বুধবার । ৮ই এপ্রিল, ২০২৬ । ২৫শে চৈত্র, ১৪৩২
জ্বালানি পেতে ডিসির শরণাপন্ন বিএডিসি

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে খুলনার খননকৃত সাত খালের ওপর

নিজস্ব প্রতিবেদক

মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ৩৯ দিনের যুদ্ধে ইরানের হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বল্প পরিমাণ জ্বালানি তেল আসায় এর প্রভাব পড়েছে খুলনার খননকৃত ৭ খালের ওপর। জ্বালানি সংকটে খাল খননের জন্য ১৪টি স্কেভেটরের চাকা সচল নেই সপ্তাহখানেক। সরকার মূল্য না বাড়ালেও উপজেলা পর্যায়ে ডিজেলের প্রতি ব্যারেলে মূল্য বেড়েছে ৭ হাজার করে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে নেওয়া এ প্রকল্পের দায়ভার পড়েছে বর্তমান সরকারের উপর। বর্ষার আগে খাল খননের জন্য প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা বিএডিসি (সেচ) খুলনা জেলা প্রশাসকের শরণাপন্ন হয়েছে।

উপকূলবর্তী এলাকায় শুস্ক মৌসুমে খালে পানি সংরক্ষণের জন্য সদ্য সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার জেলায় ৭টি খাল খননের উদ্যোগ নেয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শুরু হলে হরমুজ প্রণালি দিলে জ্বালানির জাহাজ আসা কমে যায়। এর প্রভাব পড়ে সর্বত্র। খাল খননের জন্য যান্ত্রিক মেশিন স্কেভেটরের চাকা থেমে যায়।

বিএডিসির সূত্রের দাবি, প্রতিটি স্কেভেটরে দৈনিক ১৫ ঘণ্টা খাল খননের জন্য ২১০ লিটার ডিজেলের প্রয়োজন হয়। জেলা সদর, বটিয়াঘাটা, ডুমুরিয়া ও দাকোপ উপজেলা পর্যায়ে ডিজেলের সংকট চলছে মধ্য মার্চ থেকে। চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল না পাওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো খননের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি। ঈদের পরে স্বল্প পরিমাণে তেল পাওয়ায় প্রতিটি স্কেভেটর দিয়ে ১-২ ঘণ্টা খনন করতে পারে। এ মাসের শুরু থেকেই এ সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করায় খাল খনন বন্ধ রয়েছে।

বিএডিসি সূত্রের দাবি ২০০ লিটার ধারণ ক্ষমতার প্রতি ব্যারেল ডিজেলের মূল্য ছিল ২০ হাজার টাকা। মধ্য মার্চ থেকে উপজেলা পর্যায়ে প্রতি ব্যারেলের মূল্য দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার টাকা।

বিএডিসি (সেচ) খুলনার ইউনিটের উপসহকারী প্রকৌশলী সোহরাব হোসেন খাল খনন সচল রাখার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ডিজেল ডিপো থেকে সরবরাহ করার জন্য জেলা প্রশাসককে সুপারিশ করার আবেদন দেওয়া হয়েছে বলে জানান।

আবেদনে উল্লেখ করেন প্রতিটি স্কেভেটর চালানোর জন্য প্রতিদিন কম করে ডিপো থেকে ১৬৮ লিটার ডিজেল সরবরাহ হলে বর্ষার আগে খনন প্রক্রিয়া শেষ হবে।

সরকারি প্রকৌশলী মোঃ জাহিদ হাসান বলেন, ‘দশদিন আগে থেকে এ সংকট সৃষ্টি হওয়ায় জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘জেলা প্রশাসন সুপারিশ করলে ডিপোগুলো দাবীকৃত জ্বালানি সরবরাহ করতে পারবে।’ এ বছর ৪০ কিলোমিটার খাল খনন করা হবে বলে এ সূত্র দাবি করেছেন। অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে গত ৫ ফেব্রুয়ারি খাল খনন উদ্বোধন হয়।

বিএডিসির সূত্রমতে খননকৃত খালগুলো হচ্ছে বটিয়াঘাটার মাগুরখালি, কলাতলা, কাটাখালী, গেগেরখাল, পাইকগাছা উপজেলার নাবার খাল, ডুমুরিয়া উপজেলার কালীঘাট ও দাকোপ উপজেলার পানখালী।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন