শনিবার । ১১ই এপ্রিল, ২০২৬ । ২৮শে চৈত্র, ১৪৩২

১৫ মাসে তত্ত্বাবধায়কের হাজিরা ৬০ দিন, অফিস না করেও বেতন উত্তোলন

একরামুল হোসেন লিপু

নগরীর খান জাহানআলী থানাধীন মিরেরডাঙ্গায় অবস্থিত খুলনা বিভাগীয় বক্ষব্যাধি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মুহাম্মদ ইমরান হোসেনের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়ে ছুটি কাটানো, নিয়মিত অফিস না করে বেতন ভাতা উত্তোলন, যোগদানের পর বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে হাজিরা না দেওয়া, বাইরে অবস্থানকালীন হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ কোন সিদ্ধান্ত প্রদানে অনীহা সহ নানাবিধ অভিযোগ উঠেছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৮ জানুয়ারি যোগদানের পর এ পর্যন্ত ১৫ মাসে মাত্র ৬০ দিন অফিস করেছেন তত্ত্বাবধায়ক ডা. মুহাম্মদ ইমরান হোসেন। যোগদানের পর থেকে সপ্তাহে মাত্র দু’দিন অফিস করতেন। এরপর মাসে সর্বোচ্চ তিনদিন অফিস করতেন। কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ছুটি না নিয়ে এভাবে চলতে থাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা তার কর্ম জীবন। অনিয়মিত অফিস না করার বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে সংবাদ প্রকাশের পর। ১৭ মার্চ থেকে ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার পূর্বে ১৩ এবং ১৪ মার্চ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ছুটির অনুমোদন না নিয়ে হাসপাতালের প্রধান হিসাব রক্ষকের কাছে ছুটির দরখাস্ত জমা দিয়ে অফিস ত্যাগ করেন। ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর থেকে তার বিরুদ্ধে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। ঈদের ছুটির পর মাত্র পাঁচ দিন অফিস করার পর তিনি আবারও এক সপ্তাহের ছুটি নেন। বর্তমানে তিনি ছুটিতে রয়েছেন।

তত্ত্বাবধায়কের ধারাবাহিক অনুপস্থিতির কারণে হাসপাতালের প্রশাসনিক এবং স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় মারাত্মক বিঘ্নের সৃষ্টি হচ্ছে। প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় প্রধান হিসাব রক্ষককে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্তের ব্যাপারে মোবাইলে ফোন দেওয়া হলেও গুরুত্ব দেন না এবং সিদ্ধান্ত প্রদানে অনীহা দেখানোরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে হাসপাতালের সার্বিক নিরাপত্তা এবং মালামাল সংরক্ষণে শিথিলতা ও অনীহার অভিযোগ রয়েছে। হাসপাতালের অভ্যন্তরে প্রতিনিয়ত চুরি হলেও তা বন্ধে কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ না করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

জানা গেছে, ঈদের ছুটিতে হাসপাতালের সাব স্টেশন থেকে গুরুত্বপূর্ণ এক্সপেয়ার মালামাল চুরি হয়। সংশ্লিষ্ট থানা থেকে মামলা করতে বলা হলেও তিনি অনাগ্রহ দেখান। এছাড়া রমজানের পূর্বে পরিত্যক্ত আবাসিক ভবন ভেঙে রড চুরি হলেও কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। এ ঘটনার ছয় মাস পূর্বে হাসপাতালে একটি চুরির ঘটনায় থানায় জিডি করেন।

অভিযোগ সম্পর্কে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মুহান্মদ ইমরান হোসেন বলেন, ‘আমার একটা সামাজিক সমস্যা হয়েছে, এটা নিয়ে খুবই প্রেশানিতে আছি। একই সাথে আমার বাবার বয়স ১০০ বছর, শেরপুরে গ্রামে একা থাকেন। ইদানীং উনার শরীরটা ভালো যাচ্ছে না। এসব নিয়ে আমি একটু প্রবলেমে পড়েছি। হুইপ মহোদয়ের কাছে আজকে একটি চিঠি দিয়েছি। হাসপাতালটিকে জেনারেল হাসপাতালে উন্নীত এবং হাসপাতালের সার্ভিস কীভাবে ইমপ্রুভ করা যায়? আমাদের হাসপাতালটি ১০০ বেডের, কিন্তু সম্পূর্ণ অব্যবহৃত। ভাঙা চোরা যাই আছে, কিন্তু রোগী নেই। টিবি রোগী এখনতো গ্রামে গ্রামে, বাড়িতে বাড়িতে চিকিৎসা হয়। চিকিৎসার পলিসিও চেঞ্জ হয়ে গেছে।’

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন