জ্বালানি তেলে সংকটের অজুহাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই রূপসা ঘাটে ট্রলার ভাড়া জনপ্রতি এক টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এতে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে যাত্রীদের মাঝে।
ঘাট পারাপারের যাত্রীরা জানায়, অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রত্যাশায় কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। যদিও পেট্রোল পাম্পগুলোতে অকটেন ও পেট্রোল সংগ্রহে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোটরসাইকেল ও অনান্য গাড়ি দীর্ঘ লাইন দিতে হলেও ডিজেল সংগ্রহে খুব একটা বেগ পেতে হচ্ছে না। এমনকি জ্বালানি তেলের দামও বাড়েনি। অথচ কৃত্রিম সংকটের অজুহাতে রূপসাঘাটের মাঝিরা গত পরশু মঙ্গলবার থেকে পূর্বের জনপ্রতি ৪ টাকার ভাড়া ৫ টাকা করে নিচ্ছে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে একাধিক যাত্রী বলেন, ‘রূপসা ঘাটের অব্যবস্থাপনা কবে বন্ধ হবে এ নিয়ে আমরা রীতিমত হতাশ। একদিকে ঘাটে টোলের নামে বেপরোয়া চাঁদাবাজী অপরদিকে হঠাৎ করে ট্রলারে যাত্রী প্রতি ভাড়া বৃদ্ধি করে দুর্ভোগ বাড়ানো হয়েছে।’
তারা আরো বলেন, ‘নির্বাচনের আগে প্রার্থীরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ঘাট টোলমুক্তসহ সকল প্রকার অব্যবস্থাপনা নির্মূল করা হবে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তার কোনো লেশমাত্র দেখছি না।’
ভাড়া বৃদ্ধির বিষয় মাঝি সংঘের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খোকন শেখ বলেন, ‘বিগত দিনে আমরা যে-ভাবে তেল সংগ্রহ করতাম বর্তমানে তেল সংগ্রহ করতে খুব সমস্যা হচ্ছে। এ অজুহাত দেখিয়ে কিছুসংখ্যক দুষ্ট প্রকৃতির মাঝি মাঝেমধ্যে বাড়তি ভাড়া নিচ্ছে এরকম অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। আমরা বিষয়টি দেখছি। এ বিষয়ে গতকাল সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হারেজ ইউএনও স্যারের কাছে গিয়েছিলেন। তিনি বলেছেন (ইউএনও) খোলা বাজারে তেল না পাওয়া গেলে পেট্রোল পাম্পে যে তেল সংগ্রহ করতে হবে। এ বিষয়ে আমি আপনাদের যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সহযোগিতা করব।’
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা রিকতা বলেন, মাঝিরা আমার কাছে এসেছিল তাদের নাকি তেল সংগ্রহ করতে সমস্যা হচ্ছে। আমি তাদের বলেছি সরকারি নির্দেশনা মেনে যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদেরকে সহযোগিতা করব। তবে ভাড়া বৃদ্ধির বিষয় কোনো কথা আমাকে কেউ বলেননি। এ বিষয়ে আমি জানিনা।
খুলনা গেজেট/এনএম

