভাবক ভয়ে সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে চান না। ছাদ থেকে যখন-তখন পলেস্তারা খসে পড়ে, বৃষ্টি হলে পানি পড়ে। মনে হয় এই বিদ্যালয়ের দুর্দশা দেখার কেউ নেই।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস ও সুলাইমান ঢালীসহ তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, ক্লাসে বসার পর ছাদ থেকে খসে খসে পড়ে পলেস্তারা। বৃষ্টি হলে ছাদ থেকে পানি পড়ে বইখাতা ভিজে যায় শিক্ষার্থীদের। সব সময় আতঙ্কের মধ্যে ক্লাস করে তারা। এছাড়া স্কুলের শৌঁচাগারটির অবস্থাও বেহাল, সেখানে যেতেও তাদের ভয় লাগে।

গোড়া ঢাংমারী ফরেস্ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিপুল কুমার মন্ডল জানান, “তিনি ২০১৯ সালে অত্র বিদ্যালয়ে যোগ দিয়েছেন। এর আগেও কয়েকবার নতুন ভবনের জন্য সাবেক স্কুল প্রধানরা আবেদন করেছেন, আজও তা বাস্তবায়ন হয়নি। গত ২০২৫ সালের মাঝের দিকেও বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবনের কথা উল্লেখ করে নতুন শ্রেণিকক্ষের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি লিখেছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক। একাধিকবার দাপ্তরিকভাবে ভবনটির দুরবস্থার কথা জানানো হলেও এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো প্রতিকার মেলেনি। ফলে চরম ঝুঁকি নিয়েই শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রেক্সোনা আক্তার বলেন, “আমি এখানে নতুন এসেছি। ইতোমধ্যে একটি প্রকল্পের আওতায় বিদ্যালয়টি সামান্য সংস্কার করা হচ্ছে। এছাড়া প্রধান শিক্ষক নতুন ভাবে একটি আবেদন দিলে আমরা সেটি এডিপি (বা পিইডিপি)-৫ এর আওতায় নতুন ভবন নির্মাণের জন্য পাঠাবো এবং বাস্তবায়নের চেষ্টা করবো।”

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন