পাইকগাছায় প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে ৫ তলা বিশিষ্ট উপজেলা কমপ্লেক্স ভবন। ভবনের অবকাঠামোগত সকল নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলেও বিদ্যুৎ সংযোগের কারণে নবনির্মিত কমপ্লেক্স ভবনটি হস্তান্তর করতে পারছে না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। বিদ্যুৎ সংযোগের নির্ধারিত টাকা জমা দেওয়ার পর ও সংযোগ মিলছে না বলে অভিযোগ করেছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর।
এদিকে সরকারি অফিস ভবনের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিমালিকানাধীন ভাড়া বাড়িতে চলছে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম। এ কারণে জনসেবা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ভোগান্তিতে রয়েছেন সরকারি কর্মকর্তা ও সেবাগ্রহীতারা।
এলাকার সাধারণ মানুষ যেন এক ভবনেই সরকারি সব সেবা পান এ লক্ষ্যেই সরকার বহুতল ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। সরকারের এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে উপজেলা কমপ্লেক্স সম্প্রসারণ প্রকল্প (২য় পর্যায়)’র আওতায় অত্র উপজেলায় নির্মাণ করা হয়েছে বহুতল বিশিষ্ট উপজেলা কমপ্লেক্স ভবন। বর্তমান ব্যবহৃত ভবনের পাশেই ৫ হাজার ১শ’ স্কয়ার ফুট জায়গার উপর নির্মাণ করা হয়েছে ৫ তলা বিশিষ্ট উপজেলা কমপ্লেক্স ভবন। নবনির্মিত ভবনটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ কোটি ৮৯ লাখ ২৮ হাজার ৮৩২ টাকা। নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল দপ্তর (এলজিইডি)। নির্মাণ কাজ করেছে খুলনার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জিয়াউল ট্রেডার্স। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০১৯ সালের ৩ ডিসেম্বর নির্মাণ কাজ শুরু করলে ও এখনো নবনির্মিত ভবনটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করতে পারেনি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি, অবকাঠামোগতসহ সব ফিটিংস-এর কাজ কয়েকমাস আগে সম্পন্ন হলেও শুধু বিদ্যুৎ সংযোগের কারণে ভবনটি হস্তান্তর করা যাচ্ছে না।
ভবনে মোট ৩৪টি দাপ্তরিক কক্ষ এবং দুটি মিটিং রুম রয়েছে। গাড়ি পার্কিং সহ অন্যান্য কাজের সুবিধার্থে ৫ তলা ভবনের প্রথম ফ্লোরটি ফাঁকা রাখা হয়েছে। দ্বিতীয় তলায় রয়েছে ৯টি দাপ্তরিক এবং একটি মিটিং রুম। তৃতীয় তলায় রয়েছে ৭টি দাপ্তরিক রুম। চতুর্থ তলায় ৮টি দাপ্তরিক এবং একটি মিটিং রুম। পঞ্চম তলায় রয়েছে ১০টি দাপ্তরিক রুম।
১০টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ উপজেলায় ৪ লাখেরও বেশি মানুষের বসবাস। এলাকার মানুষের জন্য সরকারি সেবা প্রদান করে থাকে সরকারি বিভিন্ন দপ্তর। দপ্তর গুলো একই ভবনে না থাকায় প্রতিদিন শত শত মানুষ সরকারি সেবা নিতে বিভিন্ন ধরনের ভোগান্তিতে পড়েন। শুধু জনসেবা নয়, উপজেলা পরিষদ এলাকার মধ্যে সরকারি অফিস ভবন না থাকায় দাপ্তরিক কার্যক্রম ও ব্যাহত হচ্ছে।
ব্যক্তিমালিকানাধীন ভাড়া বাড়িতে চলছে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়, যুব উন্নয়ন দপ্তর ও পরিসংখ্যান অফিসসহ অনেক গুলো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দাপ্তরিক কাজ। নতুন কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণের পর সরকারি সব সেবা একখানেই পাবে এমন প্রত্যাশা ছিল এলাকার মানুষের।
মানবাধিকার উন্নয়ন কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক এ্যড. এফ এম এ রাজ্জাক বলেন, “কোনো বাড়িতে কি অফিস রয়েছে এটা প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ জানে না, এজন্য অফিস খুঁজে পেতে মানুষের অনেক ভোগান্তি হয়। এক জায়গায় সকল দপ্তর থাকলে এমন ভোগান্তি হতো না। জনসাধারণের ন্যায় কর্মকর্তাদের ও সরকারি কাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অনেক কর্মকর্তা।”
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রেশমা আক্তার বলেন, “এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে মহিলা বিষয়ক দপ্তরের অফিস রয়েছে। অফিস থেকে উপজেলার মিটিং সহ অন্যান্য কাজে ঘনঘন যাতায়াত করতে হয়। এতে অনেক কাজ ব্যাহত হয়। এছাড়া এলাকার নারীরা সেবা নিতে এসে অফিস চিনতে না পেরে অনেক সময় ফিরে যায়।”
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম বলেন, “ভবনের সব ধরনের কাজ শেষ করা হয়েছে। ৬ মাসের ও অধিক সময় বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য অপেক্ষা করছি। অবকাঠামো গত এবং সব ধরনের ফিটিংস এর কাজ অনেক আগেই শেষ হয়েছে এবং বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়ার জন্য আবেদনের সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সজল বিশ্বাস।
উপজেলা প্রকৌশলী শাফিন শোয়েব বলেন বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য পল্লি বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে বারবার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। সংযোগ পেলেই নবনির্মিত কমপ্লেক্স ভবনটি হস্তান্তর করা হবে বলে তিনি জানান।
এ ব্যাপারে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম অঞ্জন কুমার সরকার জানান, সরকারি নিয়মনুযায়ী টোটাল লোডের ২০% সোলার বসাতে হয়। ইতিমধ্যে উক্ত সোলার স্থাপনের জন্য কিছুদিন সময় চেয়ে উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার একটি চিঠি আমার দপ্তরে পাঠিয়েছেন। তিনি সোলার স্থাপনের সকল প্রক্রিয়া শেষ করে আমার দপ্তরে রিপোর্ট পাঠালেই বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী বলেন, “নবনির্মিত উপজেলা কমপ্লেক্স ভবনটি হস্তান্তর হলে উপজেলা পরিষদের আওতাধীন সরকারি সকল দপ্তর একই ছাদের নীচে থাকবে। এলাকার মানুষ এক ভবনেই সহজেই সরকারি সব সেবা পাবে। পাশাপাশি সরকারি সকল অফিসের মধ্যে সংযোগ ও সমন্বয় স্থাপন হবে এতে সেবা এবং উন্নয়ন কাজের গতি বাড়বে।
খুলনা গেজেট/এনএম

