সোমবার । ২২শে জুন, ২০২৬ । ৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩

তিন উপজেলার খাবার পানির উৎস এক পুকুর!

মোঃ আসাদুল ইসলাম, পাইকগাছা

পাইকগাছা, দাকোপ ও কয়রা উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের অসংখ্য পরিবারের হাজার হাজার মানুষের খাবার পানির একমাত্র উৎস পীর আলম শাহী পুকুর। পাইকগাছা উপজেলার গড়ইখালীতে এর অবস্থান। প্রতিদিন ভোর থেকে রাত প্রায় ১০টা পর্যন্ত অসংখ্য নারী-পুরুষ এ পুকুর থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করেন। ১৩টি নসিমন ও ৩০ থেকে ৪০টি ব্যাটারিচালিত ভ্যান ও নদী পথে কয়েকটি ট্রলারে করে ঘরে ঘরে এখান থেকে পানি পৌঁছে দিয়ে অনেকেই অর্থ উপার্জন করেন।

প্রতি ড্রাম পানির দাম রাখা হয় ২০ টাকা। এসব নসিমন ও ভ্যান চালকের আয়ের বড় উৎস এ পুকুরের পানি সরবরাহ। এ পুকুর ছাড়া এখানে মিষ্টি পানির আর কোনো উৎস নেই বলে জানান ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস ছালাম কেরুসহ স্থানীয়রা।

সরকারি ও বেসরকারিভাবে এর বিকল্প উৎস খোঁজার চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি বলে জানান এ জনপ্রতিনিধি। তাই এ পুকুরের পানিই তাদের একমাত্র ভরসা।

এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিরা জানান, পুকুরটি কবে নির্মাণ করা হয়েছে তা তারা সঠিকভাবে বলতে পারেন না। তবে তারা জানান, ৮ বিঘা জমিতে নির্মিত এ পুকুরের পানি কখনোই কমে না। পুকুরের ওপর দিয়ে কখনো কোনো পাখিও উড়তে দেখেননি তারা। তারা পূর্ব পুরুষদের কাছে শুনেছেন, পীর আলম শাহী নামে এক বুযুর্গ ব্যক্তি এ পুকুরের পানির ওপর দিয়ে পায়ে হেঁটে চলতেন। চারপাশের পাড় উঁচু করে মাটি দিয়ে বাঁধানো। পাঁকা প্রাচীরের বেষ্টনী। পাশের দাকোপ উপজেলার কয়েকটি গ্রামের মানুষ ট্রলারে করে পানি নিয়ে যান।

দাকোপ উপজেলার গুনালি, নলিয়ান, কামনেবাসি, সুতারখালী, কালীবাড়ী, পাইকগাছার সোলাদানা ইউনিয়নের বেতবুনিয়া, খাটুয়ামারী, বয়ারঝাপা, গড়ইখালী ইউনিয়নের গড়ইখালী, বাসাখালী, মিনহাজ, হোগলারচক, বাইনবাড়িয়া, কুমখালী, শান্ত, ফকিরাবাদ, গাংরখি, লস্কর ইউনিয়নের খড়িয়া, আলমতলা ও কয়রা উপজেলার হড্ডা গ্রামের হাজার হাজার মানুষ এই পুকুরের পানি পান করে জীবন ধারণ করেন। কারণ এখানকার পানি লবণাক্ত। অন্য পানি পান করা যায় না। এটিই খাবার পানির একমাত্র উৎস।

একটি এনজিও আলম শাহী পুকুরের পাশে ফিল্টার বসিয়ে গড়ইখালীর ইউপির দুটি ওয়ার্ডের ৩৬টি পয়েন্টে পানি সরবরাহ করছে। সেখান থেকে এলাকার গৃহবধূরা পানি সংগ্রহ করেন।

এসব পয়েন্ট দেখার দায়িত্বে থাকা কেয়ারটেকার আরিফা খাতুন জানান, দূরের লোকের পানি নেওয়ার চাপ থাকার কারণে এ পয়েন্টগুলো বসানো হয়েছে।

উপজেলা পানি কমিটির সভাপতি অধ্যাপক শেখ রুহুল কুদ্দুস বলেন, “পাইকগাছায় খাবার পানির খুবই সংকট।”

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াসিউজ্জামান বলেন, “লবণাক্ততা ও আইরনের পরিমাণ বেশি থাকায় চারিদিকে পানি থাকলেও সুপেয় পানির তীব্র সংকট রয়েছে। যা সমাধানে সরকার বিভিন্ন সময় নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে।”

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন