খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি) ক্যাম্পাস এখন শোক আর ক্ষোভে স্তব্ধ। গত সোমবার (৩০ মার্চ) সন্ধ্যায় নগরীর জেলা পরিষদ ভবনের সামনে একটি দ্রুতগামী প্রাইভেটকারের ধাক্কায় প্রাণ হারান বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ডিসিপ্লিনের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মৌমিতা হালদার। এই ঘটনার চারদিন পর ঘাতক গাড়িটি পুলিশ জব্দ করলেও মূল চালক গ্রেপ্তার হয়নি এখনো।
মৌমিতাকে ধাক্কা দেওয়া প্রাইভেটকারটি (খুলনা মেট্রো গ-১১-০৮৩৭) — গাড়িটি নীল রঙের — ইতোমধ্যে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, গাড়িটির মালিক সাবেক সিটি মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা কাজী আমিনুল হকের ভাই কাজী হামিদুল হক। তিনি ইতোমধ্যে বিষয়টি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিকে নিশ্চিত করেছেন।
নিশ্চিত করে তিনি জানান, “খুলনা মেট্রো গ-১১-০৮৩৭ নম্বরের গাড়িটি আমার, তবে তদন্তাধীন অবস্থায় আমি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি নই।”
উল্লেখ্য, কাজী আমিনুল হক ১৯৮৮ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
এর আগে ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও পুলিশ দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় ডিসি অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন শত শত শিক্ষার্থী। সে সময়ে তারা সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব করা ও প্রশাসনের অবহেলার বিষয়ে অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদানসহ প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেয় ঘাতক গাড়ি ও ড্রাইভারকে শনাক্তের জন্য।
সে সময়ে অবরোধস্থলে উপস্থিত হয়ে খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বিতান কুমার মণ্ডল জানান, “ইতোমধ্যে সিসিটিভি ফুটেজ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুরো শহরকে সিসিটিভির আওতায় আনার বিষয়ে আগামী তিন দিনের মধ্যে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
গতকালের ডিসি অফিস ঘেরাওয়ের ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই আজ দুপুর একটার দিকে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান জানিয়েছেন, “সন্দেহভাজন গাড়িটি ইতোমধ্যে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে এখনো গাড়ির চালককে আটক করা সম্ভব হয়নি। চালককে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

