শনিবার । ৯ই মে, ২০২৬ । ২৬শে বৈশাখ, ১৪৩৩
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ পেলে অভিযান, বাদ যাবে না তালিকাভুক্তরা

র‌্যাবের তালিকায় খুলনার ৩৩ শীর্ষ সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ

সাগর জাহিদুল

দেশজুড়ে চাঁদাবাজদের তালিকা তৈরির অংশ হিসেবে র‌্যাব-৬ খুলনা জেলায় শীর্ষ সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের তালিকা তৈরি করেছে। প্রাথমিক তালিকায় স্থান পেয়েছে ৩৩ শীর্ষ অপরাধী। এর মধ্যে ১৫ জন শীর্ষ চাঁদাবাজ, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও অন্যান্য ১৮ জন। তবে তালিকা আরও বাড়তে পারে। এসব অপরাধীদের গ্রেপ্তারে খুব শীঘ্রই অভিযান শুরু করবে র‌্যাব। এর গত মার্চ মাসের আগে ২৮ চাঁদাবাজ, ৪৭ সন্ত্রাসী ও ৪০০ মাদক কারবারির তালিকা তৈরি করে কেএমপি। দু’মাস আগে এ তালিকা তৈরি হলেও আলোচিত কোনো চাদাঁবাজ বা শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার হয়নি।

র‌্যাব-৬ এর একটি সূত্র জানায়, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে অপরাধীদের একটি ‘আনবায়াসড’ তালিকা তৈরি করা হয়েছে। প্রাথমিক তালিকায় খুলনা জেলায় সর্বমোট ৩৩ জন শীর্ষ অপরাধীদের চিহ্নিত করা হয়েছে।

সূত্রটি আরও জানায় তালিকায় প্রাথমিকভাবে শীর্ষ ১৫ জন চাঁদাবাজ, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও অন্যান্য ১৮ জন রয়েছে। র‌্যাব-৬ ব্যাটালিয়ন ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করেছে। যারাই তালিকার অর্ন্তুভুক্ত থাকবে তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

র‌্যাব-৬ খুলনার অধিনায়ক নিস্তার আহমেদ বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে চাঁদাবাজদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। আলাদা করে কোনো ক্যাটাগরি করা হয়নি। তালিকায় কোনো রাজনৈতিক দলের নেতারা থাকলে তাদেরকেও গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তালিকা অনুযায়ী অভিযান চালানো হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ পেলে গ্রেপ্তার অভিযান শুরু করা হবে।’

এদিকে গত মার্চ মাসে খুলনায় নগরের আট থানায় শীর্ষ ২৮ জন চাঁদাবাজ, ৪৭ সন্ত্রাসী ও ৪০০ মাদক কারবারীসহ মোট ৪৭৫ জন অপরাধীর তালিকা তৈরি করে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ। রাজনৈতিক সংগঠন ছাড়াও সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের মধ্যে খুলনার শীর্ষ ৮টি সন্ত্রাসী সংগঠনের নাম তালিকার উপরের দিকে আছে। তালিকাভুক্ত এসব অপরাধীদের বিরুদ্ধে গত ঈদুল ফিতরের পর যৌথ অভিযান শুরুর কথা থাকলেও দৃশ্যমান কোনো অভিযান পরিচালিত হয়নি। ফলে নগরীর অলিগলিতে মাদকে সয়লাব হয়ে গেছে। মাদক ও চাঁদাবাজ কাণ্ডে খুন-খারাবির ঘটনা নিত্যদিনের। দখল নিয়ে সন্ত্রাসী গ্রুপ একে অপরের সাথে ‘কর্তৃত্ব যুদ্ধে’ জড়িয়ে পড়ছে। চাঁদাবাজদের দৌরাত্মে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ। কাজেই তালিকা তৈরি হলেও দৃশ্যমান কোনো অভিযান পরিচালনা না হওয়া বা তালিকাভুক্ত চিহ্নিত চাঁদাবাজরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দ।

পুলিশ ও একাধিক গোয়েন্দা সূত্র জানায়, বিএনপি সরকার গঠন করার পর সারাদেশে অপরাধীদের তালিকা তৈরির নির্দেশনা দেয়। নির্দেশনা অনুযায়ী অপরাধীদের তালিকা তৈরি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)।

খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব এ্যাড. বাবুল হাওলাদার বলেন, ‘খুলনায় অপরাধ দমনে দৃশ্যমান কোনো অভিযান আমরা দেখছি না। শুধু তালিকা সর্বস্ব করে খুলনার মানুষদের সাধে ধোঁকাবাজ করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসী অপরাধীরা কোথায় অবস্থান করছে তা প্রশাসনের জানা আছে। প্রশাসন চাইলেই যে কোনো সময় তাদেরকে গ্রেপ্তার করতে পারে। কিন্তু বাস্তবে তা হচ্ছে না। বরং তালিকা করে অপরাধীদের সতর্ক করা হচ্ছে।’ হয়তো এখানে বাড়তি সুবিধাও আছে, বলেন তিনি।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন