শনিবার । ১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ । ৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩
কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের সাথে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব

ফুলতলায় সাব্বির হত্যাকাণ্ডে মামলা হয়নি, গ্রেপ্তার নেই

ফুলতলা প্রতিনিধি

ফুলতলার দামোদর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড এলাকায় ছুরিকাঘাতে নিহত ডিশ লাইনের কর্মী সাব্বির হোসেনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বাদ আসর দামোদর পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে উপজেলা সরকারি কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এদিকে এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের বা ঘটনার সাথে জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এদিকে মেয়েলি ঘটনাকে কেন্দ্র কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের সাথে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে সে খুন হয় বলে স্থানীয়রা দাবি করেছে। ঘটনার সময় আহত নীরব ও স্বাধীন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, ফুলতলার বাসস্ট্যান্ডে মটরগাড়ীর কলারম্যান ও দামোদর পূর্বপাড়ার বাসিন্দা মোস্তফার ছেলে সাব্বির তার বন্ধু নীরব ও স্বাধীনকে নিয়ে রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ৮নং ওয়ার্ডের ইউনিয়ন ভূমি অফিসের পশ্চিম পার্শ্বে তাদের অপর বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে যায়। একটা মেয়েলি ঘটনাকে কেন্দ্র করে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে কিশোর গ্যাংদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে ছুরিকাঘাতে সাব্বির, নীরব ও স্বাধীন গুরুতর জখম হয়। দ্রুত তাদের উদ্ধার করে প্রথমে ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অতিরিক্ত রক্তখরন জনিত কারণে হাসপাতালে নেয়ার পর পরই সাব্বিরের মৃত্যু ঘটে এবং গভীর ক্ষতের কারণে নিরবের অবস্থা সংকটজনক বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে। শুক্রবার সাব্বিরের লাশের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বাদ আসর দামোদর পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে উপজেলা সরকারি কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়।

ফুলতলা নেট ভিশনের স্বত্বাধিকার প্রদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘সাব্বির অত্যন্ত বিনয়ী ও ভদ্র গোছের ছেলে। তাকে মাসিক ৮ হাজার টাকা বেতনে ডিশ লাইন রক্ষণা-বেক্ষণের কাজ করত। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার আগেই সে কর্মস্থল থেকে চলে যায়। জরুরি প্রয়োজনে তাকে একাধিকবার কল দিয়ে এবং ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সে সাড়া দেয়নি। ’

নিহত সাব্বিরের পিতা মোস্তফা জানান, ‘ঘটনার সময় আমি বাজারে ছিলাম। ডিশ লাইন অফিসের কাজ সেরে সাব্বির বাসায় যায়। সন্ধ্যার পর বাসা থেকে খেয়ে বাড়ির বাইরে আসে। এরই মধ্যে একটা ছেলে আমাকে ফোন দিয়ে জানান সাব্বির জখম হয়েছে, তাকে হাসাপাতালে নেয়া হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে আমি ফুলতলা হাসপাতালে যাই। ডাক্তাররা জরুরি ভিত্তিতে খুলনায় নেয়ার পরামর্শ দিলে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানেই তার মৃত্যু হয়। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্ত্রীর দাবি জানাই।’

ফুলতলা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মোস্তফা কামাল বলেন, ‘বন্ধুদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে সাব্বির খুন হয়েছে। থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সন্দেহভাজন আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

 

খুলনা গেজেট/এনএম




খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন