বৃহস্পতিবার । ৯ই এপ্রিল, ২০২৬ । ২৬শে চৈত্র, ১৪৩২
একজন মানবিক চিকিৎসক ডাঃ রিয়াজ

মেধা ও পরিশ্রম দিয়ে বাঁচিয়েছিলেন ডুমুরিয়ার জাহাঙ্গীরের জীবন

নিজস্ব প্রতি‌বেদক

২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাস। খুলনার ডুমুরিয়ার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর সড়ক দুর্ঘটনায় মস্তিষ্ক রক্তক্ষরণে মৃত্যুপথযাত্রী। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে নিয়ে আসলে সেখান থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন, এখনই অপারেশন করতে হবে। কিন্তু খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তখনও নিউরোসার্জারি বিভাগ নেই। তার পরিবারের পক্ষে ঢাকায় নিয়ে অপারেশন তো দুরের কথা ঢাকায় নেয়ার মতো আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করার সামর্থ্যও ছিলো না। সদ্য পদায়ন হওয়া তরুণ নিউরোসার্জন এর নজরে আসায় তখন তিনি নিজের পকেটের টাকা থেকে অপারেশনের যন্ত্রপাতি ভাড়া করে এবং কিছু যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করে অপারেশন করেন। নিশ্চিত মৃত্যুও হাত থেকে বেঁচে যায়। চিকিৎসকের এমন মানবিকার গল্প সেদিন চিকিৎসক সমাজে ছড়িয়ে পড়েছিলো। তখন হাসপাতালে নিউরো সার্জারি বিভাগ খোলার জন্য জোর তারণা শুরু হয়। এর কয়েকদিনের মধ্যে শুরু হওয়া করোনায়ও বিশেষজ্ঞ ডাক্তার হয়েও তিনি করোনায় বিশেষভাবে দায়িত্ব পালন করেন।

শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ থেকে ২০০৮ সালে এমবিবিএস এবং ২০১৭ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে নিউরো সার্জারিতে এমএস ডিগ্রি অর্জনকারী তিনি, ৩৩তম বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা। তিনি ২০২২ সালে জুনিয়র কনসালটেন্ট এবং ২০২৫ সালে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পান। এক কন্যা সন্তানের জনক এই মানবিক ডাক্তার তার কাজ দিয়ে প্রমাণ করেছেন, ইচ্ছা এবং একাগ্রতা থাকলে যে-কোনো প্রতিকূলতার মধ্যেও মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব। তার স্ত্রী লিমা ইয়াসমীন কেয়াও একজন চিকিৎসক।

জাহাঙ্গীর বলেন, ‘এ চিকিৎসক আমার জন্য সৃষ্টিকর্তার পাঠানো দূত। তার কারণেই আমি আজ বেঁচে আছি। ওই দিনের কথা আমার কিছু মনে নেই। আমার পরিবারের থেকে শুনেছি। কিন্তু জ্ঞান ফেরার পর ডাক্তারের চেম্বারে ও হাসপাতালে অনেকবার বিনা ফিসে চিকিৎসাপত্র ও পরামর্শ দেন।

ডাঃ রিয়াজ আহমেদ হাওলাদার বলেন, আমাকে ২০২০ সালে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পদায়ন করা হয়েছিল। তখন এখানে নিউরোসার্জারি বিভাগ ছিলো না। আমরা সার্জারি বিভাগে স্যারদের সাথে রাউন্ড দিতাম এবং কলে রোগী দিতাম। সড়ক দুর্ঘটনাসহ যে কোনো কারণে মস্তিস্কে রক্তক্ষরণ হলে ঢাকায় রেফার করা হতো। আমি উদ্যম নিয়ে বিভিন্ন সোর্স থেকে কিছু যন্ত্রপাতি নিয়ে ২০২০ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি একটি অপারেশন করেছিলাম। ওইটাই ছিলো খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রথম নিউরো সার্জারি বিভাগের অপারেশন। এরপর থেকে ডাঃ কমলেশ দাদার পোস্টিং হলো, তখন আমরা দুইজন মিলে এমন বেশ কিছু অপারেশন করেছি। এখন বেশিরভাগ জটিল অপারেশনের জন্য আর ঢাকায় পাঠাতে হয় না।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন