বৃহস্পতিবার । ১৪ই মে, ২০২৬ । ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩
চিকিৎসকের অবহেলায় গৃহবধূ মৌসুমীর মৃত্যুর অভিযোগ

ঘুমের মধ্যে কেঁদে উঠছে শিশু সন্তান, বিচারের দাবিতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছে স্বামী ইসমাইল

নিজস্ব প্রতিবেদক

খুলনা মহানগরীর আদদ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলায় রূপসার প্রসূতি নারী মৌসুমীর অকাল মৃত্যু নিয়ে ক্ষুব্দ এলাকাবাসী। একমাত্র শিশু সন্তান ঘুমের মধ্যে এখনো মা মা বলে কেঁদে উঠছে। স্বজনদের আহাজারীও থামেনি। এদিকে মৌসুমীর স্বামী ইসমাইল বিচারের দাবিতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছে।

ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, রূপসা উপজেলার বাগমারা গ্রামের ইসমাইল সরদারের স্ত্রী এক সন্তানের জননী মৌসুমী ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা থাকা অবস্থায় ২ মে পেটে ব্যথা অনুভব করেন। সাথে সাথে তাকে খুলনা মহানগরীর বয়রাস্থ আদ দ্বীন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে গর্ভের সন্তান মারা গেছে জানিয়ে পরিবারের সম্মতিতে ডেলিভারি করানো হয়। পরে স্যালাইন ও ওষুধ দিয়ে বিকেলে রিলিজ করে দেওয়া হয়। এসময় ডাক্তার বলেন, ৪/৫ দিন পরে নিয়ে আসবেন ভিতরে যদি কোন জীবাণু থাকে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করে দেখে পরবর্তীতে চিকিৎসা দেওয়া হবে।

মৌসুমির স্বামী ইসমাইল জানায়, বাড়ি আসার একদিন পর অসুস্থ হয়ে পড়লে ৪ মে মৌসুমীকে আবারও ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ডাক্তার আলট্রাসনোগ্রাফি করে বলে ভিতরে ইনফেকশন হয়েছে। ভর্তি হয়ে ৪/৫ দিন থাকলে ইনজেকশন ও স্যালাইনের মাধ্যমে চিকিৎসা করলে ঠিক হয়ে যাবে। তাদের কথামতো স্ত্রীকে নিয়ে ৪ দিন ভর্তি থাকলাম এবং চিকিৎসা শেষে মোটামুটি সুস্থ হয়ে গেছে। ১০ মে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার কথা ভাবছি। হঠাৎ করে বেড থেকে কেবিনে উঠিয়ে ডাক্তার বলে ওয়াশ করতে হবে। আমি বললাম আলট্রাসনোগ্রাফি করেন তারা বলেন লাগবে না। আবার আমার স্ত্রীকে ভয় দিয়ে বলে ওয়াশ না করলে ক্যান্সার হয়ে যাবে। আমার স্ত্রী আমাকে বলে আমি তো সুস্থ হয়ে গেছি আবার কেন ওয়াশ করবে। আমি বললাম হাসপাতালের ব্যাপার তো। তখন আমার স্ত্রী বলে আমি যাব না ওরা আমাকে মেরে ফেলবে। আমি বললাম যাও সমস্যা হবে না জীবাণু নাকি ১৪ মিলি আছে ডাক্তাররা বলতেছে কিছু হবেনা ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরও বলেন, ১০ মে বিকেল ৩টায় আমার স্ত্রী মৌসুমিকে ওটিতে নিয়ে যায়। আমি বললাম রক্ত লাগবে না। তারা বললেন এক ব্যাগ হলেই চলবে। আমি বললাম ওর তো শরীর দুর্বল রক্ত কম আছে। যেহেতু আমার লোক আছে আরো দুই ব্যাগ ম্যানেজ করে রাখি। তারা বলল লাগবেনা। যাদের কাছ থেকে রক্ত নিবো তারা চলে যাওয়ার পর ওটি থেকে বলে আরো রক্ত লাগবে। আমি বললাম এখন রক্ত পাব কোথায়। তারা বলছে জানিনা দ্রুত ম্যানেজ করুন প্রচুর রক্তখরণ হচ্ছে। আমি দিশেহারা হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ফোন করতে থাকি। রক্ত না পেয়ে হতাশ হয়ে ওটির সামনে আসলে আমাকে ভিতর থেকে বলা হয় আপনার স্ত্রীকে আইসিউতে নিয়ে গেছে।

ওখানে থাকা নার্স সিলিপ ধরিয়ে দিয়ে বলে টেস্ট করতে হবে আউটারে যেয়ে দেখি ৯ হাজার টাকার বেশি বিল হয়েছে। আরো অনেক খরচের বিবরণ দিয়ে আমাকে ভিতরে নিয়ে দেখায় আমরা অনেক চেষ্টা করছি। সেখান থেকে চলে আসি। পরে আমার সন্দেহ হলে আবার ভিতরে গিয়ে দেখি আমার স্ত্রীর মুখে নল ঢুকিয়ে রক্ত বের করে বোতলে ভরা হচ্ছে। আমি জিজ্ঞাসা করলে বলে লাঞ্চে রক্ত জমেছে। আমার স্ত্রীর মৃত্যুতে আমার একমাত্র ১০ বছরের শিশু ছেলে মোরসালিন মায়ের জন্য পাগলপ্রায়। ঘুমের মধ্যে মা মা বলে কেঁদে উঠছে। আমার স্ত্রীর চিকিৎসা সেবায় ডাক্তার এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলা রয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।

এ বিষয়ে হাসপাতালের এজিএম হোসেন আলী বলেন, রোগীর স্বজনেরা যে অভিযোগ করেছে তা সঠিক না। চিকিৎসার ব্যাপারে ডাক্তারদের কোন দায়িত্বে অবহেলা ছিল না।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন